সন্তানের পাশে বসতে বিমানে অতিরিক্ত ফি বন্ধের উদ্যোগ বৃটিশ সরকারের

সন্তানের পাশে বসতে বিমানে অতিরিক্ত ফি বন্ধের উদ্যোগ বৃটিশ সরকারের

ফন্ট সাইজ:

বিমানে ১৪ বছরের কম বয়সী সন্তানের পাশে বসার জন্য অভিভাবকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি নেয়া বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। এ সংক্রান্ত নতুন ক্ষমতা পেতে সিভিল এভিয়েশন বিল সংসদে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
বিলটি সংসদে পাস হলে ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের পাশে বসার জন্য নেয়া অতিরিক্ত চার্জ এবং ফ্লাইট বুকিংয়ের ছোটখাটো ভুলের জন্য নেয়া ফি বাতিলের বিষয়ে পরামর্শ করবে দেশটির পরিবহন বিভাগ (ডিএফটি)।

দেশটির সরকারের দাবি, যুক্তরাজ্যের অধিকাংশ এয়ারলাইনস ইতোমধ্যে যাত্রীদের অতিরিক্ত খরচ থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা রেখেছে। তবে নতুন সংস্কারের মাধ্যমে দেশটিতে পরিচালিত সব এয়ারলাইনসের ক্ষেত্রে একই ধরনের নিয়ম নিশ্চিত করা হবে।
ডিএফটির হিসাবে, একটি ফিরতি ফ্লাইটে অভিভাবক ও সন্তান পাশাপাশি বসার জন্য বর্তমানে সর্বোচ্চ ১০৪ পাউন্ড পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। বুকিংয়ে ছোটখাটো ভুল সংশোধন বা প্রশাসনিক পরিবর্তনের জন্য সর্বোচ্চ ৪০ পাউন্ড পর্যন্ত নেয়া হতে পারে।
পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার বলেন, সন্তানের পাশে বসার জন্য কিংবা বুকিংয়ের সাধারণ ভুল সংশোধনের জন্য অভিভাবকদের অতিরিক্ত অর্থ দিতে হওয়া উচিত নয়।

তবে এয়ারলাইনসগুলোর বাণিজ্যিক সংগঠন এয়ারলাইনস ইউকে সরকারের ঘোষণায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির দাবি, ছোটখাটো নামের ভুল সংশোধন ইতোমধ্যে বিনা মূল্যে করা যায় এবং ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের আসন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের এয়ারলাইনসগুলো সিভিল এভিয়েশন অথরিটির (সিএএ) বর্তমান নির্দেশনা অনুসরণ করে।
রায়ানএয়ার ও ইজিজেটও অতিরিক্ত ফি নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রায়ানএয়ারের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ও’লিয়ারি সরকারের উদ্যোগের সমালোচনা করে বলেন, এটি বাস্তব কোনো পরিবর্তন নয়, বরং সরকারের প্রচারণা।

গত জুনে রায়ানএয়ার তাদের পারিবারিক আসন নীতিতে পরিবর্তন আনে। এরপর অল্পবয়সী সন্তানদের পাশে বসার জন্য অভিভাবকদের আলাদা আসন সংরক্ষণ ফি দিতে হচ্ছে না। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির আসন নীতি নিয়ে দেশটির কম্পিটিশন অ্যান্ড মার্কেটস অথরিটি (সিএমএ) তদন্ত করেছিল।

এদিকে, প্রস্তাবিত সিভিল এভিয়েশন বিলের আওতায় নিয়মিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যাত্রীদের তথ্য আদান-প্রদানের জন্য নতুন ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এয়ারলাইনসগুলো এক হাজারের বেশি গুরুতর বিশৃঙ্খল যাত্রীর ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। এর মধ্যে মাঝ আকাশে যাত্রীদের মারামারির কারণে একটি ফ্লাইট অন্যত্র অবতরণ করানোর ঘটনাও রয়েছে।

সিভিল এভিয়েশন বিলটি রাজকীয় অনুমোদন পাওয়ার পর এসব পরিবর্তন কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছরের গ্রীষ্মকালীন ছুটির মৌসুমের আগেই নতুন নিয়ম কার্যকর করার চেষ্টা করছে যুক্তরাজ্য সরকার।