সেমিফাইনালে দুর্বল পাকিস্তানের কাছে হেরে ব্রোঞ্জ মেডেলের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। সেখানেও আজ দাঁড়াতে পারেনি লিটন-মোস্তাফিজরা। আজ নাগোয়ার নিশিন সিটির কোরোগি স্পোর্টস পার্কে শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানে হেরে ব্রোঞ্জও খোয়াল বাংলাদেশ।
ক্রিকেটারদের এই লজ্জার হারের মধ্য দিয়ে আইচি-নাগোয়ায় এবারের এশিয়ান গেমসে ব্যর্থতার ষোলো কলা পূর্ণ হলো বাংলাদেশের। ২২ ডিসিপ্লিনে ২৬০ জনের বহর নিয়ে জাপান সফরে বাংলাদেশের প্রাপ্তি কেবল একটি ব্রোঞ্জ। বাড়তি ওজনের কারণে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় ডিসকোয়ালিফাই হওয়ায় ব্রোঞ্জ মেডেল পেয়েছিলেন উশুর জিন্নাত আক্তার।
আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্রোঞ্জ মেডেলের ম্যাচে টসে জিতে আগে বোলিং করে বাংলাদেশ। সেখানে শুরুটা ভালো করেছিল বোলাররা। একপর্যায়ে ৯ ওভারে ৪ উইকেটে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল ৪৯ রান। এরপরই সেমিফাইনালের মতো মাঝের ওভারগুলোতে সর্বনাশ করেন মোস্তাফিজুর রহমান। দেশের এই সেরা বোলার শুরুই করেন এক ওভারে ২৫ রান দিয়ে। শেষ পর্যন্ত তিন ওভারে ৪৩ রান দেন মোস্তাফিজ। চার ওভারে ৪৬ রান দিয়েছেন রিশাদ হোসেন। এই দুই বোলারের খরুচে বোলিংয়ে শেষ ১১ ওভারে ১১৬ রান সংগ্রহ করেন লঙ্কান ব্যাটাররা। শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬৫।
ফ্ল্যাট ব্যাটিং উইকেটে ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রানের খাতাই খুলতে পারেননি তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান ও লিটন কুমার দাস।
দলীয় ৪ রানেই প্রথম তিন টপ অর্ডারকে হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি এনে দেওয়া তাওহীদ হৃদয় আজও আশা দেখিয়ে ৬ বলে ১১ রান করে ফিরেছেন। ফলে ১৮ রানে বাংলাদেশ হারায় চতুর্থ উইকেট।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে বাংলাদেশের শুরুটাই বাজেভাবে করেন ওপেনার সাইফ হাসান। নুয়ান থুসারার প্রথম ওভারের পাঁচ বলেই তিনি খাবি খেয়েছেন। কোনো রান করতে না পেরে ষষ্ঠ বলে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। দ্বিতীয় ওভারে স্ট্রাইকে গিয়ে তানজিদ হাসান তামিমও নড়বড়ে ব্যাটিং দেখান থারিন্দু রত্ননায়েকের বলে। দ্বিতীয় বলেই তিনি ক্যাচ দেন সাহান আরাচিগের হাতে।
আগের ম্যাচে মাত্র ২ রান করে ফেরা অধিনায়ক লিটন এবার আউট হয়েছেন গোল্ডেন ডাক নিয়ে। থুসারার প্রথম বলেই উড়ে যায় তাঁর স্টাম্প। দুটি বাউন্ডারিতে আগের ম্যাচের মতো আশা দেখালেন হৃদয়। কিন্তু ৬ বলে ১১ রান করে রত্ননায়েকের বলে তিনিও ক্যাচ তুলে দেন। ১৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যেন আরেকটি বিপর্যয়েরই ইঙ্গিত দেয়। শেষ পর্যন্ত ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিলে ১০২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।
এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে লঙ্কানদের শুরুটা ভালো না হলেও মোস্তাফিজুর রহমান ও রিশাদ হোসেনের খরুচে বোলিংয়ে শেষদিকে তারা ঘুরে দাঁড়ায়। রত্ননায়েকের ৩২ বলে ৬৫ রানের সুবাদে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রান তোলে শ্রীলঙ্কা।
মিতব্যয়ী বোলিংয়ে বাংলাদেশের পক্ষে শেখ মেহেদী ২টি এবং আলিস আল ইসলাম ১টি উইকেট নেন। ফিজ ৩ ওভারে ৪৩ রানে ২টি, সাইফ হাসান ২৮ রানে ২টি এবং রিশাদ হোসেন ৪ ওভারে ৪৬ রানে নেন ১টি উইকেট।
