একটি আইফোন ছিনতাই করতে ধস্তাধস্তি, অতঃপর ট্রেনের ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় যুবককে। মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ থেঁতলে গিয়ে মারা যান হাসপাতালে। বুধবার রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অপরপাশে ছিনতাইকারীরা চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় বেসরকারি চাকুরে হাফিজুর রহমানকে (৩৫)। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল সকালে তার মৃত্যু হয়। বিকাল চারটার দিকে নিহত হাফিজুরের ভাই হোসাইন শেখ ঢাকা মেডিকেলে এসে পরিচয় শনাক্ত করেন। নিহত ব্যক্তি গাজীপুরের একটি রিসোর্টে চাকরি করতেন। দশ মাস বয়সী মেয়েকে দেখতে বাগেরহাটে গ্রামে বাড়িতে যাচ্ছিলেন। গাজীপুর থেকে ট্রেনে করে কমলাপুর যাওয়ার পর তিনি সড়ক পথে গ্রামে যাওয়ার কথা স্বজনদের আগে জানিয়েছিলেন। ট্রেনে আসন না পেয়ে ছাদে উঠেছিলেন বলে নিহতের স্বজনদের ধারণা।
বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাফিজুরকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান দু’জন পথচারী মো. ফয়েজ উল্লাহ ও ফাহাদ। পরে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নেয়া হয় তাকে।
ফয়েজ উল্লাহ মানবজমিনকে বলেন, আমি বারিধারা ডিওএইচএস-এ চাকরি করি। সেখান থেকে ফেরার পথে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের বিপরীতে থাকা রেলগেটের কাছে এলে দেখি মানুষজন জড়ো হয়ে আছে। পরে সেখানে গিয়ে দেখলাম রক্তাক্ত অবস্থায় একজন পড়ে আছে। অনেকেই চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছে। আমি দেখলাম তখনও তার শ্বাসপ্রশ্বাস চলছে। পরে সেখান থেকে আমি ও ফাহাদ নামের আরেকজন ধরে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে আসি। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যেতে বললেন। পরে ঢামেকে নিয়ে এসে আমার রেফারেন্সে ভর্তি করিয়েছি।
তিনি জানান, তাকে নিয়ে আসা পথচারীরা জানান— ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় চলন্ত ট্রেনে ওই যুবক ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছিলেন, পরে তাকে চলন্ত ট্রেন থেকে নিচে ফেলে দিলে গুরুতর আহত হন।
হাফিজুরের ভাই হোসাইন শেখ বলেন, আমার ভাই গাজীপুরে সালনা রিসোর্ট কোম্পানিতে চাকরি করতেন। গতকাল অফিস থেকে দুইদিনের ছুটিতে বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে কমলাপুর আসার উদ্দেশ্যে ট্রেনের ভিতরে সিট না পেয়ে ছাদের উপরে ওঠে। পরে ছিনতাইকারীরা তাকে লক্ষ্য করে তার কাছে গিয়ে টাকা-পয়সা ও একটি আইফোন ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে আমার ভাই দিতে না চাইলে জোর করে নেয়ার সময় ধস্তাধস্তিতে ট্রেন থেকে আমার ভাইকে ফেলে দেয়। এতে আমার ভাই গুরুতর আহত হয়।
তিনি বলেন, আমার ভাইয়ের দশ মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। মূলত সন্তানকে দেখার জন্যই বাড়িতে যাচ্ছিলেন। একটি আইফোনই তার জন্য কাল হলো। তিনি জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি বাগেরহাট জেলার চিতলমারী থানার চিঙ্গরীতে।
