অ্যাথলেটকে হেনস্তার প্রতিবাদ হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোতে ৫ তরুণ

অ্যাথলেটকে হেনস্তার প্রতিবাদ হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোতে ৫ তরুণ

ফন্ট সাইজ:

মেট্রোরেল স্টেশনে হাফপ্যান্ট পরার কারণে এক অ্যাথলেটকে হয়রানির প্রতিবাদে ফের হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে ভ্রমণ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন পাঁচ তরুণ। ‘শর্টস পরেই মেট্রোতে উঠি!’- শীর্ষক এক কর্মসূচি ঘোষণা করে তারা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। গতকাল সকালে ফার্মগেট স্টেশনে তরুণরা হাফপ্যান্ট পরে স্টেশনে আসেন। একই স্টেশনে গত ২৭শে সেপ্টেম্বর সকালে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে যাওয়ায় সাজ্জাদ হোসেন নামে এক অ্যাথলেট প্রশিক্ষক পুলিশের হেনস্তার মুখে পড়েন।

প্রতিবাদকারী যুবকরা জানান, সবার প্রতি বার্তা হচ্ছে, আসুন, আমরা নেগেটিভ মাইন্ডটাকে সরিয়ে ফেলি। শর্টস আসলে বিষয় নয়, নেতিবাচকভাবে দেখলে নেতিবাচক আর ইতিবাচকভাবে দেখলে ইতিবাচক। সকাল ৭টার দিকে তিনজন তরুণ ফার্মগেটে আনোয়ারা উদ্যান-সংলগ্ন মেট্রো স্টেশনের নিচে আসেন। তাদের মধ্যে বেসরকারি চাকরিজীবী সাগর মজুমদার ও রকিবুল ইসলাম এবং ব্যবসায়ী মাহফুজুর রহমান ছিলেন।

সাগর মজুমদার বললেন, আমরা রানার। দৌড়ানোর সময় শর্টস পরাটা বেশি কমফোর্টেবল। সেজন্য আমরা শর্টস পরি। দেশ-বিদেশে পরিচিত অ্যাথলেট সাজ্জাদ হোসেন সম্প্রতি শর্টস পরে মেট্রোতে উঠতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন। আমরা চাই না আর কেউ তার মতো হয়রানির শিকার হোক। সেজন্যই প্রতিবাদ জানাতে আসা। সাজ্জাদ হোসেনের মতো মেট্রোরেল বা অন্য যেকোনো জায়গায় যাতে কেউ হয়রানির শিকার না হয় সেই জায়গা থেকে একটি কর্মসূচি ডাকা হয়েছে। মাহফুজুর রহমান নামের অন্যজন বলেন, মেট্রোতে হাফপ্যান্ট পরে আসার অধিকারটা থাকা উচিত বলে আমি মনে করি। এটা একটা স্বাভাবিক পোশাক। আমি সাধারণত মেট্রোতে উঠি না, শর্টসও পরি না। সম্ভবত পাঁচ বছর পর আজকে একটা শর্টস খুঁজে বের করে পরে এখানে এসেছি শুধু অধিকারের কথা বলার জন্য।

২৭শে সেপ্টেম্বর সকালে রানিং কোচ ও অ্যাথলেট সাজ্জাদ হোসেন প্রশিক্ষণ শেষে টি-শার্ট ও শর্টস পরে ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে গেলে হয়রানির শিকার হন। সাজ্জাদের অভিযোগ, তার পোশাককে ‘অশালীন’ আখ্যা দিয়ে এক পুলিশ সদস্য তাকে প্রায় ৪০ মিনিট আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ঘটনার পর সাজ্জাদ তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তাকে ওই পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। মেট্রোরেলে চলাচলে নির্দিষ্ট কোনো ড্রেস কোড আছে কি না, তা জানতে চান তিনি। জবাবে ওই পুলিশ সদস্য দাবি করেন, বিষয়টি দেখার দায়িত্ব তার। তবে মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এর কর্মকর্তারা বলেছেন, মেট্রোতে চলাচলের ক্ষেত্রে যাত্রীদের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো ড্রেস কোড নেই।

ওই ঘটনার প্রতিবাদেই ফেসবুকে ‘শর্টস পরেই মেট্রোতে উঠি!’ নামে একটি ইভেন্ট খোলেন শাওন আহমেদ নামে এক ব্যবহারকারী। সেখানে রানার, অ্যাথলেট, সাইক্লিস্ট, জিমে যাতায়াতকারীসহ সাধারণ নাগরিকদের স্বাভাবিক স্পোর্টসওয়্যার পরে মেট্রোতে যাতায়াতের আহ্বান জানানো হয়। আয়োজকরা বলছেন, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা নয়; বরং হয়রানির প্রতিবাদ, পোশাকসংক্রান্ত স্পষ্ট নিয়মের দাবি এবং যাত্রীদের প্রতি সম্মানজনক আচরণের পক্ষে অবস্থান জানানো। তাদের কর্মসূচির মূল স্লোগান- ‘সমস্যা শর্টসে নয়, সমস্যা হয়রানিতে!’