সিডনিতে কবরস্থানে হামলা-ভাঙচুর, মুসলিম কমিউনিটিতে উদ্বেগ

সিডনিতে কবরস্থানে হামলা-ভাঙচুর, মুসলিম কমিউনিটিতে উদ্বেগ

ফন্ট সাইজ:

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নারেলানে আল নূর ইসলামিক কবরস্থানে একাধিক কবরের হেডস্টোন ও স্মৃতিচিহ্ন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঘটনাটি নজরে আসার পর তদন্ত শুরু করেছে নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। ঘটনার উদ্দেশ্য বা এটি ইসলামবিদ্বেষী হামলা কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো কোনো চূড়ান্ত বক্তব্য দেয়নি।

ইতোমধ্যে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন (এলএমএ)। সংগঠনটির সেক্রেটারি গামেল খেইর বলেন, কবরের ওপর হামলা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। জীবিত মানুষের পাশাপাশি মৃতদের মর্যাদাও রক্ষা করা জরুরি। এ ধরনের ঘটনা সমাজে বিভাজন ও উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
এক বিবৃতিতে অ্যাসোসিয়েশন (এলএমএ) বলেছে, ক্ষতিগ্রস্ত কবরগুলোর মধ্যে মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি ও সন্তানদের কবর রয়েছে। তারা সবাই মুসলিম অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক ছিলেন। মৃত্যুর পরও তাঁদের কবর অন্য যেকোনো অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকের মতোই মর্যাদা ও সম্মানের দাবিদার।

সংগঠনটি আরও বলেছে, কবর ভাঙচুরের কারণে স্বজনরা প্রিয়জনের সমাধিতে গিয়ে গভীর মানসিক কষ্টের মুখোমুখি হচ্ছেন। অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, একই কবরস্থানে এর আগেও মুসলিম কবরের ওপর শূকরের মাথা ও অবশিষ্টাংশ নিক্ষেপের পৃথক ঘটনা ঘটেছিল। তবে আগের ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রতিক ভাঙচুরের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

অ্যাসোসিয়েশন ঘটনাটিকে মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষের একটি উদ্বেগজনক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, ধর্মীয় বিদ্বেষকে কোনোভাবেই হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। সংগঠনটি দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে এবং এ বিষয়ে এনএসডব্লিউ পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার কথা জানিয়েছে।

এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত কবরগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা বাড়াতে কবরস্থানে নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন ও অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের কাজও এগিয়ে চলছে। এ উদ্যোগে সহযোগিতার জন্য মাল্টিকালচারালিজম বিষয়ক মন্ত্রী স্টিভ ক্যাম্পার ও মাল্টিকালচারাল এনএসডব্লিউ-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন।
অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন অব ইসলামিক কাউন্সিলস (এএফআইসি)ও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটি ধর্মীয় বিদ্বেষ, বর্ণবাদ ও ঘৃণার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।