দৌলতপুরে মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষে টেঙ্গুর (৬০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ সময় উভয়পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান। গতকাল বিকালে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন চড়ুইকুড়ি (মরার চর) গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আজাহার মেম্বার ও নিহত টেঙ্গুরের বড় ভাই রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক পটল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় হতাহত হয়।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৮শে সেপ্টেম্বর রাতে। ভারত থেকে আসা মাদককে কেন্দ্র করে আজাহার মেম্বারের পক্ষের লোকজনের সঙ্গে পটলের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে গত দু’দিন ধরে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা, বাকবিতণ্ডা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল আজাহার মেম্বার ও পটল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পটলের ছোট ভাই টেঙ্গুর পেটে সুড়কিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পদ্মা নদীপথে হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান।
সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন- সুমন মিয়া (৫০), হাদু মণ্ডল (৭০), রাশিদুল (৩৫), ফটিক (৫৫), বজলু (৫৫), আজাদ মণ্ডল (৬০) ও রাজু মণ্ডল (৩০)। তারা বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল বলেন, সীমান্তের চড়ইকুড়ি বিএনপি’র আজাহার মেম্বার ও পটল পক্ষের মধ্যে দুই-তিনদিন ধরে বিরোধ ও উত্তেজনা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে টেঙ্গুর নামে একজন নিহত এবং অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। ভারত থেকে আসা মাদক বা পাতার বিড়িকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালেদুর রহমান বলেন, বিএনপি’র দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়েছি। এ ঘটনায় টেঙ্গুর নামে একজন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
