ঝুঁকিপূর্ণ এয়ারক্রাফটে দেশে ফিরেন তারেক রহমান

তদন্ত প্রতিবেদনে তথ্য

ঝুঁকিপূর্ণ এয়ারক্রাফটে দেশে ফিরেন তারেক রহমান

ফন্ট সাইজ:

লন্ডন থেকে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) তারেক রহমানকে বহনকারী এয়ারক্রাফটে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণের অনিয়ম পেয়েছে তদন্ত কমিটি। বিমানের ইঞ্জিনিয়ারিং ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ছিল এয়ারক্রাফটটি। গত বছরের ২৫ই ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে আসেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স একটি বোয়িং ৭৮৭-৯ এয়ারক্রাফট দিয়ে ওই ফ্লাইটি পরিচালনা করে। এই এয়ারক্রাফট নিয়েও আগেও অভিযোগ ছিল। বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভিযোগ পাবার পরপরই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সম্প্রতি তদন্ত কমিটির জমা দেয়া প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। কমিটির প্রধান ছিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপপ্রধান প্রকৌশলী (বেস মেইনটেন্যান্স) মো. মনসুরুল আলম। কমিটির সদস্য সচিব ব্যবস্থাপক, অর্থ (ফাইন্যান্স) আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সদস্য ছিলেন উপমহাব্যবস্থাপক, প্রশিক্ষণ (এয়ারক্রাফট/অ্যারো) মো. জুবিয়ারুল ইসলাম।

তদন্ত প্রতিবেদনে বিমানের দুই প্রকৌশলী হীরালাল এবং মো. সাইফুজ্জামান খানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এছাড়া বলা হয়েছে গত বছরের ৯ ও ১৭ই ডিসেম্বর এয়ারক্রাফটটির রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে একাধিক অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। নথি অনুযায়ী ১০ই ডিসেম্বরের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ মাত্র দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার মধ্যে শেষ করা হয়। তবে বোয়িং ৭৮৭-৯ বিমানের জন্য নির্ধারিত সময়ের তুলনায় এটি অস্বাভাবিকভাবে কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এয়ারক্রাফটটির ত্রুটি নির্ণয় বা কার্যকারিতা পরীক্ষার বিস্তারিত লগ এবং সংশ্লিষ্ট জনবল রেকর্ড উপস্থাপন করতে না পারাকে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে চিহ্নিত করেছে তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ছিল না। ১৫ দিনের মধ্যে একই ত্রুটি তিনবার দেখা দিলেও সেটিকে পুনরাবৃত্তিমূলক ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। বিমানের সিস্টেম সাধারণত শেষ ২৭টি ফ্লাইটের তথ্য সংরক্ষণ করে। তবে তদন্ত শুরুর সময় পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। এতে গুরুত্বপূর্ণ যান্ত্রিক তথ্য সময়মতো সংগ্রহ বা সংরক্ষণ করা হয়নি বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

২১শে ডিসেম্বর লন্ডন থেকে সিলেটগামী বিজি-২০২ ফ্লাইট আকাশে থাকার সময় আবারো ভিএফএসজি বিকল হয়ে যায়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন ত্রুটির কারণে অগ্নিকাণ্ড বা গিয়ারবক্সের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। প্রকৌশল বিভাগের ভুলত্রুটি নির্ণয়ের কারণে এমন একটি বিমান ভিভিআইপি ফ্লাইটে ব্যবহৃত হওয়ায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বারবার যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন, অন্য বিমান থেকে যন্ত্রাংশ খুলে আনা, অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ এবং পরিবহন ব্যয়ের কারণে মোট প্রায় ২৬ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির মতে, এটি কেবল একটি যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপনের ঘটনা নয়, বরং পুরো ব্যবস্থাপনার একটি সমন্বিত ব্যর্থতার প্রতিফলন। কমিটির মতে, ত্রুটি সংশোধন ও বিমানকে পুনরায় পরিষেবায় ফেরত দেয়ার ক্ষেত্রে তারা যথাযথ সতর্কতা ও যাচাই-বাছাই করেননি। বিশেষ করে কম ফুয়েল প্রেসারে সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও বিমানটিকে ফ্লাইটের জন্য ছাড়পত্র দেয়াকে গুরুতর সিদ্ধান্তগত ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে দায় নির্ধারণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

Raihan

৪ মাস আগে

অধিকতর তদন্ত করা দরকার। বিপদের ই্্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

Faruki

৪ মাস আগে

Just wake up and posted this time ha ha ha.

Mohammed idris Mohammed

৪ মাস আগে

ষড়যন্ত্র থেমে নেই কিন্তুু আমাদের প্রধান মনত্রী সেটা কেয়ার করতেছে না।এটা যে কত বড় ভূল তার অনুধাবন করা উচিৎ। তার খেয়াল করা উচিৎ এটা ব্রিটেন না এটা বাংলাদেশ। এইদেশে এক কাপ একটা সিগারেট একটা পান খাওয়ানোর পর এইদেশে অনেক বড় সার্থ হাসিল করা যায়। তাই সাবধানে চলাপেরা করা উচিৎ মানীয় প্রধান মনত্রীরীর।

Abdul Matin Sikder

৪ মাস আগে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই বিমান দুর্ঘটনায় হত্যার ছক কষা হয়েছিলো কিনা? অতি গুরুত্ব সহকারে তার তদন্ত করা উচিৎ। বিমানটির মেরামতের অবহেলা সহ লক্কর ঝক্কর বিমানটি দিয়ে তারেক রহমানের পুরো পরিবারের ফ্লাইট পরিচালনা করার সাথে ভারত, জামাত, এনসিপি এবং গুপ্তলীগের সংশ্লিষ্টতা ছিলো কিনা? তাও খুজে দেখা জরুরী।

মন্তব্য করুন