ফ্লাইদুবাইয়ের ক্যাপ্টেনের ওপর কো-পাইলটের ‘আক্রমণ’

সৌদির প্রাথমিক তদন্ত

ফ্লাইদুবাইয়ের ক্যাপ্টেনের ওপর কো-পাইলটের ‘আক্রমণ’

ফন্ট সাইজ:

ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে মাঝ আকাশে ক্যাপ্টেনের ওপর হামলা করেছিলেন তারই সহকারী-পাইলট। এ ঘটনায় দুজনই আহত হয়েছেন। গত বুধবার দুবাই থেকে তেলআবিবগামী এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে। পরে সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি।
এনিয়ে বৃহস্পতিবার সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, প্রাথমিক তদন্তে ক্যাপ্টেনের ওপর সহকারী-পাইলটের হামলার বিষয়টি উঠে এসেছে। ঘটনায় দুজনই বিভিন্ন ধরনের আঘাত পেয়েছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি নিরাপত্তা দলের অংশগ্রহণে এই তদন্ত চালানো হয়েছে।
ঘটনার দিন ফ্লাইদুবাই জানায়, ককপিটে ‘সংঘর্ষ’ হয়েছিল। পরে ক্রুরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করে নিরাপদে তাবুকে অবতরণ করান।
বিমানটিতে তখন ১৭৪ যাত্রী ও ৮ ক্রু ছিলেন। স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে বিমানটি তাবুকের প্রিন্স সুলতান বিন আবদুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। যাত্রী ও ক্রুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা দেয়া হয়।
সেদিন বিকেলেই যাত্রীরা ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিকল্প বিমানে করে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন। অন্যদিকে আহত ক্যাপ্টেন ও সহ-পাইলটকে হাসপাতালে নেয়া হয়।
শারীরিক অবস্থার উন্নতি ও চিকিৎসকের ছাড়পত্র পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকালে তাদের আবুধাবিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সন্ত্রাসের যোগসূত্রও খতিয়ে দেখছে আমিরাত

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাটি তদন্ত করছে সৌদি আরবের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট সেফটি সেন্টার। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতেও পৃথক তদন্ত শুরু হয়েছে।
আমিরাতের প্রধান কৌঁসুলি ও অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি বৃহস্পতিবার তদন্তের নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএম জানিয়েছে, ককপিটে সংঘর্ষের কারণ ও উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখার পাশাপাশি এটি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা উদ্দেশ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিল কিনা, কিংবা আগে থেকে পরিকল্পনা করা হয়েছিল কিনা -সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

গুরুতর আহত হয়েও বিমান বাঁচানোর চেষ্টা

ফ্লাইটটির ক্যাপ্টেন ছিলেন ভারতীয় নাগরিক স্মিত মাচ্ছার। সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন তিনি। তবে আহত অবস্থাতেও তিনি বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বুধবার তাবুকের হাসপাতালে তাকে স্থিতিশীল অবস্থায় ভর্তি করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে আবুধাবিতে নেওয়া হয়েছে। মাচ্ছারের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্সে দেয়া পোস্টে তাকে ‘হিরো’ আখ্যা দিয়ে মোদি বলেন, গুরুতর আহত অবস্থাতেও অন্যদের জীবন রক্ষায় মাচ্ছার অসীম সাহস দেখিয়েছেন। তার বীরত্বের কারণে শত শত মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে এবং বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
এ ছাড়া ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ভারতীয় এই ক্যাপ্টেনের ব্যাপক প্রশংসা করেছেন।