রক্তাক্ত হয়েও যাত্রীদের বাঁচাতে ককপিটের দরজা খুলেছি

মোদিকে ভয়াবহ সেই মুহূর্তের কথা জানালেন স্মিত

রক্তাক্ত হয়েও যাত্রীদের বাঁচাতে ককপিটের দরজা খুলেছি

ফন্ট সাইজ:

ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে সহকারী পাইলটের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পরও যাত্রীদের জীবন বাঁচাতে লড়াই চালিয়ে যান ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। ভয়াবহ সেই ঘটনার পর শুক্রবার (২ অক্টোবর) তার সঙ্গে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ক্যাপ্টেনের সাহস, ধৈর্য ও উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা করেছেন তিনি।
এদিন হাসপাতালের বিছানা থেকে মোদির সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন ক্যাপ্টেন স্মিত। তাকে মোদি বলেছেন, “আপনার সাহস, ধৈর্য ও উপস্থিত বুদ্ধি এত মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে।”
ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনি এত গুরুতর আহত ছিলেন, জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিলেন। তারপরও নিজের জীবনের কথা ভাবেননি, ভেবেছেন সব যাত্রীর জীবন নিয়ে। আপনি ১৪০ কোটি ভারতীয়র সম্মান বাড়িয়েছেন।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে গুজরাটের বাসিন্দা ক্যাপ্টেন স্মিত বলেন, আমার শরীরে অনেক ক্ষত ছিল। মেঝেতে পড়ে ছিলাম, তবে তখনও বুঝতে পারছিলাম বিমানটি দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আমি ১৭ বছর ধরে বিমান চালাচ্ছি। গত ১১ বছর ধরে ক্যাপ্টেন হিসেবে কাজ করছি। চোখ বন্ধ থাকলেও বিমানের কী হচ্ছে, তা আমি বুঝতে পারি।

“আহত অবস্থায় আমি মেঝেতে পড়ে ছিলাম। তবু নিজেকে বললাম, শেষবারের মতো চেষ্টা করতে হবে। ভেতর থেকে দরজাটি খোলার জন্য সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করি।
স্মিত জানান, সেদিন কোনোভাবে ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন তিনি। এরপর যাত্রী ও ক্রুরা ছুটে এসে তাকে সহায়তা করেছেন।

ক্যাপ্টেন স্মিত বলেন, অন্যরাও সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। অবশ্যই তখন আমি নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য লড়ছিলাম। কিন্তু একই সঙ্গে জানতাম, অন্যদের মরতে দিতে পারি না।

ভয় পেলে পাঠ করেন হনুমান চালিসা
ভয় ও ব্যথার মধ্যে নিজেকে সামলে রাখতে হনুমান চালিসা পাঠ করছিলেন বলেও জানান ক্যাপ্টেন স্মিত। তিনি বলেন, যখনই ব্যথা অনুভব করি, আমি হনুমান চালিসা পাঠ করি। ওই সময়ও শুধু হনুমান চালিসাই পাঠ করছিলাম। আমি জানি, ঈশ্বরই আমাকে বাঁচিয়েছেন।
সম্প্রতি মুম্বাই থেকে দুবাইয়ে চলে যাওয়া ক্যাপ্টেন স্মিত জানান, প্রতিদিন সকালে তিনি তার দুই বছরের ছেলেকে হনুমান চালিসা পাঠ করে শোনান। তার ভাষায়, আমরা দেশের বাইরে থাকলেও নিজেদের সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যাওয়া উচিত নয়।

গত বুধবার সকালে দুবাই থেকে তেল আবিব যাচ্ছিল ফ্লাইদুবাইয়ের বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানটি। উড্ডয়নের পর ওমানের নাগরিক সহকারী পাইলট ককপিটে ক্যাপ্টেন স্মিতকে ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান তিনি।
এ সময় ককপিট থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শুনে যাত্রী ও ক্রুরা ছুটে যান। এরপর তারা সহকারী পাইলটকে কাবু করেন। এর মধ্যেই মাত্র ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায় বিমানটি। পরে বিমানে থাকা ফ্লাইদুবাইয়ের আরও দুই পাইলট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে বিমানটি অবতরণ করান। বিমানে তখন ১৭০ জনের বেশি যাত্রী ও ক্রু ছিলেন।