বিমানবন্দরে নারীর অধিকার লঙ্ঘন ও দেশের ভাবমূর্তির সংকটের নেপথ্যে কারা?

বিমানবন্দরে নারীর অধিকার লঙ্ঘন ও দেশের ভাবমূর্তির সংকটের নেপথ্যে কারা?

ফন্ট সাইজ:

রাষ্ট্রের প্রবেশ ও বহির্গমনপথ হলো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কোনো দেশের ভাবমূর্তি ফুটে ওঠার আয়নাস্বরূপ। কারণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর একটি দেশের আধুনিকতা, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, নাগরিক অধিকারের মানদণ্ড এবং প্রাতিষ্ঠানিক পেশাদারিত্বের প্রত্যক্ষ প্রতিফলক। অথচ দুর্ভাগ্যজনকভাবে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পারাপারের অভিজ্ঞতা বহু ক্ষেত্রে প্রবাসী, নাগরিক ও বিদেশি যাত্রীদের জন্য চরম তিক্ততার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি তিন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজপড়ুয়া প্রাপ্তবয়স্ক নারী শিক্ষার্থীকে নেপালযাত্রায় বাধা প্রদান এবং ইমিগ্রেশন পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁদের সঙ্গে যে অবমাননাকর আচরণ ও মানসিক হয়রানির ঘটনা ঘটেছে, তা আমাদের জাতীয় চেতনার মূলে এক তীব্র আঘাত হেনেছে। এ ঘটনা কেবল তিন তরুণীর নাগরিক অধিকার হরণের বিষয় নয়, বরং এর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে আমাদের সংবিধান, নারীর ক্ষমতায়ন, ইমিগ্রেশন প্রশাসনের কাঠামোগত দুর্বলতা এবং সর্বোপরি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির সংকট।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত ৮ আগস্ট। সম্পূর্ণ বৈধ পাসপোর্ট, এন্ট্রি ভিসা এবং ফিরতি বিমান টিকিট থাকা সত্ত্বেও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নেপালগামী বিজি ৩৭১ ফ্লাইটে চড়তে দেওয়া হয়নি দিনাজপুরের মোছা. রিফা তামান্না, ঠাকুরগাঁওয়ের সোহানী ইসলাম সমাপ্তি এবং নওগাঁর নাজনীনকে। তাঁরা যথাক্রমে ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং দ্য পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষার্থী। এয়ারলাইনসের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে পৌঁছালে ইমিগ্রেশন পুলিশের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ কোনো লিখিত আইনি ভিত্তি, প্রশাসনিক আদেশ বা সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই তাঁদের বিদেশযাত্রায় বাধা দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ ও মানসিক হয়রানির পাশাপাশি ওই ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা তরুণীদের অভিভাবকদের ফোন করে প্রশ্ন তোলেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক বা তরুণী মেয়েদের কেন একা বিদেশে যেতে দেওয়া হচ্ছে। এটি কোনো পেশাদার ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার প্রশ্ন হতে পারে না, বরং এটি নিছকই এক ব্যক্তিগত ও চরম পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ। একজন স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক নারী নাগরিকের বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও বৈবাহিক অবস্থা কিংবা পুরুষ অভিভাবকের অনুপস্থিতিকে অজুহাত বানিয়ে ভ্রমণ আটকে দেওয়া কেবল তাঁদের আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির কারণ হয়নি, বরং সরাসরি তাঁদের আত্মমর্যাদা ও নাগরিক অধিকারে আঘাত হেনেছে।

পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসানের মাধ্যমে এই তিন তরুণী বিচার ও প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করলে দেশের প্রচলিত আইন ও সংবিধানের মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রে এক নতুন আশা জাগে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ যে আদেশ ও রুল জারি করেছেন, তা বাংলাদেশের নারী অধিকার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে কাজ করবে। আদালত ইমিগ্রেশন পুলিশের বিভাগীয় প্রধান তথা অতিরিক্ত আইজিপিকে সাত দিনের মধ্যে লিখিত অভিযোগ নিষ্পত্তি করে কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ওই তিন তরুণীর বিদেশযাত্রায় যাতে কোনো আইনগত ভিত্তি ছাড়া বাধা দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। হাইকোর্ট সংবিধান ও আইনগত কর্তৃত্বের স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্ববহ রুলও জারি করেছেন। আদালত জানতে চেয়েছেন, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও আবেদনকারীদের বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার এ ধরনের পদক্ষেপ কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না। একই সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্ক নারী নাগরিকদের বৈধ বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে কেবল অবিবাহিত হওয়া, অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণ কিংবা লিঙ্গভিত্তিক বিবেচনার ভিত্তিতে বাধা না দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না এবং ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা যাত্রীদের কী ধরনের প্রশ্ন করতে পারবেন ও অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তিগত প্রশ্ন থেকে বিরত থাকার বিষয়ে স্পষ্ট নীতিমালা কেন প্রণয়ন করা হবে না—তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইনি ভিত্তি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান স্পষ্ট ভাষায় প্রতিটি নাগরিকের সমঅধিকার ও চলাফেরার স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়। সংবিধান আমাদের যে অধিকার প্রদান করেছে, বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে দায়িত্ব পালনকারী কোনো অদক্ষ বা দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকর্তা কোনো অবস্থাতেই তা খেয়ালখুশিমতো কেড়ে নিতে পারেন না। শাহজালাল বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় সংবিধানের একাধিক মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন সরাসরি সামনে এসেছে। সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে পরিষ্কারভাবে বলা আছে, সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং কেবল লিঙ্গ, বর্ণ বা ধর্মের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করতে পারবে না। এ ছাড়া ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয়, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সুরক্ষার যে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে এবং ৩৬ অনুচ্ছেদে চলাফেরা ও বাংলাদেশ ত্যাগের যে অধিকার স্বীকৃত হয়েছে, এই তিন তরুণীকে আটকে দেওয়ার ঘটনায় সেসব মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘনের প্রশ্ন উঠেছে। তবে সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত চলাফেরা ও দেশত্যাগের স্বাধীনতা আইন দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বিধিনিষেধের অধীন। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে কেবল ‘স্বামী সঙ্গে নেই’ বা ‘অবিবাহিত’—এমন অজুহাতে আটকে দেওয়ার জন্য অবশ্যই সুনির্দিষ্ট আইনগত ভিত্তি থাকতে হবে। আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া এ ধরনের আচরণ চরম অন্যায় ও অসাংবিধানিকতার প্রশ্ন উত্থাপন করে।

সবচেয়ে বড় কথা হল,গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বর্তমান সরকার নিজেকে একটি উদার, নারী-বান্ধব, প্রগতিশীল এবং জনকল্যাণমুখী শাসনব্যবস্থা হিসেবে বিশ্বদরবারে উপস্থাপন করে আসছে। একটি প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ও সর্বজনগ্রাহ্য মুসলিম-প্রধান রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ যে ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করে আসছে, সেখানে ইমিগ্রেশনের মতো একটি স্পর্শকাতর স্থানে এমন পশ্চাৎপদ আচরণ কোনোভাবেই মানানসই নয়। আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও সমসাময়িক বাস্তবতার আলোকে বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি আরও গভীর তাৎপর্য বহন করে। আমরা জানি, পতিত স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠী এবং তাদের আশ্রয়দাতা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কিছু মহল ক্রমাগত অপপ্রচার চালিয়ে প্রমাণ করতে সচেষ্ট রয়েছে যে বাংলাদেশে উগ্রবাদী ও চরমপন্থী মানসিকতার বিস্তার ঘটছে। সরকারের পক্ষ থেকে যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই বয়ানকে ভুল প্রমাণ করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে, ঠিক তখন বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের এমন অবৈজ্ঞানিক ও পুরুষতান্ত্রিক আচরণ সেই বিরোধী মহলের বয়ানকেই যেন পরোক্ষভাবে রসদ জোগাচ্ছে।

নির্মম বাস্তবতা হচ্ছে,এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি কেবল বাংলাদেশের সীমানার ভেতরে সীমাবদ্ধ নেই। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুবাদে এ ধরনের বার্তা মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, বিদেশি দূতাবাস, বৈশ্বিক বিনিয়োগকারী এবং উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে নেতিবাচক বার্তা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একজন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার অদক্ষতা ও ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির কারণে পুরো বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভাবমূর্তির সংকটে পড়তে হতে পারে। তাই ঘটনাটি দৃশ্যত তিন তরুণীর ভ্রমণের বিষয় হলেও এর আন্তর্জাতিক অভিঘাত ও রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তির মূল্য কোনোভাবেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।

এখানে আমি অত্যন্ত দ্বিধাহীন চিত্তে বলতে পারি যে,শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের অন্যান্য বহির্গমন পয়েন্টে কিছু ইমিগ্রেশন পুলিশের আচরণগত সমস্যা, পেশাদারিত্বের ঘাটতি এবং আইনি জ্ঞানের অভাব একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা হিসেবে আলোচিত। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের সময় নিজেদের ব্যক্তিগত ধর্মীয়, সামাজিক বা পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আন্তর্জাতিক মানের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় যেখানে প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির মাধ্যমে যাত্রীদের বৈধতা যাচাই করা হয়, সেখানে আমাদের বিমানবন্দরে একজন যাত্রীর বিদেশযাত্রা যদি কোনো কর্মকর্তার মেজাজ ও ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তবে তা আধুনিক রাষ্ট্রের প্রশাসনিক পেশাদারিত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই ধরনের অপেশাদার আচরণের ফলে দেশি-বিদেশি যাত্রীরা অসন্তুষ্ট হন এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

সুতরাং এই ধরনের ভাবমূর্তির সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকারকে কালক্ষেপণ না করে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। সর্বপ্রথম, রিট আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায় প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যেন ভবিষ্যতে অন্য কোনো কর্মকর্তা নিজের ইমিগ্রেশন কাউন্টারকে ব্যক্তিগত মর্জি প্রকাশের কেন্দ্রে পরিণত করার সাহস না পান। ক্ষতিগ্রস্ত তরুণীদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়টিও আইনগতভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি ইমিগ্রেশন পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য একটি স্পষ্ট কার্যপ্রণালি বা আচরণবিধি নির্ধারণ করা জরুরি, যেখানে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে, যাত্রীদের কী প্রশ্ন করা যাবে এবং কী ধরনের ব্যক্তিগত প্রশ্ন সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক। সেই সঙ্গে ইমিগ্রেশন কাউন্টারগুলোতে জনবান্ধব, সুশিক্ষিত, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও আধুনিক পেশাগত দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন পুলিশ সদস্যদের পদায়ন করতে হবে এবং সিসিটিভি নজরদারিসহ প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে।

পরিশেষে বলতে চাই, উচ্চ আদালতের এই সময়োপযোগী রুল ও নির্দেশনা কেবল রিটকারী তিন তরুণীর ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশাই জাগায়নি, বরং দেশের অগণিত স্বাধীন, উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও যোগ্য নারীর অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমাদের নারীরা যখন অর্থনীতি, শিক্ষা, ক্রীড়া এবং বিজ্ঞানের অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করছেন, তখন নিজ দেশের বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনের নামে তাঁদের বৈষম্য ও হয়রানির শিকার হওয়া দেশের অগ্রযাত্রার বিপরীত চিত্র তুলে ধরে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিমানবন্দরের প্রশাসনিক ও ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা, যাতে একটি বৈষম্যহীন, উদার ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ হিসেবে আমাদের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে কোনো পরাজিত শক্তি ও তাদের দোসররা যেন একটি উদার ও প্রগতিশীল ইসলামী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশকে নিয়ে অপপ্রচার চালাতে না পারে তা নিশ্চিত করা জরুরী। মহান আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের সহায় হোন।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।
ই-মেইল:[email protected]