দুবাই থেকে তেলআবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে ক্যাপ্টেনের ওপর ককপিটের ‘ক্র্যাশ অ্যাক্স’ বা কুঠার দিয়ে হামলা চালিয়েছিলেন সহকারী পাইলট হামাম আলহামামি। হামলার পর বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ারও চেষ্টা করেছিলেন তিনি। এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রসিকিউটররা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) আমিরাতের কর্মকর্তারা জানান, হামলার সময় ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে কুঠার দিয়ে আঘাত করেন আলহামামি। পরে তাকে ছুরিকাঘাতও করা হয়।
আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি বাণিজ্যিক বিমানে জরুরি ব্যবহারের জন্য ক্র্যাশ অ্যাক্স রাখা বাধ্যতামূলক। বর্তমানে এগুলো ককপিটে রাখা হয়। ২০০১ সালের ৯/১১ হামলার পর বিমানের মূল কেবিন থেকে ককপিটে এসব কুঠার সরিয়ে নেয়া হয়।
এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলহামামি এই একাই হামলা চালিয়েছিলেন, নাকি কোনো উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল তা জানতে তদন্ত চলছে।
১৭০ যাত্রী নিয়ে আকাশে ভয়াবহ বিপদ
গত বুধবারের ওই ঘটনায় বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পায় বিমানটি। ২৪ শিশুসহ ১৭০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে উড়ছিল বোয়িং ৭৩৭। প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকা অবস্থায় হঠাৎ বিমানটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে।
প্রতি মিনিটে প্রায় ২৩ হাজার ফুট গতিতে নিচে নামতে নামতে একপর্যায়ে বিমানটি প্রায় ১৫ হাজার ৬০০ ফুট উচ্চতায় নেমে আসে। এ সময় হামলাকারীকে থামাতে গিয়ে গুরুতর আহত হন ক্যাপ্টেন মাচ্ছার। রক্তাক্ত অবস্থাতেও তিনি ককপিটের দরজা খুলে দেন। এরপর কয়েকজন যাত্রী ও ক্রু ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করেন।
বিমানের ভেতরের এক ভিডিওতে দেখা যায়, রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন ক্যাপ্টেন মাচ্ছার। তাকে বলতে শোনা যায়, তার সহকারী পাইলট তাকে আঘাত করেছেন।
সে সময় একজন দন্ত চিকিৎসক ঘটনাস্থলেই আহত ক্যাপ্টেনকে জরুরি চিকিৎসা দেন। এর মধ্যে দুই রিলিফ পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে বিমানটি সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করে।
উগ্রপন্থী মতাদর্শ নিয়ে আগেই ছিল অভিযোগ
ওমানের নাগরিক আলহামামির অতীত নিয়েও উঠে এসেছে নানা তথ্য। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, উগ্রপন্থী মতাদর্শে ঝুঁকে পড়ার সন্দেহে তাকে ওমানে পাইলট হিসেবে উড্ডয়ন থেকে বিরত রাখা হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ওমান এয়ারে পাইলট প্রশিক্ষণ নেয়ার সময় তার কাছে উগ্রপন্থী মতাদর্শ সম্পর্কিত কিছু উপকরণ পাওয়া যায়। এরপর তাকে পাইলটের দায়িত্ব না দিয়ে প্রশাসনিক কাজে রাখা হয়েছিল।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওমান এয়ার ছাড়েন আলহামামি। একই বছরের জুনে যোগ দেন রয়্যাল এয়ার মারকোতে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেখান থেকেও চাকরি ছাড়েন তিনি।
এরপর ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন আলহামামি। ঘটনার আগে প্রায় আট মাস সেখানে কাজ করেন তিনি। এই সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত-ইসরাইল রুটে উড়োজাহাজ চালানোর সুযোগও পান।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরাইলে বিমানটি বিধ্বস্ত করার উদ্দেশ্যেই হামলা চালিয়েছিলেন আলহামামি। তবে হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য, তিনি একাই পরিকল্পনা করেছিলেন কিনা এবং কোনো উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল- এসব বিষয় এখনো তদন্তাধীন।
