যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘নিয়ন্ত্রণে আসছেই না আইনশৃঙ্খলা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, গণ-অভ্যুত্থানে পরাজিত শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে দেশে এক ধরনের ‘ভয়ের সংস্কৃতি’ চালু ছিল। বলা হতো, বাংলাদেশ একটি ‘পুলিশি রাষ্ট্রে’ পরিণত হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে উলটো পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। কারণ পুলিশকে কেউ ভয় পায় না এমন আলোচনা এখন জনমনে চালু হয়েছে। ফলে শত শত অপরাধীকে গ্রেফতার করা হলেও কেন জানি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। অনেকের মতে, ভয়ের সংস্কৃতির বদলে তোয়াক্কা না করার (ড্যাম কেয়ার) সংস্কৃতি চালু হয়েছে। ফলে পুলিশ দেখলে পালানোর পরিবর্তে অনেক জায়গায় পুলিশই হামলার শিকার হচ্ছে।
সর্বশেষ বুধবারও মিরপুরে ফুটপাতে হকার উচ্ছেদের ঘটনায় পুলিশের গাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। ওই ঘটনায় মিরপুর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আগুন দেওয়া হয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কয়েকটি গাড়িতে। ভাঙচুর করা হয় উচ্ছেদ কাজে ব্যবহৃত এক্সকেভেটর (ভেকু) এবং পুলিশের গাড়ি। অনেকের মতে, অবস্থা এখন এমন পর্যায়ে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রতিনিয়তই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার এমন চিত্রকে চরম উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মিরপুরের ঘটনার আগে বৃহস্পতিবার রাতে ‘রাড্ডা ম্যাটার্নাল অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ-ফ্যামিলি প্ল্যানিং সেন্টারে’ অতর্কিত হামলা চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। শুধু তাই নয়; ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একজন সংসদ-সদস্যের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলমান রয়েছে। এর একদিন পরে শনিবার রাতে ইসিবি চত্বরসংলগ্ন দক্ষিণ মানিকদীর নিউ গিনি প্রপার্টিজে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুরসহ সেখানে তাণ্ডব চলে। সাবেক সেনা কর্মকর্তা গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় ৭ জনকে। এছাড়া মোহাম্মদপুরে জমি দখলের উদ্দেশ্যে সশস্ত্র মব হামলা, আদাবরে আটতলা বাড়ি কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক সংঘর্ষসহ বেশকিছু ঘটনা গত কয়েকদিনে ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’তে পরিণত হয়। এসব ঘটনা সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে। তবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য সরকারের তরফ থেকে ব্যাপক তৎপরতা দৃশ্যমান হয়েছে। বুধবার একদিনেই বিভিন্ন অভিযোগে রাজধানী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে চার শতাধিক অপরাধীকে।
সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান মঙ্গলবার সচিবালয়ে বলেন, এসব হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনায় সরকার চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী চরম অস্থিতিশীল বা নৈরাজ্যিক পরিস্থিতি থেকে দেশ এখন অনেকটাই বেরিয়ে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীকে অত্যন্ত কঠিন এক অবস্থার মধ্য দিয়ে পুনরায় স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কিছু অপরাধ বাড়লেও কিছু ক্ষেত্রে কমেছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে যাদের অপরাধ নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধেই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পুলিশ বাহিনীতে চরম বিপর্যয় তৈরি হয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের চেষ্টা চলে। কিন্তু সেই অর্থে আজও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি পুলিশ। ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ ঘোষণা দেন, দেশে আর মব সন্ত্রাস থাকবে না। পরিস্থিতি দ্রুতই উন্নতি হবে। সে লক্ষ্যে কিছু পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়। পুলিশ বাহিনীকে পেশাদার ও জনবান্ধব হিসাবে গড়ে তোলার জন্য নেওয়া হয় নানা উদ্যোগ। অপরাধীদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিস্থিতি উন্নয়নের চেষ্টা করা হয়। চলমান রয়েছে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাং দমনে সাঁড়াশি অভিযান। প্রতিনিয়ত গ্রেফতার করা হচ্ছে শত শত অপরাধীকে। পুলিশ সদর দপ্তরে ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে মনিটরিং টিম। কিন্তু বাস্তবে এসবের সুফল মিলছে না। কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। একের পর এক নৃশংস ও বিশৃঙ্খল ঘটনায় জনমনে তীব্র আতঙ্ক, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ছে।
এমন পরিস্থিতিতে বুধবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নিয়ে সার্বিক দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিচার করা ঠিক হবে না। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ৯৯৯-এ ফোন পাওয়া মাত্রই পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল যাচ্ছে। দুষ্কৃতকারীদের গ্রেফতার করছে। সুতরাং, সরকারের কোনো দায়ভার বা ব্যর্থতা নেই। তিনি বলেন, সরকার বা পুলিশের ব্যর্থতা তখনই বলা যেত যদি আমরা ব্যবস্থা না নিতাম। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়মিত গ্রেফতার করা হচ্ছে। সামনে এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দুর্বৃত্ত দুর্বৃত্তই, তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না।’
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাৎ হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, সাম্প্রতিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ পুলিশ গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও চেকপোস্ট জোরদার করেছে। অপরাধপ্রবণ এলাকা ও অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে সে অনুযায়ী পুলিশি তৎপরতা চলছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতা নিয়ে অপরাধ প্রতিরোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে গত কয়েকদিনের ঘটনাবলি পর্যবেক্ষণ করলে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভঙ্গুর চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় বর্ডার গার্ড হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গলে তার নৃশংস ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও পুলিশ প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, অপরাধীরা নিয়ন্ত্রণে না আসার পেছনে কয়েকটি মৌলিক কারণ কাজ করছে। সাম্প্রতিক চাঞ্চল্যকর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তারা বলেন, প্রভাবশালী মহল কিংবা ক্ষমতাসীনদের মদদ ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম সম্ভব নয়। তাই অপরাধীদের দমনে শুধু গ্রেফতারই যথেষ্ট নয়, সরকারের পক্ষ থেকে শক্ত দৃষ্টান্ত স্থাপন করা প্রয়োজন। যা দেখে বাকি অপরাধীরা ভীত হয়। তারা মনে করেন, বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কঠোর ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম যুগান্তরকে বলেন, জনমনে স্বস্তি ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে সরকারের প্রতি মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বাড়বে। এ বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অপরাধী বা সন্ত্রাসীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় দেখা যাবে না। তাদের পেছনে যেসব মদদদাতা রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ বাহিনীর মনোবল ও প্রশাসনিক কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি প্রয়োগ করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, অতীতে অপরাধীরা আইন এবং পুলিশের প্রতি যে ভয় পেত, বর্তমানে সেই ভয়ের সংস্কৃতি পুরোপুরি অনুপস্থিত। যে কারণে একের পর এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, অপরাধী গ্রেফতারের খবর স্বস্তিদায়ক হলেও অপরাধের মূল শিকড়ে টান দিতে না পারলে পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। অপরাধীরা যখন দেখে যে, তাদের পেছনে কোনো না কোনো প্রভাবশালী বা রাজনৈতিক চক্রের অদৃশ্য হাত রয়েছে, তখন আইনের প্রতি তাদের শ্রদ্ধাবোধ কাজ করে না। অপরাধী যেই হোক না কেন, রাজনৈতিক পরিচয় উপেক্ষা করে আইনের আওতায় আনতে না পারলে এক সময় সরকারের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থার বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
প্রথম আলো
‘বিরোধীদের কর্মসূচির মুখে তৎপরতা বাড়াচ্ছে বিএনপি’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতার মধ্যে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে বিএনপি।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, মাঠে পাল্টা কর্মসূচির প্রস্তুতি নিতে সাংগঠনিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে ইতিমধ্যে ‘অঘোষিত’ কর্মসূচিও শুরু করেছে দলটি। তবে বিএনপির নেতারা বলছেন, কোনো চাপের কারণে নয়, বিরোধীদের ‘অপপ্রচার’ ও আওয়ামী লীগের তৎপরতার জবাব দিতেই তাঁরা কর্মসূচি করছেন।
বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অর্থনৈতিক সংকটসহ নানা চাপের মধ্যে হঠাৎ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে দলের ভেতরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। আগে থেকেই জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) কয়েকটি বিরোধী দল নানা কর্মসূচিতে রয়েছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি তাদের কর্মসূচিতে নতুন ইস্যু যুক্ত করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের তৎপরতাও বিএনপির নীতিনির্ধারকদের ভাবনায় ফেলেছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাস ও বাস-ট্রেনে অগ্নিসংযোগের পেছনে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করছেন বিএনপির নেতারা। এসব নিয়ে দলের ভেতরে উদ্বেগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
কালের কণ্ঠ
বিদেশগামী ৭১% কর্মীই ‘অদক্ষ’—এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া কর্মীদের প্রায় ৭১ শতাংশই সরকারি টিটিসি বা বেসরকারি প্রশিক্ষণকেন্দ্র—কোনো জায়গা থেকেই আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেই। চট্টগ্রামে আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ না থাকা কর্মীর হার ৯২ শতাংশ, রাজশাহী ও রংপুরে ৮৪ শতাংশ এবং ঢাকায় ৮৩ শতাংশ।
একই সময়ে বিদেশে যাওয়া কর্মীদের ৭০ থেকে ৭৪ শতাংশই আধাদক্ষ বা স্বল্প দক্ষ। ফলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়লেও দেশের প্রশিক্ষণব্যবস্থা এখনো সেই চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না।
বাংলাদেশ প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক কর্মী বিদেশে পাঠাচ্ছে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলেও বিদেশগামী কর্মীদের বড় অংশ এখনো আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ হয়ে উঠতে পারছে না।
অভিবাসী কর্মীদের সাধারণত পেশাজীবী, দক্ষ, আধাদক্ষ ও স্বল্প দক্ষ—এই চার ভাগে দেখা হয়। চিকিৎসক, প্রকৌশলী, স্থপতি, শিক্ষক, হিসাবরক্ষক, কম্পিউটার অপারেটর, ফার্মাসিস্ট ও নার্সদের মতো পেশাকে পেশাজীবী হিসেবে ধরা হয়। মেকানিক, ওয়েল্ডার, ইলেকট্রিশিয়ান, রংমিস্ত্রি, পাচক, ড্রাইভার, প্লাম্বার, গার্মেন্ট শ্রমিক ও সনদপ্রাপ্ত কেয়ারগিভারদের দক্ষ কর্মী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে কৃষক, মালি ও বিভিন্ন সহায়ক কাজের কর্মীরা আধাদক্ষ এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী, গৃহকর্মীসহ কিছু পেশা স্বল্প দক্ষ হিসেবে বিবেচিত হয়।
রামরুর ‘বাংলাদেশ হতে শ্রম অভিবাসনের গতি-প্রকৃতি ২০২৫ : অর্জন ও চ্যালেঞ্জসমূহ’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের অভিবাসন মূলত আধাদক্ষ ও স্বল্প দক্ষ শ্রমবাজারনির্ভর। ২০২৫ সালে মাত্র ৩-৪ শতাংশ পেশাজীবী, ২০ থেকে ২২ শতাংশ দক্ষ এবং ৭০ থেকে ৭৪ শতাংশ আধাদক্ষ বা স্বল্প দক্ষ কর্মী বিদেশে গেছেন।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব রিপ্যাট্রিয়েটেড বাংলাদেশি এমপ্লয়িজ (ওয়ারবি) ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণায় বিদেশগামী কর্মীদের আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণার হিসাবে, সরকারি টিটিসি বা বেসরকারি প্রশিক্ষণকেন্দ্র—কোনো জায়গা থেকেই প্রশিক্ষণ না নিয়ে বিদেশে যাচ্ছেন প্রায় ৮৭ শতাংশ কর্মী। ৭১ শতাংশের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছিল না।
চট্টগ্রামে এই হার ৯২ শতাংশ, রাজশাহী ও রংপুরে ৮৪ শতাংশ এবং ঢাকায় ৮৩ শতাংশ। গবেষণায় আরো দেখা গেছে, বিদেশে গমনেচ্ছু কর্মীদের মধ্যে টিটিসিতে যাঁরা ভর্তি হন, তাঁদের প্রধান উদ্দেশ্য বিদেশে যাওয়া নয়। ৭৮.৭ শতাংশ প্রশিক্ষণার্থী মূলত দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বিদেশে চাকরির আশায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন মাত্র ৩৭.৯ শতাংশ কর্মী। প্রায় ৭.৪ শতাংশ প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণকালীন সম্মানী পাওয়ার জন্য ভর্তি হয়েছেন। ফলে টিটিসির প্রশিক্ষণব্যবস্থার সঙ্গে বিদেশমুখী কর্মসংস্থানের সরাসরি যোগসূত্র এখনো সীমিত।
তথ্য বলছে, টিটিসির প্রশিক্ষণার্থীদের ৫০.৯ শতাংশ শিক্ষার্থী এবং ১৯.৩ শতাংশ বেকার। বিপরীতে ইলেকট্রিশিয়ান, চালক বা মেকানিকের মতো সরাসরি দক্ষ পেশায় থাকা প্রশিক্ষণার্থীর হার খুবই কম। গবেষকদের মতে, এতে টিটিসির প্রশিক্ষণের সঙ্গে তাৎক্ষণিক কর্মসংস্থান ও বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতির মধ্যে বড় ফাঁক স্পষ্ট হয়।
টিটিসিতে প্রশিক্ষকসংকট: শুধু প্রশিক্ষণ নেওয়ার হার কম নয়, প্রশিক্ষণ দেওয়ার সক্ষমতার ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়েছে। গবেষণায় ৪০টি টিটিসির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে ৭৩টি অনুমোদিত পদ থাকলেও প্রায় ৩৬টি পদ শূন্য। এর মধ্যে প্রশিক্ষকের অনুমোদিত পদের গড়ে ২১টি শূন্য। কোনো কোনো কেন্দ্রে একজন প্রশিক্ষকের বিপরীতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক হাজারেরও বেশি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশগামী কর্মীদের জন্য দেশভিত্তিক ও পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ চালু করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী কারিকুলাম ও যন্ত্রপাতি উন্নয়ন, প্রশিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানো, দক্ষতার মানসম্মত সনদ চালু এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীদের তথ্যভিত্তিক ডিজিটাল ডেটা বেইস তৈরির সুপারিশ করা হয়েছে। টিটিসির চাকরি দেওয়ার কার্যক্রমকে বিদেশি শ্রমবাজারের চাহিদা ও নিয়োগ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে। প্রশিক্ষণ নেওয়া কর্মীরা বিদেশে গিয়ে একই পেশায় কাজ করছেন কি না, সেই তথ্যও পর্যাপ্ত নেই। সিপিডির গবেষণায় দুই হাজার ১৭৮ জনের মধ্যে বিদেশে যাওয়া কর্মী খুঁজে পাওয়া যায় মাত্র ১৫ জন। তাঁদের কেউ ওয়েল্ডিং, কেউ মেশিনের কাজে, কেউ হোটেল ম্যানেজমেন্টে ছিলেন। কেউ টিটিসিতে নেওয়া প্রশিক্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাজ করছিলেন, আবার কেউ প্রশিক্ষণ নিয়েও ভিন্ন পেশায় কাজ করছিলেন।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘সার ডিলার নিয়োগের তদবিরে এমপিরাও, নানামুখী অভিযোগ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তদবির, রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে পছন্দের প্রার্থীর নাম তালিকায় তোলার চেষ্টা, কোথাও ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগও সামনে আসছে। এর মধ্যেই কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রতিদিন ডিলার নিয়োগের তদবিরে আসছেন সংসদ সদস্য (এমপি), রাজনৈতিক নেতা জনপ্রতিনিধিরা।
কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, আবেদনকারীদের নির্ধারিত যোগ্যতা ও নীতিমালা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। রাজনৈতিক সুপারিশের ভিত্তিতে কাউকে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। তবে মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, যাচাই-বাছাইয়ের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা বিভিন্ন মহল থেকে সুপারিশও পাচ্ছেন। পরিস্থিতির কারণে কেউ কেউ ফোন ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন।
সারাদেশে প্রায় পাঁচ হাজার নতুন সার ডিলার নিয়োগ দেবে সরকার। এ জন্য আবেদন পড়েছে ৪৫ হাজার ৯৫টি। অর্থাৎ প্রতি ডিলারশিপের বিপরীতে গড়ে ৯টি আবেদন জমা পড়েছে।
গত ২৭ আগস্ট সার ডিলার নিয়োগে আবেদন আহবান করে কৃষি মন্ত্রণালয়। নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় একজন নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। ফলে আবেদনকারীদের মাত্র ৯ শতাংশ ডিলারশিপ পাবেন।
নীতিমালা অনুযায়ী, উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি প্রাথমিক যাচাই শেষে প্রতি ইউনিয়নের জন্য তিনজন যোগ্য প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করে। জেলা কমিটির যাচাই শেষে এসব প্রস্তাব কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটিতে পাঠানো হয়। কেন্দ্রীয় কমিটি আবেদন ও তথ্য যাচাই করে প্রতি ইউনিয়নে একজনকে সার ডিলার হিসেবে মনোনয়ন দেবে।
সচিবালয়ে তদবির
গত ১০ সেপ্টেম্বর নতুন ডিলার নিয়োগের আবেদন জমা দেওয়ার সময় শেষ হওয়ার পর থেকেই কৃষি মন্ত্রণালয়ে তদবিরকারীদের আনাগোনা বেড়েছে। গত কয়েক দিনে কৃষিমন্ত্রী ও কৃষি সচিবের দপ্তরের সামনে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও আবেদনকারীর ভিড় মদেখা গেছে।
মঙ্গলবার ও গতকাল বুধবার দুপুরের দিকে কৃষিমন্ত্রীর দপ্তরে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। কর্মকর্তারা জানান, সারের ডিলার নিয়ে রাজনৈতিক নেতা ও সংসদ সদস্যরা সাক্ষাৎ করতে আসছেন। এতে তিনি বেশ বিব্রত। দপ্তরে বসতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না।
মন্ত্রীর দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন এলাকার রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিয়া ডিলার নিয়োগ-সংক্রান্ত বিষয়ে আসছেন। তাদের কেউ সরাসরি নিজ এলাকার আবেদনকারীর নাম নিয়ে আসছেন, আবার কেউ স্থানীয় নেতাদের সুপারিশপত্র বা আবেদন-সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে যোগাযোগ করছেন। অনেকে কৃষিমন্ত্রীকে দপ্তরে না পেয়ে কৃষি সচিবের কাছে গিয়ে তদবির করছেন। সচিবের দপ্তর কৃষি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা লোকজনের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্রের দাবি, গত রোববার থেকে চলতি সপ্তাহে অর্ধশতাধিক সংসদ সদস্য কৃষিমন্ত্রী ও কৃষি সচিবের সঙ্গে দেখা করেছেন। তাদের বড় একটি অংশ নিজ নিজ এলাকার পছন্দের ব্যক্তিকে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন।
ইত্তেফাক
‘মিরপুরে উচ্ছেদ ঘিরে সংঘর্ষ’—এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, গতকাল বুধবার রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হকার ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পালটাধাওয়া, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডিএনসিসির অন্তত দুটি ময়লার গাড়িতে আগুন এবং উচ্ছেদ অভিযানে ব্যবহূত ভেকু ও পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এর আগে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের পাশে আগুনে পাঁচটি দোকান পুড়ে যায়। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও হোপ মার্কেট এলাকায় ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। অভিযানের একপর্যায়ে বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের পশ্চিম পাশে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর পুলিশের মিরপুর জোনের সহকারী কমিশনার আবুল বাশার বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার সেল নিক্ষেপ করেছে। পুলিশ বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় ৩০ জনকে আটক করেছে।
আগুনে পুড়ে যাওয়া পাঁচ দোকানের একটি দোকানি মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ফুটপাতের অংশ ভাঙতে গিয়ে সিটি করপোরেশনের লোকজন মার্কেটের সীমানার ভেতরে ভেকু ঢোকান। সেখানে বৈদ্যুতিক লাইন থাকায় শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে তার দাবি।
শরিফুল বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম, এটা মসজিদের কাজের জায়গা। এখানে হাত দেবেন না। তারপরও তারা ভেতরে এসে হস্তক্ষেপ করেছেন। এতে আমাদের বড় ক্ষতি হয়ে গেল।’
তিনি জানান, সেখানে মোট পাঁচটি দোকান ছিল। এসব দোকানে নারী ও শিশুদের পোশাক, জুতা এবং অলংকারসহ বিভিন্ন পণ্য ছিল। আগুনে দোকানগুলোর মালামাল পুড়ে যায়। দোকানগুলোর আয় দিয়েই সংশ্লিষ্টদের সংসার চলত বলে জানান তিনি।
ক্ষয়ক্ষতির দায় কে নেবে—এমন প্রশ্ন তুলে শরিফুল বলেন, ‘এ দোকানই আমাদের একমাত্র আয়ের উত্স। আয় বন্ধ করে দিয়ে গেলে বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা কে করবে।’ তবে আগুনের পরের ঘটনা নিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, হকারদের একটি অংশ ক্ষুব্ধ হয়ে ডিএনসিসির গাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। পরে তাদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে।
আগুনের ঘটনার পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হকার ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের একটি অংশ পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। একপর্যায়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেট এলাকা পর্যন্ত ধাওয়া-পালটাধাওয়া শুরু হয়।
ডিএনসিসির এক কর্মকর্তা জানান, সংঘর্ষের সময় সিটি করপোরেশনের দুটি ময়লার গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং তিনটি বুলডোজার ভাঙচুর করা হয়। পুলিশের একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিকও হেনস্তার শিকার হন। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘গঙ্গা চুক্তিতে নতুন সমীকরণ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আবারো একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ১২ ডিসেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে। চুক্তির শেষ প্রান্তে পৌঁছে ঢাকার স্পষ্ট অবস্থান- পুরনো চুক্তি স্রেফ নবায়ন নয়; বরং নতুন ও অধিকতর কার্যকর একটি চুক্তি সম্পাদন। বাংলাদেশের প্রাথমিক ও মূল দাবিগুলোর একটি হলো-নতুন চুক্তিতে একটি সুনির্দিষ্ট আইনি ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যাতে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের ন্যায্য অংশের পানি পাওয়ার পূর্ণ নিশ্চয়তা থাকে।
অন্য দিকে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গঙ্গার মতো অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন সংক্রান্ত যাবতীয় আলোচনা যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। নয়াদিল্লি আরো উল্লেখ করেছে, চুক্তি সংক্রান্ত কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকগুলো বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গত ২৯ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে নয়াদিল্লির এই সতর্ক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে আলোচনার পথ খোলা থাকলেও মূল কূটনৈতিক প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে- নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশ যে কার্যকর ন্যূনতম পানিপ্রবাহের নিশ্চয়তা চাইছে, ভারত শেষ পর্যন্ত তা কতখানি গ্রহণ করতে প্রস্তুত?
চুক্তির মেয়াদ শেষ প্রান্তে
১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তিটি প্রতি বছর জানুয়ারি থেকে মে- এই পাঁচ মাসের চরম শুষ্ক মৌসুমে কার্যকর থাকে। বাংলাদেশ সরকারের যৌথ নদী কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭ থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে চুক্তিটি বাস্তবায়িত হয়ে আসছে।
চুক্তির মূল কাঠামোগত ভিত্তি হলো-ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজে গঙ্গার পানিপ্রবাহ পরিমাপ করে একটি নির্ধারিত গাণিতিক সূত্র অনুযায়ী দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টন করা।
চুক্তির পরিশিষ্ট-১ অনুযায়ী পানি বণ্টনের সূত্র হলো: ফারাক্কা পয়েন্টে পানিপ্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম হলে ভারতের অংশ ৫০% এবং বাংলাদেশের অংশ ৫০%। আর পানিপ্রবাহ ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার কিউসেক হলে বাংলাদেশ পাবে ৩৫ হাজার কিউসেক এবং ভারত পাবে অবশিষ্ট প্রবাহ। ফারাক্কা পয়েন্টে পানিপ্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেক বা তার বেশি হলে ভারত পাবে ৪০ হাজার কিউসেক এবং বাংলাদেশ পাবে অবশিষ্ট প্রবাহ। এর পাশাপাশি, ১১ মার্চ থেকে ১০ মে’র মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশ বিকল্প বা চক্রানুক্রমিক (ৎড়ঃধঃরড়হধষ) পদ্ধতিতে তিনটি ১০ দিন মেয়াদি চক্রে ৩৫ হাজার কিউসেক করে পানি পাওয়ার একটি বিশেষ সুবিধা পায়। তবে এখানেই ঢাকার বর্তমান দাবির সাথে ১৯৯৬ সালের কাঠামোর একটি মৌলিক ও ঐতিহাসিক পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
চুক্তিতে যে ‘গ্যারান্টি’ অনুপস্থিত
বাংলাদেশের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো ন্যূনতম প্রবাহ নিশ্চিত করার মতো পূর্ণাঙ্গ গ্যারান্টি ক্লজ রাখা হয়নি।
১৯৯৬ সালের চুক্তির অনুচ্ছেদ ২-এ বলা হয়েছে, ফারাক্কায় কোনো ১০ দিনের চক্রে মোট পানিপ্রবাহ যদি ৫০ হাজার কিউসেকের নিচে নেমে যায়, তবে উভয় দেশ জরুরি ভিত্তিতে আলোচনায় বসে পরিস্থিতি সমন্বয়ের উদ্যোগ নেবে। অর্থাৎ, পানিপ্রবাহ সঙ্কটজনক পর্যায়ে নামলে বাংলাদেশকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি নির্দিষ্ট ন্যূনতম পরিমাণ পানি দেয়ার বাধ্যবাধকতা রাখার বদলে কেবল আলোচনা ও পারস্পরিক সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হয়েছিল।
বণিক বার্তা
‘পাঁচ বছরে দেশ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ প্রত্যাবাসন করেছে বিদেশী কোম্পানিগুলো’—এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশী কোম্পানির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের বিনিয়োগকারীদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ মুখপাত্র।
বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিদেশী দুই শতাধিক কোম্পানি। প্রতি বছরই এ কোম্পানিগুলো বিপুল অংকের অর্থ নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, কেবল গত পাঁচ অর্থবছরে (২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬) বিদেশী কোম্পানিগুলো লভ্যাংশ, মুনাফা ও আয় হিসেবে ৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন বা ৬১৫ কোটি ডলার নিজেদের দেশে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশী মুদ্রার গড় বিনিময় হারের ভিত্তিতে প্রত্যাবাসনকৃত এ অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা। অর্থ প্রত্যাবাসনের শীর্ষে টেলিযোগাযোগ, তেল, গ্যাস, খনিজ ও বিদ্যুৎ, তৈরি পোশাক ও বস্ত্র, ব্যাংক, বীমা ও লিজিং এবং অন্যান্য খাতের কোম্পানি রয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।
ডলার সংকটের কারণে কয়েক বছর দেশে ব্যবসারত বহুজাতিক কোম্পানিগুলো লভ্যাংশ প্রত্যাবাসন, রয়্যালটি ফি পরিশোধ ও বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেনে সমস্যার মুখে পড়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, কভিডের সময় ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রত্যাবাসন হয়েছিল ১৩৮ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। আলোচ্য অর্থবছরের গড় বিনিময় হার অনুসারে এর পরিমাণ ১২ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। এর পরের বছর ২০২২-২৩-এ তা প্রায় ৫২ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৬৬ কোটি ৫ লাখ ডলারে, বাংলাদেশী মুদ্রায় যা ৭ হাজার ১ কোটি টাকা। ওই সময় দেশে তীব্র ডলার সংকট ছিল এবং বিনিময় হার ৯৩ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে বেড়ে ১০৬ টাকায় উঠে যায়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রত্যাবাসন আবার বেড়ে হয় ১১১ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। গড় বিনিময় হার অনুসারে এর পরিমাণ ১৩ হাজার ২১০ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রত্যাবাসনের পরিমাণ গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫২ কোটি ৪৩ লাখ ডলারে (১৮ হাজার ৭১৪ কোটি টাকা) পৌঁছায়। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাবাসন হয়েছে ১৪৬ কোটি ৩ লাখ ডলার (১৭ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা), যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৪ শতাংশ কম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট অন্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ২০২২ সালের মাঝামাঝি থেকে দেশে ডলার সংকট শুরু হয়। আর ২০২৩ সালে তা তীব্র আকার নেয়। এ কারণে ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিন বছর বিদেশী অনেক কোম্পানি মুনাফা প্রত্যাবাসন করতে পারেনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দিক থেকেও এ বিষয়ে বিধিনিষেধ ছিল। এ কারণে ২০২২-২৩ অর্থবছরে মুনাফা প্রত্যাবাসন মাত্র ৬৬ কোটি ডলারে নেমে আসে। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে মুনাফা প্রত্যাবাসনে বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়। এতে ২০২২ সালসহ পরবর্তী তিন বছরের মুনাফাও গত বছর প্রত্যাবাসন হয়েছে। এ কারণে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রত্যাবাসনকৃত অর্থের পরিমাণ দেড় বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।
বিদেশী কোম্পানিগুলোর বিপুল মুনাফা প্রত্যাবাসনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে বিদেশী কোম্পানিগুলোর বিপুল পরিমাণ মুনাফা প্রত্যাবাসনের অর্থ হলো এ দেশে বিনিয়োগ করলে ভালো মুনাফা করা যায়। আমরা অন্য বিদেশী কোম্পানিগুলোকেও আহ্বান করব, আপনারা বাংলাদেশে বিনিয়োগে এগিয়ে আসুন। এখানে ব্যবসা উপযোগী পরিবেশ, খাত ও মুনাফা করার যথেষ্ট সুযোগ আছে।’
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘৮ হাজার কোটির পাইপলাইন: চালুর আগেই শেষ গ্যারান্টির মেয়াদ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাগরে বড় জাহাজ থেকে তেল খালাস করে সরাসরি ডিপোতে আনার জন্য নির্মাণ করা হয় সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং উইথ ডাবল পাইপলাইন (এসপিএম)। কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে বঙ্গোপসাগরের তলদেশ দিয়ে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ডিপো পর্যন্ত টানা হয়েছে ১১০ কিলোমিটার লম্বা এই পাইপলাইন। এই প্রকল্পে ব্যয় করা হয় ৮ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। চীনের প্রতিষ্ঠান চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (সিপিপিইসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে।
তবে দুই বছর আগে ২০২৪ সালের মার্চে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও অপারেটরের অভাবে পাইপলাইন চালু করতে পারেনি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এরই মধ্যে প্রকল্পের কারিগরি ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্ধারিত ১৮ মাসের গ্যারান্টির মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে গত আগস্ট মাসে। এতে করে এখন এই প্রকল্পটিতে যান্ত্রিক বা অন্যান্য কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তার দায়িত্ব নেবে না নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সিপিপিইসি। সেই খরচ বিপিসির নিজস্ব তহবিল থেকেই করতে হবে।
এদিকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময়ও ঘনিয়ে আসছে। সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও এই প্রকল্পের ঋণের ৬৯০ কোটি টাকার কিস্তি পরিশোধ করতে হবে বিপিসিকে।
বিপিসি ও প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এই সংকট মোকাবিলা নিয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে বিপিসি। ইতিমধ্যে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অর্থ মন্ত্রণালয় বিপিসিকে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার বিনা সুদে ঋণ দেওয়ার সম্মতি দিয়েছে।
বিপিসির তথ্যমতে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ৬৯০ কোটি টাকার কিস্তি পরিশোধ করতে হবে প্রকল্পের ঋণ প্রদানকারী সংস্থাকে। এরই মধ্যে ঋণের ৩ হাজার ৭৭ কোটি টাকা পরিশোধও করেছে বিপিসি।
বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় চীনের সহজ শর্তের ঋণ, সরকারি অর্থ এবং বিপিসির অর্থায়নে এসপিএম প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। নির্মাণকাজ করেছে চীনের প্রতিষ্ঠান সিপিপিইসি। বাংলাদেশ সরকার ৫৯৬ কোটি টাকা, চায়না এক্সিম ব্যাংকের ঋণ হিসাবে ৫ হাজার ১১৬ কোটি এবং বিপিসির নিজস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ৫৮৫ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় এই পাইপলাইন।
বিপিসির সচিব শাহেনা সুলতানা আজকের পত্রিকাকে বলেন, এসপিএম প্রকল্পটি দেখাশোনা করে সরকারি প্রতিষ্ঠান পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কোম্পানি পিএলসি (পিটিসিপিএলসি)।
পরে পিটিসিপিএলসির সচিব মো. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে এখনো এসপিএম প্রকল্পটি দাপ্তরিকভাবে হস্তান্তর করা হয়নি।’ এর বাইরে তিনি বিষয়টি নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে একটি সূত্র বলছে, ইতিমধ্যে প্রকল্পটির দায়িত্ব পিটিসিপিএলসিকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার মহেশখালীতে এসপিএম প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা পিটিসিপিএলসির উপমহাব্যবস্থাপক (অপারেশন অ্যান্ড প্ল্যানিং) জামান নাহিদ রায়হান আজকের পত্রিকাকে বলেন, গত ২৩ সেপ্টেম্বর এসপিএমের অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসপিএম চালু হতে আরও তিন থেকে চার মাস সময় লাগবে।
রায়হান জানান, এই প্রকল্পের কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে; যেগুলো অপারেশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। দীর্ঘদিন প্রকল্পটি ফেলে রাখার কারণে যন্ত্রাংশ বা লোহার ট্যাংকগুলো নষ্ট হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, ‘এগুলো নষ্ট হয়নি।’
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, এসপিএম প্রকল্প পরিচালনার জন্য পাঁচ বছরের জন্য অপারেটর হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা। বিপিসি নিজস্ব তহবিল থেকে এ অর্থ পরিশোধ করবে।
তথ্যমতে, এই প্রকল্পে প্রথম দিকে ৮০০ কোটি টাকার মতো সাশ্রয় করা যাবে বলে মনে করা হলেও অপারেটর নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতার কারণে তা করতে পারেনি বিপিসি। দুই বছর বিলম্বের কারণে সম্ভাব্য ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা যায়নি বলে বিপিসির একটি হিসাবে উঠে এসেছে।
দেশ রূপান্তর
‘সমাবর্তনের অপেক্ষা শেষ হয় না’—এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, চার বছর স্নাতক, এরপর এক বছর স্নাতকোত্তর ৫ বছরের শিক্ষাজীবন শেষে একজন শিক্ষার্থী অপেক্ষায় থাকে সেই মাহেন্দ্রক্ষণের, যেখানে গায়ে কালো গাউন, মাথায় সমাবর্তনের টুপি, আর আকাশে ছুড়ে দেওয়া সেই টুপির সঙ্গে একটি ছবিতে বন্দি করবে সেই স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত। কিন্তু দেশের কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো গ্র্যাজুয়েটের সেই স্বপ্ন এখনো অধরা। কেউ বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়েছেন এক দশকেরও বেশি আগে, কেউ চাকরি করছেন, কেউ বিদেশে উচ্চশিক্ষায় গেছেন; অথচ এখনো পাননি সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
শিক্ষাজীবনের শেষ ধাপ পেরিয়েও সমাবর্তনের অপেক্ষায় বছরের পর বছর বসে আছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা। কারও অপেক্ষা ১৮ বছর, কারও ১৭ বছর। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে একবারও সমাবর্তন হয়নি প্রতিষ্ঠার পর। আবার কোথাও প্রথম সমাবর্তন হওয়ার পর দ্বিতীয়টির জন্য অপেক্ষা গড়িয়েছে ছয় থেকে আট বছরে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে ৫৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে কমপক্ষে একবার সমাবর্তন হয়েছে এমন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা মাত্র ৩০টি। ২৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে কখনো সমাবর্তন আয়োজন হয়নি, যদিও এর মধ্যে ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হয়নি। মাত্র একটি সমাবর্তন হয়েছে ছয়টিতে। তিনবার বা তার বেশি সমাবর্তন হয়েছে এমন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা মাত্র ১০টি।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সমাবর্তন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত গ্র্যাজুয়েটদের মূল সনদ দেওয়া হয় না। এর পরিবর্তে একটি সাময়িক সনদ দেওয়া হয়। তবে এই সনদ নিয়ে নানা ভোগান্তিতে পড়ছেন গ্র্যাজুয়েট হওয়া শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সাময়িক সনদে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের স্বাক্ষর থাকে না; কেবল পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষর দেওয়া হয়। এতে চাকরি, উচ্চশিক্ষা কিংবা বিদেশে আবেদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে সনদটি ব্যবহার করতে গিয়ে অনেক সময় তাদের নানা ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান মূল সনদ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষরযুক্ত নথি চাইলে শিক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়েন।
এ ছাড়া সাময়িক সনদ তৈরিতে ব্যবহৃত কাগজের মান নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে। তাদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ একটি একাডেমিক নথি হিসেবে সনদটির কাগজের মান আরও উন্নত হওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘদিন মূল সনদ না পাওয়ায় এবং সাময়িক সনদ নিয়ে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে গ্র্যাজুয়েটদের চাকরি ও উচ্চশিক্ষার প্রক্রিয়ায় অনাকাক্সিক্ষত ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত সমাবর্তন আয়োজন এবং মূল সনদ প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।
উত্তরবঙ্গের বাতিঘর খ্যাত রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)। বিভাগের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হয় ২০০৮ সালে। প্রতিষ্ঠার দেড় যুগে ৬ জন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করলেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কপালে জুঠেনি একটি সমাবর্তনও। সমাবর্তন নিয়ে গত এক দশক ধরে বেরোবির প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা সামাজিক মাধ্যমে প্রশাসনের সমালোচনা করে লেখালেখি করলেও তা আমলে নেয়নি প্রশাসন। তবে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলী দায়িত্ব নেওয়ার পর সমাবর্তন আয়োজনের চেষ্টা শুরু করেন। রহস্যজনকভাবে তা আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ থাকে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন গত বছরের ২০ ডিসেম্বর আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে ওই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা থাকায় জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ লক্ষ্যে প্রথম থেকে দ্বাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছিল। পরে জাতীয় পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে সমাবর্তন স্থগিত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্রের দাবি, পর্যাপ্ত বাজেটের অভাবেও সমাবর্তন আয়োজন সম্ভব হয়নি। বেরোবির প্রাক্তন শিক্ষার্থী জসীম উদ্দিন বলেন, সমাবর্তন শুধু একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান নয়; একজন শিক্ষার্থীর কাছে এটি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পরিসমাপ্তির প্রতীক। কিন্তু বছরের পর বছর সমাবর্তন না হওয়ায় সেই মুহূর্ত থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো গ্র্যাজুয়েট।
দেড় যুগেও কেনো সমাবর্তন আয়োজন হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে বেরোবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা সমাবর্তন আয়োজনে বধ্যপরিকর। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আমরা সমাবর্তনের তারিখ ও অতিথি নির্ধারণ করি, কিন্তু শিক্ষার্থীরা প্রধান উপদেষ্টা ছাড়া অন্য কাউকে অতিথি হিসেবে মানতে রাজিনা হওয়ায় সমাবর্তনের প্রস্তুতি নিয়েও পিছু হটতে হয়। আমার মেয়াদে বেরোবিতে সমাবর্তন আয়োজনে আমি বড্ড পরিকর।
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) দেশের ২৯তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে ২০০৮ সালের ৫ জুন। এই বিশ্ববিদ্যালয় ১৮ বছরও সমাবর্তন অনুষ্ঠান আয়োজন করেনি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩০ একর জায়গা আছে এবং পঁছাটি অনুষদের অধীনে ২১টি বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান আছে। পাবিপ্রবি জনসংযোগ দপ্তরের উপপরিচালক মো. বাবুল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন আগামী বছরের ১৫/১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। আচার্য তথা রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সম্ভাব্য তারিখ ঠিক করা হয়েছে।
২০১১ সালে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এখন পর্যন্ত সমাবর্তন আয়োজন করতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক হোসেন উদ্দিন শেখর বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সমাবর্তন আয়োজনের চেষ্টা করলেও সফল হননি। প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, সমাবর্তন আয়োজনের জন্য প্রায় ২ কোটি টাকা প্রয়োজন ছিল, যা বার্ষিক বাজেটে থাকে না। বাজেটের জন্য আলাদা বরাদ্দ না পাওয়ায় আয়োজন সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘ফুটপাতে ৫ শতাধিক দখলদার’। প্রতিবেদনে বলা হয়, খোদ রাজধানী ঢাকার ফুটপাতে দোর্দণ্ড প্রতাপের সঙ্গে অপতৎপরতা চালাচ্ছে ৫ শতাধিক দখলবাজ। তারা আগে যেমন ছিল, এখনো তেমন আছে। তবে সময় পরিবর্তনে বদলে গেছে তাদের ছত্রছায়া। সব মিলিয়ে আগের মতোই তারা চাঁদার টাকা তুলছে। উপরন্তু বাড়িয়েছে নিয়ন্ত্রণ এলাকাও। এদিকে ফুটপাত দখলদারদের উচ্ছেদে নিজেদের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তাঁরা ইতোমধ্যে হুঁশিয়ার করেছেন, ফুটপাতের অবৈধ দখলদারদের বরদাশত করা হবে না। অন্যদিকে রাজধানী ঢাকার ফুটপাতে দখলদারদের নিয়ে সরেজমিন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ৫ শতাধিক দখলবাজের অধিকাংশই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও শীর্ষ সন্ত্রাসী। ফুটপাত ভাড়া দিয়ে লাখ লাখ টাকার উৎকোচ সংগ্রহের প্রশ্নে তারা সবাই এককাট্টা।
অনুসন্ধানের তথ্য বলছে, মিরপুর-১০ নম্বর হোপের গলি এবং পার্শ্ববর্তী ফুটপাতে দোকানের সংখ্যা ৭০০-৮০০। রোজ প্রতিটি দোকান থেকে ৪০০ টাকা চাঁদা এবং বৈদ্যুতিক বাতি বাবদ নেওয়া হয় ৫০ টাকা করে। এ অবৈধ আর্থিক সুবিধা মিরপুর থানার কর্মকর্তারাও পেয়ে থাকেন। মিরপুর-১০ নম্বরের আইডিয়াল স্কুল এবং সেনপাড়া পর্বতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের ফুটপাতে ৩০০-৪০০ দোকান আছে। এসব দোকান থেকে প্রতিদিন ২০০ টাকার পরও ৫০ টাকা করে বৈদ্যুতিক বাতি বাবদ নেওয়া হয়। রাড্ডার সামনে এবং ফায়ার সার্ভিসের সামনের ফুটপাতে দোকান আছে হাজারখানেক। এসব দোকান থেকে প্রতিদিন নেওয়া হয় ৩০০-৪০০ টাকা করে এবং বৈদ্যুতিক বাতির জন্য বাড়তি ৫০ টাকা। এসব চাঁদা তোলেন জামাল, হাসনাত, সুলতান, সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও বর্তমানে বিএনপি পরিচয়দাতা শাহাদাত ও আবু।
রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাত ভাড়া দিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদা ওঠানো হচ্ছে। বিশেষ করে নীলক্ষেত মোড়, গাউছিয়া, চন্দ্রিমা মার্কেট, নূরজাহান মার্কেট এলাকার ফুটপাত চাঁদা ওঠানোর মূল এলাকা। একাধিক সূত্র ও ফুটপাত দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নীলক্ষেত মোড়ের নিউমার্কেটের কোনা থেকে নিউমার্কেট ৪ নম্বর গেট ফুটওভার ব্রিজ পর্যন্ত ফুটপাত ভাড়া দিচ্ছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি আমীর হোসেন ও হারুন হাওলাদার। এ ফুটপাতে ৩ শতাধিক দোকান রয়েছে। প্রতি দোকান থেকে প্রতিদিন ১৫০-৩০০ টাকা চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। হকারদের কাছ থেকে টাকা তুলছেন মীজান, জহির, ইমরান নামে তিন লাইনম্যান।
ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের কোনা থেকে গ্লোব শপিং সেন্টার পর্যন্ত ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ করছেন নিউমার্কেটের প্রভাবশালী মীজান বেপারি ও বহিষ্কৃত নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে এম চঞ্চল চৌধুরী। চঞ্চলের হয়ে ফুটপাত থেকে প্রতিদিন চাঁদার টাকা তোলেন সুমন, মাহবুব ও ইখতিয়ার। গাউছিয়ার কোনা থেকে ইস্টার্ন মল্লিকা পর্যন্ত ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ করছেন প্রভাবশালী মো. সাইফুল ইসলাম ও ফকির আলমগীর। রাফিন প্লাজা থেকে চাঁদনি চক পর্যন্ত বাবুল মোল্লা নিয়ন্ত্রণ করেন। নীলক্ষেত জিলানী বই মার্কেট থেকে থানা মোড় পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করেন খান মনির। চন্দ্রিমা সুপার থেকে নায়েম গলি পর্যন্ত ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের বহিষ্কৃত পাঁচ নেতা জুলহাস মৃধা, সুমন শিকদার, প্রিন্স খন্দকার, সাগর খান ও মির্জা গোলাম রায়হানের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। নিউমার্কেটের ভিতরের ফুটপাত দখল করেও চলছে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য। গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, গুলশানে ফারুক ওরফে ভাগ্না ফারুক, লালন, সালাম মুন্সি, তফিকুল, খুররুম, নেহাল, কলিং মেহেদী, জিসান ও রাজু এবং বাড্ডায় আরিফ, আনোয়ার, সিরাজুল, শফিকুল, সায়হাম, জুয়েল, জীবন, ফারহান, ওমর খোইয়ান ও ফয়সাল ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ করে চাঁদাবাজি করছেন। এ ছাড়া পুলিশের এক নথি থেকে জানা গেছে, ধূপখোলা বাজার ও তৎসংলগ্ন মাঠের পাশে ফুটপাতে প্রায় ১৪২টি দোকান ঘিরে চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট গড়া হয়েছে। এটি নিয়ন্ত্রণ করেন প্রভাবশালী আবদুল হাকিম এবং মামুন।
শ্যামপুর মাইক্রো স্ট্যান্ডে প্রতিটি মাইক্রোবাস বা প্রাইভেট কার থেকে দৈনিক ৮০-১০০ টাকা তোলা হয়। প্রায় ২০০-২২০টি দোকানবিশিষ্ট শ্যামপুর কাঁচাবাজারেও চলে চাঁদাবাজি। শনিরআখড়া এলাকায় আয়েশা মোশাররফ মার্কেট থেকে জাপানি বাজার পর্যন্ত ২০০-২৫০টি দোকানের চাঁদা তোলেন ওই মার্কেটেরই ম্যানেজার মোবারক হোসেন। এটি নিয়ন্ত্রণ করেন আহসান হাবিব শওকত। শনিরআখড়া থেকে জিয়া সরণি পর্যন্ত এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করেন স্থানীয় প্রভাবশালী রিপন ও আসিফ মামুন।
সহযোগীদের খবর
নিয়ন্ত্রণে আসছেই না আইনশৃঙ্খলা
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন
১ ঘন্টা আগে
১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার), ২০২৬, ৯ঃ৫৪ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
