রাড্ডা সেন্টার গুঁড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হবে। সে অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে। গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ কথা বলেন। তবে তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় আগে একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তাকে নিয়ে কিছু বলা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। এ সময় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই সরকারের সময়ে কোনো অপরাধী ছাড় পাবে না। সরকার সব ধরনের অপরাধ দমনের চেষ্টা করে। অপরাধ প্রমাণিত হলে সবার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। অপরাধ ঘটে গেলে সেখানে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং হবে। এ সরকারের সময়ে সাতদিনে চার্জশিট হয়েছে, ১৫ দিনে বিচার হয়েছে-এমনও উদাহরণ রয়েছে।
৪৯তম বিসিএসে বাদপড়া ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপন সোমবার, রাজনৈতিক বৈষম্য হবে না: ৪৯তম বিসিএসের বিশেষ শিক্ষা ক্যাডারে প্রজ্ঞাপন থেকে বাদপড়া ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপন আগামী সোমবার জারি হতে পারে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারও প্রতি বৈষম্য করা হবে না। তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত যাচাই বাছাই ও পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই ভেরিফিকেশনের জন্য যেটা বাধ্যবাধকতা। মেডিকেল টেস্টের সার্টিফিকেট জমা দেয়াটা তো বাধ্যতামূলক। এখানে অনেকেই একটা বিতর্ক তোলার চেষ্টা করেছেন যে, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো বৈষম্য সৃষ্টি করা হচ্ছে কিনা। আমি কয়েকটি বিষয় আপনাদের সামনে পরিষ্কার করছি।
আমরা বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য অঙ্গীকার করেছি, আন্দোলন করেছি, গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত করেছি। এই বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক পরিচয় যেটাই হোক, এই সমস্ত পরীক্ষা বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে সেই কারণে কোনো বৈষম্য সৃষ্টি করা হবে না। প্রজ্ঞাপন তো একবার হয় না, কয়েকবার হতে পারে। সার্ভিসে যোগদানের তারিখ সম্ভবত ১২ তারিখ, আজকে ১ তারিখ, মাঝে আরও ১১টি দিন আছে। যারা এই সমস্ত উত্তেজনা সৃষ্টি করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছেন, তিনি তাদের একজন। তার রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চয়ই আপনারা জেনেছেন। আপনারা নিজেরা বলুন। আমি বলতে চাচ্ছি না। তার রাজনৈতিক পরিচয় হচ্ছে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে একটি নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রসংগঠনের পদ-পদবিধারী নেতা ছিলেন, সম্ভবত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার সেই রাজনৈতিক বিবেচনার কারণে তিনি সন্দেহ করে নিয়েছেন যে, তাকে আর চাকরির নিয়োগ দেয়া হয় নাই। আমি এখন ঘোষণা করছি, আগেও বলেছি- কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারও প্রতি কোনো বৈষম্য সৃষ্টি হবে না। কিন্তু ভেরিফিকেশনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
কারও বিরুদ্ধে যদি গুরুতর কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকে, তবে পুলিশ ভেরিফিকেশনের কারণে শতকরা একজন বা হাজারে দুই-একজনের সেই অপরাধের কারণে বাদ পড়তে পারে। কারও বিরুদ্ধে যদি কোনো কনভিকশন থাকে, সেটা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত বা আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সে রকম কিছু কিছু আইনি বিধান থাকে। তা না হলে পরবর্তীতে পাবলিক সার্ভিসে নিয়মিত প্রশ্ন উঠবে, যেমন অতীতে অনেক বিষয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হতে আমরা দেখেছি। মন্ত্রী বলেন, যাচাই বাছাই প্রক্রিয়া এক রকম শেষ হয়েছে। আমি জনপ্রশাসন মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতেছি, সচিবের সঙ্গে কথা বলতেছি এবং ক্যাবিনেট সেক্রেটারির সঙ্গেও কথা বলতেছি। তারা কাজ করছেন, এমনকি শনিবারে ছুটির দিনেও কাজ করছেন প্রক্রিয়াটি শেষ করার জন্য।
