সিলেটের অন্যতম ব্যস্ত রুট হচ্ছে সিলেট-তামাবিল সড়ক। যেটি পর্যটন এলাকা জাফলং পর্যন্ত বিস্তৃত। নগরের সীমান্ত রুট হওয়ায় পণ্য পরিবহনেরও অন্যতম রুট এটি। দুই লেনের রুট এখন যানবাহনের চাপ নিতে পারছে না। ফলে সরকার থেকে এ সড়ককে চার লেনে করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চলছে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ। তবে এ আসনের বর্তমান এমপি শ্রম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জনবহুল এলাকাগুলোর সড়কে ভোগান্তি কমাতে বাইপাস করার উদ্যোগ নিচ্ছেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন।
মন্ত্রী মানবজমিনকে জানিয়েছেন, বাজার এলাকায় যানজট কমছে না। এতে করে ভোগান্তি বাড়ে। এ বিষয়টিকে মাথায় রেখে সিলেট-তামাবিল সড়কের কয়েকটি বাজার এলাকায় বাইপাস সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তিনি জানান, বাজার এলাকায় সড়ক বড় করতে হলে ভূমি অধিগ্রহণ লাগবে। এতে সরকারের টাকা ব্যয় হচ্ছে। একই পরিমাণ অর্থ দিয়ে বাইপাস সড়ক করলে সড়কের ভোগান্তি কমবে। এদিকে, সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত রেলপথ নিতে চান সংসদ সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী। এরইমধ্যে তিনি রেল মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতনদের নিয়ে সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
চার লেন সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত করে রেলপথ নির্মাণেরও চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওই এলাকার জনপ্রতিনিধিরা। পাশাপাশি যেসব স্থানে ব্রিজ আছে একই ব্রিজে রেল ও সড়ক পথ নির্মাণ করা যায় কি না- সেটি নিয়ে সমীক্ষা চলছে। তারা জানিয়েছেন, বাইপাস সড়ক নির্মাণের অন্যতম কারণ হচ্ছে একই খরচে রেলপথ ও সড়ক পথ যুক্ত করা। সিলেট থেকে তামাবিলের দূরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার। দেশের পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত বাণিজ্যের অন্যতম গেটওয়ে হচ্ছে এই সড়ক। প্রতিদিন পণ্যবাহী শ’ শ’ ট্রাক এই রুটে চলাচল করে। একই সড়ক ব্যবহার করেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা জাফলংগামী পর্যটকরা। ফলে সিলেট থেকে তামাবিল পর্যন্ত সড়কে যানজট এখন প্রধান সমস্যা। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে বসে থাকতে হয় পর্যটকদের।
ফলে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এ সড়ক নির্মাণের দাবি এলাকার মানুষের- এ কথা জানিয়েছেন দরবস্ত ইউপি চেয়ারম্যান বাহারুল ইসলাম বাহার। তিনি বলেন, মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী অনেক বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। তার উন্নয়ন বাস্তবায়ন হলে পূর্ব সিলেটের চেহারা পাল্টে যাবে। এদিকে গেল কয়েক মাস ধরে সিলেট-তামাবিল সড়কে যানজট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত তীব্র যানজটের কারণে সড়কে যাতায়াতকারী পর্যটকরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ অবস্থায় সরব হয়েছে জৈন্তাপুর প্রশাসন। ৩০শে সেপ্টেম্বর জৈন্তাপুর উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা হয়। এ সভায় যানজট নিরসনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়।
সিদ্ধান্ত মোতাবেক বৃহস্পতিবার দিনভর সিলেটের প্রবেশমুখ চিকনাগুল বাজারে অভিযান চালিয়ে ৬০টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায় উচ্ছেদ অভিযান সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সিলেট-তামাবিল-জাফলং সড়কের জৈন্তাপুর অংশকে যানজটমুক্ত রাখতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগের ফলে মহাসড়কের দুই পাশের দখলমুক্ত জায়গা দিয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল সহজ হবে।
চারিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলম চৌধুরী তোফায়েল মানবজমিনকে জানিয়েছেন, সরকারি ভূমি জনগণের চলাচলের জন্য ছেড়ে দিলে কোনো সমস্যা হবে না। সরকারি ভূমিতে দোকানপাট নির্মাণ, স্ট্যান্ডসহ নানা কাজে ব্যবহারের কারণেই যানজট বেড়েছে। উচ্ছেদ অভিযানের পর মুক্ত হওয়া ভূমিকে সংরক্ষণ করার আহ্বান জানান তিনি।
