প্রথম আলো
‘শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার কঠোর’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মিরপুরের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা যখন ঘটে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তখন জাতিসংঘে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের গৌরবের বার্তা দিয়ে দেশে ফিরেই তাঁকে মুখোমুখি হতে হয় দলের কিছু নেতা-কর্মীর সামাজিক অপরাধের বিব্রতকর ঘটনায়। রাড্ডার ঘটনা ছিল এর অন্যতম। শেষ পর্যন্ত শক্ত অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তারই ধারাবাহিকতায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার এবং কমিটিও বাতিল করা হয়।
গত বুধবার রাতেই জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল বেলা পৌনে দুইটার দিকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ফেরদৌসী আহমেদ পদত্যাগপত্র জমা দেন। গতকালই তাঁর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়।
রাড্ডার ঘটনা অবশ্য বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ও সমালোচনা চলে আসছে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি করতে পারেনি। বর্তমান বিএনপি সরকারের সাড়ে সাত মাসেও সেই অস্বস্তি কাটেনি। বরং রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দখল, চাঁদাবাজি, হামলা, ভাঙচুর ও রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে আসছে।
বিশেষ করে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে একের পর এক অপরাধের ঘটনা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং লুটপাট করা হয়। মা ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানটিতে হামলার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এ নিয়ে তুমুল সমালোচনার মধ্যেই ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর ইসিবি এলাকায় নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলা এবং সেখানে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর–লুটপাট করা হয়। একই দিন ভোরে রাজধানীর আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ে একটি বহুতল ভবন দখলের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। সেদিনই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানে কয়েক শ লোক একটি প্লটে ঢুকে ভাঙচুর করে টাকা ও যন্ত্রপাতি লুট করে। এসব ঘটনায় সরকারি দলের স্থানীয় কিছু নেতা-কর্মীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। ধারাবাহিকভাবে সংঘটিত ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠেছে—সরকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট কঠোর কি না।
এ বাস্তবতায় রাড্ডার ঘটনায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের আলাদা তাৎপর্য তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এটি শুধু একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া নয়; নিজ দলের নেতা-কর্মীদের জন্যও প্রধানমন্ত্রীর একটি স্পষ্ট বার্তা—অপরাধ বা অনিয়মে রাজনৈতিক পরিচয় ঢাল হবে না। রাড্ডার ঘটনায় দলীয় সংসদ সদস্যের পদত্যাগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বহিষ্কার ও কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা সেই বার্তাকেই সামনে এনেছে।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদের পদত্যাগের আগেই বুধবার রাতে বিএনপি ও যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তর এবং ছাত্রদলের মহানগর পশ্চিম কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই সঙ্গে বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ জনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতা-কর্মীর সম্পৃক্ততার আলোচনার মধ্যেই এসব সিদ্ধান্ত আসে। যদিও রাড্ডা–কাণ্ডে প্রভাবশালী স্থানীয় নেতাদের আরও কারও কারও সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা আছে।
এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রথম আলোকে বলেন, ‘যারা নানাভাবে নানা সুযোগে দলে ঢুকেছে, অথবা দল করেছে—অর্থাৎ, যারাই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে অনৈতিক ও গর্হিত কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবে, তাদের কেউই ছাড় পাবে না।’
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষে দেশে ফিরেই প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর খোঁজখবর নেন এবং তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন। বিশেষ করে রাড্ডার ঘটনায় কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নিয়ে গত মঙ্গল ও বুধবার একাধিক উপদেষ্টার সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গেও কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে মতামত দেওয়া দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে বলেন, তাঁরা রাড্ডার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, দেশে একটি সরকার বিদ্যমান থাকা অবস্থায় একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা লজ্জাজনক। তাঁর ভাষায়, এ ঘটনার পর মুখ দেখানোর জো নেই।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি সূত্র বলছে, একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়া, লুটপাট ও জমি দখলের অভিযোগে দলের নেতা-কর্মীদের নাম আসায় সরকার বিব্রত। ঘটনার সঙ্গে ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে আসার পর তাঁর ভূমিকা ও রাজনৈতিক দায়ও আলোচনায় আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বিষয়েও কঠোর সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দলীয় এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলে গত বুধবার জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে। কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে ছাড় দেওয়া হবে না।
সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, মাদক, জুয়াসহ যেকোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকবে, তাদের দলীয় পরিচয় যা–ই হোক, কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশেষ কোনো অভিযান পরিচালনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণত কোনো অভিযানে পুলিশ, এসআরবি, এসবি, ডিবি প্রয়োজন অনুযায়ী একে অপরের সহযোগিতা নেয়। আজকেই (বৃহস্পতিবার) আমরা সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন করেছি। সব দিক থেকে প্রস্তুতি নিয়ে সামগ্রিকভাবে অপরাধ দমন এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলমান আছে।’
তবে এখানেই সরকারের জন্য একটি বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে জমে থাকা অস্বস্তি শুধু রাড্ডার একটি ঘটনায় ব্যবস্থা নিয়ে কাটবে কি না। সারা দেশে সংঘটিত আরও ঘটনার ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়, প্রভাব কিংবা ক্ষমতার ছায়ায় অপরাধের অভিযোগ উঠলে একই কঠোরতা প্রয়োগ করা হবে কি না, সেটি দেখার বিষয় হয়ে উঠবে। একই ধরনের কঠোরতা অব্যাহত থাকলেই সরকারের আইনশৃঙ্খলা নীতির বিশ্বাসযোগ্যতা পাবে, মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি হবে।
সরকার তেমনই অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এবং বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্ষদ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘শুধু রাড্ডার ঘটনাই নয়, যেখানে অপরাধমূলক ঘটনা ঘটবে, সেখানেই অ্যাকশন হবে। অপরাধীদের সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করার কোনো সুযোগ নেই। সে দলের হোক, আর দলের বাইরে হোক। ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধেই অ্যাকশন হবে। সে বার্তাই দেওয়া হয়েছে।’
সরকারের নেওয়া পদক্ষেপকে দেশের ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি বড় পরিবর্তন’ বলে মনে করেন জাতীয় অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহবুব উল্লাহ। এ জন্য তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নজরদারির জন্য একটি কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন তিনি।
অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক দলের লোকেরা কোনো অন্যায়-অপকর্ম করলে দলের যে সুনামহানি ও ক্ষতি হয়, সেটা সহজে জোড়া লাগানো যায় না। তাই দলের লোকেরা কে কোথায় কী করছে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। এ জন্য সৎ ও ন্যায়পরায়ণ লোকদের দিয়ে একটি কমিটি করা হলে তাতে জন–আস্থা তৈরি হবে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘আরও হার্ডলাইনে বিএনপি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দলে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অতীতেও অনেকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এবারের শুদ্ধি অভিযানের ‘লাইন অব অ্যাকশন’ আরও কঠোর। কে কোন দায়িত্বে বা কত গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন, সেটি দেখা হবে না। কেউ শাস্তিযোগ্য অপরাধ কিংবা দলের ভাবমূর্তির ক্ষুণ্ন হয়-এমন কাজ করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে দেশবাসী তা প্রত্যক্ষ করেছে। বুধবার রাতে ঢাকা মহানগর উত্তরের হাইপ্রোফাইল কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর রাত পোহাতেও খবর আসে পদত্যাগপত্র নিয়ে সংসদের পথে ছুটছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ-সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। দুপুরে যখন এ খবর গণমাধ্যমে আসে, তখন তা মুহূর্তেই টক অব দ্য কান্ট্রিতে রূপ নেয়।
দলীয় শৃঙ্খলাসহ সরকার ও দলের ভাবমূর্তি সুরক্ষার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এমন কঠোর সিদ্ধান্তে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় নড়েচড়ে বসেন সংগঠনটির লাখ লাখ নেতাকর্মী। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে থাকেন তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা। অপরদিকে সাধারণ মানুষের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় প্রশংসায় ভাসতে থাকেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে দলের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র যুগান্তরকে জানায়, চাঁদা, দখলবাজিসহ সব ধরনের ‘বাজিকর’দের বিরুদ্ধে শক্ত হাতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনিয়ম, দুর্নীতি, অনৈতিক কর্মকাণ্ড ছাড়াও যে কোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তিনি কোন পদে আছেন, সেটি দেখা হবে না। বরং তার অপরাধের বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, রাজধানীর মিরপুরে সম্প্রতি রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সরকারদলীয় সংসদ-সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসে। এছাড়া দলের স্থানীয় পর্যায়ের আরও বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ উঠেছে। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন শেষে প্রধানমন্ত্রী ২৭ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেন। পুরো ঘটনা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা নেওয়ার পর তিন দিনের মাথায় বুধবার থেকে সাংগঠনিক অ্যাকশন শুরু হয়।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আরও যাদের সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ কিংবা প্রমাণ সামনে আসবে, তাদের পরিণতিও একই হবে। এছাড়া দলের বিতর্কিতদের তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীসহ সারা দেশে যেসব নেতাকর্মী দখল, চাঁদাবাজি কিংবা দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকেও বিতর্কিত নেতাদের তালিকা এবং তাদের কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সূত্রমতে, দলীয় শৃঙ্খলা সুরক্ষার এই অভিযানে ‘ঝুঁকিতে’ আছেন আরও কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতা। তাদের বিষয়টিও তদন্তাধীন। এছাড়া সতর্ক করা হয়েছে দলের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকেও। দলের হাইকমান্ড থেকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী কাউকেই কোনো ধরনের সাংগঠনিক সুরক্ষা দেওয়া হবে না। নেতা যত বড়ই হোক, সাংগঠনিক শাস্তির আওতায় আসতেই হবে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘বিএনপি দেশ ও জনগণের জন্য রাজনীতি করে। সেখানে যদি কেউ বিশৃঙ্খলা করে, তাহলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমাদের দলের কিছুসংখ্যক উচ্চাভিলাষী নেতাকর্মী শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে, তাদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন; যারাই অপরাধ করবেন, তাদের কোনো পরিচয় দেখা হবে না-কঠোর হস্তে দমন করা হবে।’
সাম্প্রতিক কয়েকটি দখল, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা প্রসঙ্গে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, অপরাধী যে-ই হোক, কোনো রাজনৈতিক ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে কয়েকদিনে রাজধানীতে সন্ত্রাসী হামলা-মামলার আলোচিত ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। দলের কিছুসংখ্যক নেতাকর্মীর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্যপ্রমাণ যায় বিএনপির চেয়ারম্যানের হাতে। এরই ধারাবাহিকতায় শৃঙ্খলা ইস্যুতে কঠোর বার্তা দেন তারেক রহমান। সে অনুযায়ী, বুধবার ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই সময়ে বিলুপ্ত করা হয় উত্তর যুবদল ও পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও। বিএনপির পক্ষ থেকে অনৈতিক ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কারের কথাও জানানো হয়েছে। যুবদলের পক্ষ থেকে অবশ্য উত্তর মহানগর কমিটি বিলুপ্তির কারণ হিসাবে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। ছাত্রদলও পশ্চিম মহানগর কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পাশাপাশি সাংগঠনিক পুনর্গঠনও চলছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফর যখন দেশসহ বিশ্বপরিমণ্ডলে প্রশংসিত, ঠিক তখনই ঢাকার কয়েকটি ঘটনা তা কিছুটা হলেও স্লান করেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে দেশ, দল ও সরকারের ভাবমূর্তির বিষয়টি সবচেয়ে অগ্রাধিকার। এজন্য কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলাসহ মহানগর উত্তরের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো নিয়ে দলের অভ্যন্তরে আলোচনা চলছে। বুধবার ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিসহ মহানগর নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন বিএনপির চেয়ারম্যান। ওই বৈঠকে মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন তারেক রহমান। এছাড়া এসব ঘটনায় সরকারি দলের এমপি ও দলের প্রভাবশালী নেতাদের ইন্ধনের বিষয়টি বিএনপির চেয়ারম্যানের দৃষ্টিতে আনেন কেউ কেউ। বিএনপির চেয়ারম্যানের কাছে তাদের নামেও নানা অভিযোগ জমা পড়েছে। তাদের সরকারি ও দলীয় পদও এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাদের বিষয়টি তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন তারেক রহমান। প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেবেন তিনি। যদিও নেতারা বলছেন, রাড্ডা সেন্টারে হামলার ঘটনাটি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির জন্যই ‘কাল’ হয়েছে।
কালের কণ্ঠ
‘নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল চালাবে বিদেশি অপারেটর’—এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং এর অধীন ওভারফ্লো ইয়ার্ড আগামী ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) আওতায় বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে এনসিটি পরিচালনার জন্য একটি রেয়াতি চুক্তির (কনসেশন অ্যাগ্রিমেন্ট) খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে সিদ্ধান্তটি অনুমোদিত হলেও চট্টগ্রাম বন্দরের এই কৌশলগত স্থাপনা বিদেশিদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় বন্দরনগরীজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, ‘অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স অব সিপিএ’স নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল, ইনক্লুডিং ওভারফ্লো ইয়ার্ড’ শীর্ষক পিপিপি প্রকল্পের আওতায় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে যাচ্ছে।
এতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকা দেশীয় এই টার্মিনালটি পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার ওঠানামার প্রায় ৪৫ শতাংশ একাই সম্পন্ন হয় এই নিউমুরিং টার্মিনালে। সবচেয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ এবং দ্রুততম পণ্য ওঠানামার সুবিধাযুক্ত এই টার্মিনালে বন্দরের সর্ববৃহৎ জাহাজগুলো ভিড়ে থাকে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত বাণিজ্যিক কেন্দ্র দীর্ঘ মেয়াদের জন্য বিদেশি অপারেটরের হাতে ন্যস্ত করার বিষয়ে সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’ প্রস্তাব দিলে বিতর্ক ও আলোচনা আরো গতি পায়।
শ্রমিক ও বন্দর রক্ষা কমিটির প্রতিবাদ ও কর্মসূচি: সরকারের এই নীতিগত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শ্রমিক সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়নগুলো সংক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। সরকারের এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে বন্দরনগরীতে আন্দোলন ক্রমেই দানা বাঁধছে।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এবং ‘বন্দর রক্ষা কমিটি’ এরই মধ্যে আন্দোলনে সোচ্চার হয়েছে। ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের সামনে বড় ধরনের বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি। পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতারা অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে আগামী শনিবার মানববন্ধন এবং প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার ও সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু অভিযোগ করে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান প্রবেশদ্বার। মূল এজেন্ডার বাইরে ‘বিবিধ’ অংশে এই সংবেদনশীল বিষয়টি উত্থাপন করে চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার দিকে এগোনো দেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও অস্বচ্ছ। তারা সরকারের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানান, প্রস্তাবিত কনসেশন চুক্তির পূর্ণাঙ্গ খসড়া ও আর্থিক কাঠামো অবিলম্বে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে; রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগে তৈরি টার্মিনালটি দেশীয় ব্যবস্থাপনায় বাড়তি আয় ও সক্ষমতায় কতদূর যেতে পারত, তার তুলনামূলক স্বাধীন অর্থনৈতিক ও কারিগরি মূল্যায়ন প্রকাশ করা এবং বন্দরকর্মীদের কর্মসংস্থান ও অধিকার সুরক্ষার পূর্ণাঙ্গ আইনি নিশ্চয়তা দিতে হবে।
বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, জনমত পাশ কাটিয়ে দেশের জাতীয় সম্পদ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অবিরত ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘অভিযোগের মুখে বিএনপির এমপি মিষ্টির পদত্যাগ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, শপথ নেওয়ার পাঁচ মাসের মাথায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য (এমপি) ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। এরপর জাতীয় সংসদ সচিবালয় তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
স্পিকারের কাছে ফেরদৌসী আহমেদ যে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন, সেখানে তিনি ‘সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায়’ পদত্যাগ করার কথা বলেছেন। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো কারণ উল্লেখ করেননি।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মিরপুর ১ নম্বরে বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ‘সমমনা দোকান মালিক সমিতি’র ব্যানারে রাড্ডার জায়গা দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পাঁচ দশকের বেশি সময় ১০ কাঠা ওই জায়গার ওপর শিশু ও মাতৃসেবা দিয়ে আসছে রাড্ডা। সেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার সঙ্গে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। হামলা-লুটপাটে জড়িত অনেকে মিষ্টিসহ আরও কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার অনুসারী। যদিও মিষ্টি শুরু থেকে এ ঘটনায় তাঁর জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
রাড্ডায় হামলার ঘটনায় বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়। গত বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, বিএনপির ওই নারী এমপির বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। গতকাল ওই নারী এমপি পদত্যাগ করেছেন।
সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বুধবার রাতে ফেরদৌসী আহমেদকে পদত্যাগের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে দল থেকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বার্তা পাওয়ার পরদিন গতকাল পদত্যাগ করলেন তিনি।
দলীয় ও সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এর আগে মঙ্গলবার ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে ডেকে পাঠান
প্রধানমন্ত্রী। তিনি রাড্ডার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বিষয়ে জানতে চান। মিষ্টি তাঁর অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। পরে গোয়েন্দা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
সূত্র জানায়, পৃথক ঘটনায় মঙ্গলবার একই সময় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-প্রকাশনা সম্পাদক ও কৃষিবিদ কে আই এফ সবুরকে ডেকে নেন প্রধানমন্ত্রী। নয়ন ও সবুর সারের ডিলারশিপ নিয়ে কৃষি সচিবের ওপর চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন। এর জন্য নয়ন ও সবুরকে সতর্ক করা হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক নানা নেতিবাচক ঘটনায় যাদের নাম আসছে তাদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এ নিয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি। এর আগে সরকারের নির্দেশনায় পুলিশের অপরাধ পর্যালোচনা সভা থেকে পুলিশের মহাপরিদর্শক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেছেন, অপরাধে যুক্ত হলে দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।
রাড্ডার ঘটনায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। রাড্ডার ঘটনার পর বুধবার রাতে মহানগর উত্তরের ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই দিন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল ও ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়। এ ছাড়া বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ জনকে বহিষ্কারের ঘোষণা আসে।
মিষ্টি যেভাবে রাজনীতিতে
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি প্রয়াত বিএনপি নেতা নাসিরউদ্দিন আহাম্মেদ পিন্টুর ছোট বোন। হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন পিন্টু। পরে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পান। ছাত্রদলের সভাপতি থাকা অবস্থায় ২০০১ সালের নির্বাচনে ঢাকার লালবাগ-কামরাঙ্গীরচর আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন পিন্টু। তবে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ নানা অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করে তৎকালীন সরকার।
মিষ্টির স্বামী প্রয়াত সাইদুর রহমান নিউটন বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। তিনি ঢাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার (কাউন্সিলর) ছিলেন। ২০০২ সালে ধানমন্ডিতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিনি নিহত হন। স্বামীর মৃত্যুর পর মিষ্টি ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এবার তিনি দল থেকে সংরক্ষিত আসনে এমপি নির্বাচিত হন।
হঠাৎ পতন
গতকাল বিকেলে সংসদ ভবনে এক ব্রিফিংয়ে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম বলেন, ‘ফেরদৌসী আহমেদ আমার অফিসে এসে লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। সংবিধান মোতাবেক পদত্যাগ করামাত্র তাঁর আসনটি শূন্য হয়ে গেছে। অবিলম্বে আমরা নির্বাচন কমিশনকেও জানিয়ে দেব। আজ (গতকাল) থেকেই এই পদত্যাগপত্র কার্যকর হলো।’
গতকাল দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের স্পিকারের দপ্তরে যান ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। পাঁচ মিনিট পর ১টা ৪৫ মিনিটে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। বের হওয়ার সময় অপেক্ষমাণ সাংবাদিকরা তাঁর কাছে পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চান। মিষ্টি বলেন, ‘স্পিকার ডেকেছেন। স্পিকারের সঙ্গে কথা বলতে আসছি।’ তিনি বলেন, ‘তদন্ত হোক। তদন্তে যা হবে সেটাই হবে। আমাকে স্পিকার ডেকেছেন, আমি স্পিকারের সঙ্গে কথা বলতে আসছি।’ পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিএনপির সিদ্ধান্ত যেটা হবে, সেটাই হবে।’ আর কোনো প্রশ্নের জবাব না দিয়ে সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে যান তিনি।
ইত্তেফাক
‘সিলেবাস ঘোষণা হয়নি, একাদশে বাংলা বিষয়ের পাঠদান বন্ধ’—এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে গত ২৪ সেপ্টেম্বর। এরই মধ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) প্রকাশিত বাংলা, ইংরেজি ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি বই হাতেও পেয়েছে। সুতরাং শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই পুরোদমে ক্লাস হওয়ার কথা। কিন্তু এনসিটিবি এখনো বাংলা বিষয়ের সিলেবাস ঘোষণা করেনি। এ কারণে বর্তমানে বাংলাবিষয়ের পাঠদান বন্ধ রয়েছে। ইংরেজি বিষয়ে কনটেন্ট পড়ানো শুরু হলেও প্রশ্ন কাঠামো ও নম্বর বণ্টনে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়ে কাটেনি ধোঁয়াশা। এ ব্যাপারেও এখনো স্পষ্ট কোনো বার্তা দেয়নি এনসিটিবি। সংস্থাটির গরিমসিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন একাদশের প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থী।
এদিকে কলেজগুলোতে বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। কারণ উচ্চমাধ্যমিকে পাঠদান সময় কম থাকে। ফলে শিক্ষকরা সিলেবাস শেষ করতে চাপের মধ্যে পড়েন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা সিলেবাস শেষ হচ্ছে না দেখে পরীক্ষা প্রস্তুতি নিতে কোচিং-নির্ভর হয়ে পড়ে। আর বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে ফলাফল খারাপ করে বসে। সিলেবাসের বিষয়ে শিক্ষকদের কাছে জানতে চাইলে তারা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, এনসিটিবি প্রতি বছরই সিলেবাস প্রকাশ নিয়ে স্বেচ্ছাচারিতা করে আসছে। তারা পাঠদান শুরুর অনেক দিন পরে সিলেবাস প্রকাশ করে। ফলে আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিলেবাস পড়িয়ে শেষ করতে পারি না।
গত বছর পাঠদান শুরুর ছয় মাস পর বাংলা বিষয়ের সিলেবাস প্রকাশ করে। এতে করে এবারের যারা এইচএসসি পরীক্ষা দিবে তাদের বাংলা বিষয়ের ফলাফলে বিপর্যয় ঘটতে পারে। এনসিটিবিতে সিলেবাসের এই বিষয়টির যেন দেখার কেউ নেই। আবার ইংরেজি বিষয়ে যখন খুশি তখন প্রশ্ন কাঠামো ও মানবণ্টন পরিবর্তন করে থাকে। এক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীরা চরম মানসিক চাপে পড়ে এবং পর্যাপ্ত সময় পায় না অনুশীলন করার। এতে করে ইংরেজিতেও ফল বিপর্যয় ঘটে।
বিষয়টি নিয়ে এনসিটিবির সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বর্তমানে তারা পাঠ্যপুস্তকের ছাপার কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। সুতরাং কবে নাগাদ সিলেবাস ও মানবণ্টন চূড়ান্ত করে প্রকাশ করবেন, তা বলতে পারবেন না। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, মানবণ্টন ও সিলেবাস নিয়ে যাদের প্রস্তাবনা দেওয়ার কথা তারা দেন না। ফলে সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না, সিলেবাসও চূড়ান্ত হচ্ছে না। অর্থাত্ এনসিটিবির দায়িত্বহীনতার খেসারত দিচ্ছেন শিক্ষকরা আর লাখ লাখ শিক্ষার্থীরা। দায়িত্বশীলরা যথাযথ কার্যক্রম করলে বাংলা বিষয়ের সিলেবাস ও ইংরেজি বিষয়ের মানবণ্টন পাঠদান শুরুর আগেই প্রকাশ করা যেত।
ফলে শুরুতেই পাঠ পরিকল্পনা করে নির্দিষ্ট সময়ে সিলেবাস শেষ করে পরীক্ষা প্রস্তুতি নিতে পারত লাখো শিক্ষার্থী। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিপর্যয় এড়াতে অবিলম্বে বাংলা বিষয়ের সিলেবাস ও মানবণ্টন প্রকাশ করা উচিত।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সদস্য (শিক্ষাক্রম) প্রফেসর ড. এ কে এম শওকত আলী খান গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, বাংলা বিষয়ের সিলেবাস গতবারেরটা রাখা সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী রবিবার বা সোমবার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে এনসিটিবি।
নয়া দিগন্ত
দৈনিকি নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি দেয়ার কনসেশন চুক্তি অনুমোদন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং ওভারফো কনটেইনার ইয়ার্ড (ওসিওয়াই) ১৫ বছরের জন্য একটি আন্তর্জাতিক অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনা ও রণাবেণের প্রস্তাবের খসড়া কনসেশন চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
এর অর্থ, এনসিটি এখনই ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে না। বরং প্রস্তাবিত ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তির খসড়াটি সরকারের অনুমোদনের পরবর্তী ধাপে এগোনোর সুযোগ পেল। চূড়ান্ত কনসেশন চুক্তি স্বার এবং তা কার্যকর হওয়ার আগে আরো প্রয়োজনীয় সরকারি ও চুক্তিগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে গতকাল ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। পিপিপি কর্তৃপরে প্রকল্প প্রোফাইলে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপ (সিপিএ) আরব আমিরাত সরকারের মনোনীত প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে এনসিটি উন্নয়ন, পরিচালনা ও রণাবেণের জন্য কনসেশন দেয়ার পরিকল্পনা করছে।
প্রকল্পটির প্রাথমিক নীতিগত অনুমোদন ২৩ মার্চ ২০২৩ সালে দেয়া হয়েছিল। বর্তমান অনুমোদনটি সেই প্রকল্পের নতুন করে প্রাথমিক অনুমোদন নয়; বরং প্রস্তাবিত ১৫ বছরের কনসেশন ব্যবস্থার খসড়া চুক্তিকে সামনে এগিয়ে নেয়ার সাথে সম্পর্কিত।
ফলে বর্তমান অবস্থাকে সংক্ষেপে বলা যায় প্রকল্পের নীতিগত অনুমোদন আগেই ছিল, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে সম্ভাব্য অপারেটর হিসেবে নিয়ে আলোচনা ও চুক্তির খসড়া প্রস্তুত হয়েছে, আর এখন সেই খসড়া কনসেশন চুক্তির ওপরও সরকারের নীতিগত সম্মতি মিলেছে; তবে চূড়ান্ত চুক্তি এখনো স্বারিত হয়নি।
পিপিপি কর্তৃপরে বর্তমান প্রকল্প তথ্যে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে প্রস্তাবিত অপারেটর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের সাথে লেনদেন কাঠামো, চুক্তি প্রণয়ন ও আলোচনা এগিয়ে নিতে আইএফসিকে লেনদেন উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের কথা বলা হয়েছে।
নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া এ বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, প্রস্তাবটি কমিটির পর্যালোচনার জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। কমিটির নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেয়ার প্রস্তাব
পিপিপি কর্তৃপরে প্রকল্প প্রোফাইল অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপ (সিপিএ) সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারের মনোনীত প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে কনসেশন দেয়ার পরিকল্পনা করছে। এর আওতায় এনসিটি ও ওসিওয়াইয়ের উন্নয়ন, পরিচালনা ও রণাবেণের দায়িত্ব দেয়া হবে।
এনসিটি বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মালিকানাধীন চট্টগ্রাম ড্রাই ডক কোম্পানি লিমিটেডের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। বছরে প্রায় ১৩ লাখ টিইইউ (২০ ফুট সমমানের কনটেইনার) হ্যান্ডলিংয়ের সমতা ও কার্যক্রম রয়েছে টার্মিনালটির। চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪৪ শতাংশই এনসিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে প্রস্তাবিত কনসেশন বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার পরিচালনায় বিদেশী অপারেটরের ভূমিকা আরো বাড়বে।
কয়েক বছর ধরে চলছে আলোচনা
এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশী অপারেটরের কাছে দেয়ার উদ্যোগ কয়েক বছর ধরেই চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আলোচনা ও প্রক্রিয়া আরো এগোলেও ডিপি ওয়ার্ল্ড খসড়া কনসেশন চুক্তি পর্যালোচনার জন্য অতিরিক্ত সময় চাওয়ায় তখন চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে নতুন সরকার প্রক্রিয়াটি আবার সক্রিয় করে।
চলতি বছরের মে মাসে পিপিপি কাঠামোর আওতায় এনসিটি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেয়ার প্রক্রিয়ায় মূল্যায়ন কমিটি পুনর্গঠনের জন্য সিপিএকে নির্দেশ দেয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। সে সময় মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাব মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং অন্য কোনো প্রস্তাবের বিষয়ে তখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বণিক বার্তা
‘রেডিওথেরাপির অপেক্ষায় সাড়ে ৭ হাজার রোগী, সিরিয়াল ঠেকেছে ২০২৮ সালে’—এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, হাসপাতালে মোট ছয়টি রেডিওথেরাপি মেশিন পরিচালনার ব্যবস্থা থাকলেও কেন নতুন মেশিন কেনা হচ্ছে না জানতে চাইলে এনআইসিআরএইচের পরিচালক আরো বলেন, ‘একটি রেডিওথেরাপি মেশিন কেনা ও স্থাপন করতে ৩২ থেকে ৩৫ কোটি টাকার প্রয়োজন পড়ে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় মেশিন কেনা সম্ভব হচ্ছে না।’
চলতি বছরের এপ্রিলে ব্রেস্ট ক্যান্সার শনাক্ত হয় নেত্রকোনার আসমা বেগমের। জরুরি ভিত্তিতে তার সার্জারি করেন চিকিৎসকরা। এরপর কেমোথেরাপি নেন জেলা সদরে। তার এখন প্রয়োজন রেডিওথেরাপি। ব্যয়বহুল এ চিকিৎসায় খরচের কথা চিন্তা করে ছুটে আসেন রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইসিআরএইচ)। সিরিয়ালের জন্য গত তিনদিন ঘুরেও নিজের নাম তালিকাভুক্ত করতে পারেননি তিনি। পরে জানতে পারেন রেডিওথেরাপির জন্য সেখানে নতুন রোগীর সিরিয়াল নেয়া বন্ধ আছে। যদিও ক্যান্সার রোগীর সার্জারির পর সাধারণভাবে দুই মাসের মধ্যে রেডিওথেরাপি শুরু করতে হয়। এর বেশি দেরি হলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে থেরাপির কার্যকারিতা কমতে থাকে। বাড়ে রোগীর জীবনের ঝুঁকি।
মহাখালীর এনআইসিআরএইচে মোট ছয়টি রেডিওথেরাপি মেশিন রয়েছে। এগুলোর চারটিই গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে বিকল। দুটি মেশিন দিয়ে রোগীদের থেরাপি দিয়ে যাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে রেডিওথেরাপি নিতে অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা সাত হাজার ছাড়িয়ে গেছে। অনেকে থেরাপি নেয়ার সিরিয়াল পেয়েছেন ২০২৮ সালের শেষভাগে। দুটি মেশিনের সামর্থ্যের বিপরীতে সেবাপ্রত্যাশী রোগীর সংখ্যা এতটাই বেশি যে গত এক মাস নতুন রোগীর রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, দুটি মেশিন দিয়ে পুরনো ও অপেক্ষায় থাকা রোগীদের রেডিওথেরাপি দেয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মেশিন দুটি সক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগীকে সেবা দিচ্ছে। তিন শিফটে প্রতিদিন গড়ে আড়াইশ রোগী থেরাপি নিচ্ছেন। যে রোগীরা অনেকদিন পরের সিরিয়াল পেয়েছেন তারা জানেন না সে পর্যন্ত তাদের ক্যান্সারের পরিস্থিতি কেমন চেহারা নেবে। দেরির কারণে তাদের শরীরে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়া, ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
শুধু রোগী নয়, এনআইসিআরএইচের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমনও মনে করেন দেরিতে সিরিয়াল পাওয়া রোগীরা তাদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে থেরাপি নিয়ে যথেষ্ট উপকৃত হতে পারবেন না। রেডিওথেরাপি সিরিয়াল বন্ধের বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সিরিয়াল দিয়েও তেমন কোনো লাভ নেই। কারণ নতুন করে রেডিওথেরাপির সিরিয়াল দিলে এসব রোগীকে দুই বছর পর থেরাপি নিতে হবে। এতদিন রোগী থেরাপির অপেক্ষা করলে তাদের স্বাস্থ্যগত অবস্থা খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ মুহূর্তে সাত হাজারের বেশি রোগী অপেক্ষমাণ তালিকায়। রেডিওথেরাপির জন্য নতুন রোগীর সিরিয়াল নেয়া গত এক মাস বন্ধ রয়েছে।’
হাসপাতালে মোট ছয়টি রেডিওথেরাপি মেশিন পরিচালনার ব্যবস্থা থাকলেও কেন নতুন মেশিন কেনা হচ্ছে না জানতে চাইলে এনআইসিআরএইচের পরিচালক আরো বলেন, ‘একটি রেডিওথেরাপি মেশিন কেনা ও স্থাপন করতে ৩২ থেকে ৩৫ কোটি টাকার প্রয়োজন পড়ে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় মেশিন কেনা সম্ভব হচ্ছে না।’
হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেখানে রেডিওথেরাপির শিফট শুরু হয় সকাল ৮টা থেকে, যা চলে রাত ১২টা পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে প্রতিদিন গড়ে আড়াইশ রোগীকে রেডিওথেরাপি দেয়া হয়। নতুন একটি মেশিন কেনা হয়েছে, যা আগামী জানুয়ারির মধ্যে দেশে আসবে। এছাড়া আরো একটি রেডিওথেরাপি মেশিন কেনার জন্য নতুন দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ক্যান্সারের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যয়বহুল। অনেক পরিবারের পক্ষেই বেসরকারি হাসপাতালে এ চিকিৎসা নেয়া সম্ভব হয় না। তাদের অনেকে জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতাল বা এনআইসিআরএইচে আসেন। সারা দেশ থেকেই রোগীরা হাসপাতালটিতে আসেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্যান্সারের মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের বড় ভরসার জায়গা জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতাল। কিন্তু রোগীর তুলনায় হাসপাতালের রেডিওথেরাপি মেশিন এমনিতেই অপর্যাপ্ত। তার মধ্যে চারটি মেশিন বছরের পর বছর অকেজো পড়ে থাকা দুঃখজনক।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ক্যান্সারে আক্রান্ত অর্ধেকেরও বেশি রোগীর চিকিৎসার কোনো না কোনো পর্যায়ে রেডিওথেরাপির প্রয়োজন হতে পারে। সংস্থাটি রেডিওথেরাপির সুবিধা সম্প্রসারণের পাশাপাশি নিরাপদ ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
এনআইসিআরএইচের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একজন রোগীর রেডিওথেরাপির কোর্স শেষ করতে সাধারণত চার থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগে। এ থেরাপি কার্যক্রম চলার মধ্যেই এতদিন নতুন থেরাপি নিতে আসা রোগীদের সিরিয়াল নেয়া হচ্ছিল। তবে রোগীর সংখ্যা এত বেশি বেড়ে গেছে যে বর্তমানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নতুন রোগীর সিরিয়াল নেয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে বিশেষায়িত একটি হাসপাতাল দিয়ে ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়া সম্ভব নয়। সরকারি উদ্যোগে এ ধরনের আরো হাসপাতাল মফস্বল শহরেও গড়ে তুলতে হবে। রাজধানীকেন্দ্রিক ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতাও কমাতে হবে। তবে ক্যান্সারের আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে শুধু যন্ত্র কেনাই যথেষ্ট নয়, রেডিওথেরাপির অবকাঠামোর সঙ্গে প্রশিক্ষিত রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট, মেডিকেল ফিজিসিস্ট, রেডিয়েশন থেরাপিস্টও তৈরি করতে হবে।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর ‘নিউ মুরিং টার্মিনাল: বিদেশি অপারেটরকে দেওয়ার চুক্তির খসড়া অনুমোদন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও এর আওতাধীন ওভারফ্লো ইয়ার্ড (ওসিওয়াই) আগামী ১৫ বছরের জন্য বিদেশি বা আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য খসড়া কনসেশন চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। বন্দর নিয়ে আন্দোলনকারীরা এ উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এনসিটি ও ওসিওয়াই পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) এ চুক্তি করবে।
সরকার মনে করছে, আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে টার্মিনালটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হবে। এ জন্য স্বাক্ষরিতব্য কনসেশন চুক্তির খসড়া কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও আন্দোলনকর্মীরা বিদেশিদের কাছে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনার ঘোর বিরোধিতা করে আসছে।
ওভারফ্লো ইয়ার্ডসহ এনসিটি ১৫ বছরের জন্য ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রামের আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার ও সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু। গতকাল এক যুক্ত বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভার মূল অ্যাজেন্ডায় না থাকা সত্ত্বেও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর একটি বিষয় ‘বিবিধ’ অ্যাজেন্ডার মাধ্যমে উত্থাপন করে আলোচনা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, এমন একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, জনস্বার্থ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ থাকা প্রয়োজন। অথচ মূল অ্যাজেন্ডার বাইরে ‘বিবিধ’ অ্যাজেন্ডার মাধ্যমে বিষয়টি উত্থাপন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া জনমনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বিবৃতিতে বন্দর রক্ষা কমিটির নেতারা আরও বলেন, ইজারা পদ্ধতির মধ্যে কনসেশন চুক্তি একটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা কাঠামো। এর মাধ্যমে শুধু একটি টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় না; চুক্তির শর্তের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘ সময়ের জন্য পরিচালনা, রাজস্ব, বিনিয়োগ, অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তের ওপর একটি বেসরকারি বা বিদেশি অপারেটরের প্রভাব তৈরি হতে পারে। ফলে চুক্তির প্রতিটি ধারা, আর্থিক কাঠামো, রাজস্ব ভাগাভাগি, বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি, ঝুঁকি বণ্টন, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা এবং চুক্তি বাতিল বা পুনর্বিবেচনার শর্ত জনসমক্ষে প্রকাশ ও যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
রাষ্ট্রের নিজের বিনিয়োগে নির্মিত একটি প্রতিষ্ঠিত টার্মিনাল দীর্ঘমেয়াদি কনসেশনের আওতায় বিদেশিদের দেওয়ার আগে রাষ্ট্র নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এর সক্ষমতা ও আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা যাচাই করেছে কি না, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, অটোমেশন, প্রশিক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনার সংস্কারের মাধ্যমে দেশের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ও জনবলকেও আরও সক্ষম করে তোলা সম্ভব। কোনো চুক্তি যদি রাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায়, রাজস্ব ক্ষতি কিংবা ভবিষ্যতে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি করে, তাহলে তা কোনোভাবেই তাড়াহুড়ো করে চূড়ান্ত করা উচিত নয়। প্রয়োজন হলে চুক্তি স্বাক্ষরের আগে জাতীয় পর্যায়ে উন্মুক্ত আলোচনা ও সংসদীয় পর্যালোচনার ব্যবস্থা করা উচিত।
বন্দর রক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দ চুক্তির পূর্ণাঙ্গ খসড়া ও আর্থিক কাঠামো জনসমক্ষে প্রকাশ, স্বাধীন অর্থনৈতিক ও কারিগরি মূল্যায়ন, শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মসংস্থান ও অধিকার সুরক্ষার নিশ্চয়তাদান এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁরা এনসিটি পরিচালনায় দেশের নিজস্ব সক্ষমতা ও সম্ভাব্য বিকল্প ব্যবস্থাপনা কাঠামোও বিবেচনা করার আহ্বান জানান।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এনসিটি কনসেশন চুক্তির সিদ্ধান্ত বাতিল এবং জাতীয় স্বার্থের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন ছাড়া কোনো চূড়ান্ত চুক্তি না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
দেশ রূপান্তর
‘মিষ্টি শুধু একা নন’—এটি দৈশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, স্বাধীন বাংলাদেশে সংসদীয় কার্যক্রম শুরুর দিকেই দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগে ৪৪ সংসদ সদস্য (গণপরিষদ সদস্য) পদ হারিয়েছিলেন। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে আনুগত্যের অভিযোগ রয়েছে। আর ২২ জন শৃঙ্খলাভঙ্গসহ নানা অপরাধে সংসদ সদস্য পদ হারিয়েছিলেন। মোট ৬৬ জন গণপরিষদ সদস্যের সবাই আওয়ামী লীগের ছিলেন না, কেউ কেউ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জয়ী হলেও বাংলাদেশের গণপরিষদে যোগ দেননি। আবার অনেকে গণপরিষদে যোগ দিয়েছিলেন।
তাদের মধ্যে ড. আবু সোলয়মান ম-ল, আজিজুর রহমান, নুরুল হক, হাবিবুর রহমান, সৈয়দ হোসেন মনসুর, আব্দুল গফ্ফার, ডা. আজহার উদ্দিন, একে ফজলুল হক, এবিএম নুরুল ইসলাম, জহির উদ্দিন, ওবায়দুল্লাহ মজুমদার, আব্দুর রহমান ফকির, একেএম মাহুবুবউল ইসলাম, মঈনুদ্দিন মিয়াজি, হাবিবুর রহমান খান, পীরজাদা মো. সাঈদ, মোশারাফ হোসেন শাহজাহান, ইনসান আলী মোক্তার, আব্দুল মতিন ভুইয়া, একে মোশাররাফ হোসেন, এসবি জামান, আফজাল হোসেন, অধ্যাপক শামসুল হক, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আহমেদ সগীর শাহজাদা, অংশু-প্রু-চৌধুরী, কেএম ওবায়দুর রহমান, আকতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু, ত্রিদিব রায় (চাকমা রাজা), নুরুল আমিন, ক্যাপ্টেন অব. সুজাত আলী. ডা. কেবিএম আবু হেনা, খন্দকার আবব্দুল মালেক ও মীর্জা আবু মনসুর উল্লেখযোগ্য। নুরুল আমিন মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিলেন, পরে পাকিস্তানের উপরাষ্ট্রপতিও হয়েছিলেন তিনি।
সংসদ সদস্য কিন্তু গণপরিষদ সদস্য নন এমন কয়েকজনও তাদের সদস্যপদ হারিয়েছিলেন। যেমন মমতাজ বেগম, আবদুল মান্নান, জেনারেল (অব.) ওসমানী ও ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন। মন্ত্রী মিজানুর রহমান ও প্রতিমন্ত্রী নূরুল ইসলাম মনজুর সদস্যপদ না হারালেও বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সংসদ ১৯৭২ সালে সংসদ সদস্যদের বরখাস্ত ও পদত্যাগের এ নজির স্থাপন করেছিল। এরপরের সংসদগুলোতেও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যদের (এমপি) পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে, সদস্যরা পদ হারিয়েছেন। তবে গণপরিষদের মতো একসঙ্গে এতসংখ্যক সংসদ সদস্যের পদত্যাগের দ্বিতীয় ঘটনা বাংলাদেশে নেই।
এরপর বিভিন্ন সংসদে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীরা পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন ও সংসদ সদস্য পদ হারিয়েছেন। সংসদ সদস্যপদ হারানো প্রায় সবাই বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করে সদস্য হয়েছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে শাস্তির মুখোমুখিও হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভা থেকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে মন্ত্রী এনায়েতউল্লাহ খান, উপদেষ্টা আকবর কবির ও একেএম হাফিজ উদ্দিন পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন।
এরপর বিএনপির সাত্তার সরকার থেকে মন্ত্রী নুরুল ইসলাম ও আকবর হোসেন পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন। সাত্তারের সময়েই ন্যাপের সংসদ সদস্য সুরুঞ্জিত সেনগুপ্তের সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়েছিল।
দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও সরকারের নীতিবিরোধী বক্তব্যের জন্য ১৯৮০ সালের ২ জানুয়ারি জিয়ার মন্ত্রিসভার উপ-প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ব্যারিস্টার মওদুদকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর ২০০২ সালে বিএনপি এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারে ‘দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও আদর্শগত’ কারণে অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর প্রতি অনাস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। এর অংশ হিসেবে রাষ্ট্র্রপতির পদ থেকে সরে যেতে হয়েছিল ডা. বি চৌধুরীকে।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তৎকালীন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আফসার উদ্দিন আহমেদ খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। তিনি গাজীপুর থেকে নির্বাচতি আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ছিলেন। তাজউদ্দীন আহমদের ছোট ভাই ছিলেন আফসার উদ্দিন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সংসদ থেকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কাদের সিদ্দিকী আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যপদ হারান ১৯৯৯ সালে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে শেখ হাসিনার তৃতীয় মেয়াদে (২০১৪-২০১৮) প্রথমে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। ২০১৪ সালে নিউ ইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে পবিত্র হজ ও তাবলিগ জামাত নিয়ে মন্তব্য করার কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। পরে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হয় এবং তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকেও পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরে দলীয় পদও হারান বর্ষীয়ান এ নেতা।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘স্বৈরাচার-গুপ্ত ফের এক হয়েছে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, স্বৈরাচার এবং গুপ্ত আবার এক হয়েছে। তারা মিলেমিশে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে। যারা অরাজকতা তৈরি করে, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, সচেতন হতে হবে।
গতকাল বিকালে ফেনী জেলার ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মীদের সম্মানি প্রদান এবং অসহায় মানুষের সহায়তা কার্যক্রমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল কিছু অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাকে পুঁজি করে দেশে একটি অরাজকতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। দেশের ভিতরে যারা পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করতে চায় তারা দেশের শত্রু। তিনি বলেন, ’৯১-এ তারা একসঙ্গে ছিল, ৮৭-তে একসঙ্গে ছিল। এমনকি গত ২৪ সালের নির্বাচনেও তলে তলে তারা একসঙ্গে কাজ করেছে। এদের সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল দিনভর পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এতে বক্তব্য রাখেন, কৃষি ও মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আবু ইফসুফ প্রমুখ। প্রধানমন্ত্রী গতকাল সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে সড়কপথে রাজধানী ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে ফেনীর উদ্দেশে রওনা হন। দুপুর সোয়া ১টার দিকে তিনি ফেনীতে এসে পৌঁছান। ফেনীতে নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে রাত ৮টার দিকে প্রধানমন্ত্রী পুনরায় সড়কপথে ঢাকায় ফেরেন। ফুলগাজীর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও বলেন, আমরা কথা রেখেছি। নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলাম কৃষক কার্ড দেব, ফ্যামিলি কার্ড দেব।
ইমাম-পুরোহিতদের সম্মানি দেব। আমরা যদি এসব কাজ সফলভাবে করতে পারি, তাহলে জনগণ উপকৃত হবে। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন মানুষের উপকারের জন্য। বিএনপির রাজনীতি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি। তিনি বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগের কথাও বলেন। দেশে অরাজকতা তৈরি হলে জনকল্যাণমূলক কাজ বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনকল্যাণমুখী কাজগুলো সরকার ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করতে চায়। দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং ‘এক দফা’ কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাদের কি খাল কাটা কর্মসূচি আছে? তাদের কি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি আছে? কৃষক কার্ড কর্মসূচি আছে? মানুষের জন্য তাদের রাজনীতি কই? একটি রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে তারা ‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রির কথা বলত। যার মালিক আল্লাহ, সেটি তারা কীভাবে দেবে। ওই দলের মুনাফেকি প্রকাশ হয়ে গেছে।
