আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসার নিয়মে বড় পরিবর্তন এনেছে অস্ট্রেলিয়া। স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়মে অস্ট্রেলিয়ার ভেতর থেকে (অনশোর) শিক্ষার্থী ভিসা (সাবক্লাস ৫০০) আবেদনের সুযোগ অনেক ক্ষেত্রে সীমিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও নির্ভরশীল সন্তানকে সঙ্গে নেওয়ার ক্ষেত্রেও আরোপ করা হয়েছে নতুন বিধিনিষেধ।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর অধিকাংশ সংশ্লিষ্ট টেম্পোরারি ভিসাধারীকে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করতে হবে। শুধু আবেদন করার সময়ই নয়, ভিসা মঞ্জুর হওয়ার সময়ও আবেদনকারীকে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থাকতে হবে।
বর্তমান স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের জন্যও পরিবর্তন
নতুন নিয়মের আওতায় অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে স্টুডেন্ট ভিসা-তে থাকা কেউ নতুন করে আরেকটি স্টুডেন্ট ভিসা নিতে চাইলে সাধারণভাবে তাকে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে আবেদন করতে হবে। তবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ছাড় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আগের কোর্স শেষ করতে সর্বোচ্চ ১২ মাস অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হওয়া, DFAT বা Defence-এর স্পনসরশিপ, পিএইচডি-তে পড়তে যাওয়া, স্কুল পর্যায়ের পড়াশোনা এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে উচ্চতর AQF স্তরের কোর্সে অগ্রসর হওয়া। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতেও কিছু ক্ষেত্রে ছাড় প্রযোজ্য হতে পারে।
স্বামী-সন্তান নেওয়ার নিয়মেও কড়াকড়ি
নতুন নিয়মে সাধারণ স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনকারীরা আগের মতো তাদের সঙ্গী বা নির্ভরশীল সন্তানকে আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবেন না, যদি না নির্দিষ্ট কোনো অব্যাহতি প্রযোজ্য হয়।
তবে পিএইচডি শিক্ষার্থী, DFAT বা প্রতিরক্ষা বিভাগের পৃষ্ঠপোষকতায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী, নির্দিষ্ট বিদেশি সরকারি বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী এবং কিছু প্যাসিফিক ও আসিয়ান দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো—স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার পর পরবর্তী সময়ে পরিবারের সদস্যকে পরবর্তী প্রবেশকারী হিসেবে যুক্ত করার সুযোগও বন্ধ করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এ ক্ষেত্রে কোনো অব্যাহতি নেই।
ভুলভাবে অনশোর আবেদন করলে কী হবে?
নতুন নিয়ম অনুযায়ী যাদের অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে আবেদন করার কথা, তারা দেশটির ভেতর থেকে আবেদন করলে সেই আবেদন অবৈধ হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নিজের বর্তমান ভিসার ধরন, কোর্স এবং কোনো অব্যাহতি প্রযোজ্য কি না—এসব যাচাই করতে আবেদনকারীদের সতর্ক করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র দপ্তর। তবে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে আবেদন করার পর সেটি প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থায় অন্য কোনো বৈধ ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করা সম্ভব হতে পারে। কিন্তু স্টুডেন্ট ভিসা মঞ্জুর হওয়ার সময় আবেদনকারীকে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থাকতে হবে। এ ধরনের আবেদনের সঙ্গে কোনো ব্রিজিং ভিসা দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র দপ্তর।
আগে আবেদন করা শিক্ষার্থীদের কী হবে?
২ অক্টোবর এর আগে জমা দেওয়া স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনগুলো নতুন নিয়মের আওতায় পড়বে না। এসব আবেদন যে সময়ে জমা দেওয়া হয়েছিল, সে সময়কার নিয়ম অনুযায়ীই মূল্যায়ন করা হবে।
আবেদন ফিও বেড়েছে
এর আগে গত ১ জুলাই অস্ট্রেলিয়া স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন ফি বাড়িয়েছে। সাধারণ স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনকারীদের জন্য ফি করা হয়েছে ২,৫০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার, যা আগে ছিল ২,০০০ ডলার। তবে নির্দিষ্ট আসিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল দেশের নাগরিক এবং কিছু ELICOS ও নন-অ্যাওয়ার্ড কোর্স-এর আবেদনকারীদের জন্য ফিতে ছাড় রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ
নতুন নিয়মের ফলে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা ভিজিটর বা অন্যান্য টেম্পোরারি ভিসাধারীদের জন্য দেশটির ভেতর থেকে স্টুডেন্ট ভিসা-তে যাওয়ার পরিকল্পনা আগের তুলনায় জটিল হয়েছে। এ কারণে কোর্সে ভর্তি, টিউশন ফি প্রদান, ভ্রমণ কিংবা ভিসার আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী নতুন নিয়মে অনশোর আবেদন করতে পারবেন কি না, তা যাচাই করা জরুরি।
স্বরাষ্ট্র দপ্তর-এর নির্দেশনার মূল বিষয় হলো—অস্ট্রেলিয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা বন্ধ করেনি। বরং কারা অস্ট্রেলিয়ার ভেতর থেকে আবেদন করতে পারবেন এবং কারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিতে পারবেন—সে বিষয়ে নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
