চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড মডেল থানার প্রধান ফটকের ভেতরে গাড়ি রাখা নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে পুলিশ কনস্টেবল ও গাড়িচালক মো. শফিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি মো. ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে আটক করে থানা হাজতে রাখা হয়। এ ঘটনার চার ঘণ্টা পর আহত পুলিশ সদস্যের কাছে ক্ষমা চেয়ে ও মুচলেকা দিয়ে তিনি মুক্তি পান। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে সীতাকুণ্ড মডেল থানার প্রধান ফটকের ভেতরে ব্যক্তিগত গাড়ি রাখা নিয়ে কনস্টেবল শফিকের সঙ্গে ইসমাইল হোসেনের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে শফিক আহত হন।
পরে তাকে চিকিৎসার জন্য সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। ঘটনার পর ইসমাইল হোসেনকে আটক করে থানার হাজতে রাখা হয়। খবর পেয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিতে বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হন। এতে থানায় কিছু সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ডা. কমল কদর বলেন, গাড়ি রাখা নিয়ে পুলিশ সদস্যের সঙ্গে ইসমাইলের সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে ওসির সঙ্গে আলোচনা করে তাকে ছাড়িয়ে নেয়া হয়েছে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, থানার গেটে গাড়ি রাখা নিয়ে কনস্টেবল শফিকের সঙ্গে ইসমাইল হোসেনের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ইসমাইল তাকে ধাক্কা দেন। এতে শফিকের আঙ্গুুল কেটে রক্ত বের হয় এবং তিনি আহত হন। পরে ইসমাইলকে আটক করে হাজতে রাখা হয়। থানা সূত্রে জানা গেছে, ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে আগের দু’টি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
পরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সিরাজুল ইসলাম ও সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীরের সঙ্গে উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ডা. কমল কদর, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শাহাবুদ্দিন রাজু ও উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহুর আলম জহুর থানায় উপস্থিত হয়ে ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন। এ সময় যুবদল নেতা ইসমাইল হোসেন আহত কনস্টেবল শফিককে জড়িয়ে ধরে তার কাছে ক্ষমা চান। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাত দেড়টার দিকে মুচলেকা নিয়ে ইসমাইল হোসেনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
