মালয়েশিয়ার বিভিন্ন টমইয়াম রেস্তোরাঁয় কর্মরত এক লাখের বেশি থাই নাগরিকের বৈধ কাজের পারমিট নেই। থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এসবিপিএসি) তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় প্রায় ৫ হাজার টমইয়াম রেস্তোরাঁয় মোট দুই লাখ থাই নাগরিক কাজ করছেন। তাদের মধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি অর্থাৎ এক লাখেরও বেশি কর্মীর বৈধ ওয়ার্ক পারমিট নেই।
মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম উতুসান মালয়েশিয়া জানিয়েছে, এসবিপিএসির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব চোনথানিয়া স্যাংফুম এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বৈধ কাজের অনুমতিপত্র না থাকা এসব কর্মী মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনগত ও অভিবাসন-সংক্রান্ত অভিযানের মুখে পড়তে পারেন।
চোনথানিয়া স্যাংফুম আরও বলেছেন, ভবিষ্যতে মালয়েশিয়া সরকার প্রায় ৫ হাজার টমইয়াম রেস্তোরাঁয় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের নিয়ম আরও কঠোর করলে তা সংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও শ্রমিকদের জন্য বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া বর্তমানে শ্রমিক নিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে একটি নতুন সমঝোতা স্মারক তৈরির কাজ করছে।
নতুন সমঝোতা স্মারকে থাই কর্মীদের নিয়োগ ও কর্মসংস্থান, শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ, নিয়োগকর্তা, কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব এবং কর্মীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে বলে জানিয়েছে উতুসান মালয়েশিয়া।
চোনথানিয়া জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকের কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার মধ্যে একটি যৌথ কার্যকরী কমিটি গঠনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। এই কমিটি শ্রমিক নিয়োগ ও কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করবে এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে কাজ করবে।
এদিকে, মালয়েশিয়ার শ্রম বিভাগের (জেটিকে) সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টমইয়াম রাঁধুনি ও থাই নাগরিকদের জন্য বৈধ বিদেশি কর্মী নিয়োগের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। এ ধরনের কর্মী নিয়োগের জন্য নিয়োগকর্তাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন নিতে হয় এবং নির্ধারিত ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন করতে হয় বলে জানিয়েছে উতুসান মালয়েশিয়া।
