জিএমসহ চারজন বরখাস্ত মন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ

৫০৭ কোটির ভুতুড়ে বিল

জিএমসহ চারজন বরখাস্ত মন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ

ফন্ট সাইজ:

মাগুরায় এক আবাসিক গ্রাহককে ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে প্রায় ৫০৭ কোটি টাকার ভুয়া ও অবাস্তব বিদ্যুৎ বিল দেয়ার ঘটনায় ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বুধবার সকালে ওই গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। এ ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।

উল্লেখ্য, মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মোসা. আলেয়া খাতুনের নামে গত সেপ্টেম্বর মাসে ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা বিদ্যুৎ বিল ইস্যু করা হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়। বিষয়টি জানার পর মন্ত্রী অভিযোগটির তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, মিটার পরিবর্তনের সময় যান্ত্রিক অসাবধানতাবশত সিল নম্বরের অঙ্কগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হওয়ার কারণে এই অবিশ্বাস্য ভুতুড়ে বিল তৈরি হয়েছিল। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনবান্ধব ও সেবাধর্মী প্রশাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ইনশাআল্লাহ।

মাগুরা প্রতিনিধি জানান, অস্বাভাবিক এ বিল দেখে হতবাক গ্রাহক ও তার পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের মোসা. আলেয়া খাতুনের নামে গত সেপ্টেম্বর মাসে এ বিল ইস্যু করা হয়। তিনি ওই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী। বিলের কপি অনুযায়ী, গত ৮ই সেপ্টেম্বর মিটারের বর্তমান রিডিং ৩৯৫ এবং ৮ই আগস্টের পূর্ববর্তী রিডিং ১৬০। সে হিসাবে এক মাসে ওই গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে মাত্র ২৩৫ ইউনিট। অথচ এই বিদ্যুতের বিপরীতে ডিমান্ড চার্জ দেখানো হয়েছে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাটসহ মোট বিল দাঁড়িয়েছে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ তা বেড়ে দাঁড়াবে ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা। অথচ ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের বিপরীতে গ্রাহকের প্রকৃত বিল হওয়ার কথা মাত্র ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুলসহ যার পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৬ টাকা। গত ১০ই সেপ্টেম্বর ইস্যু করা বিলটির পরিশোধের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯শে সেপ্টেম্বর। বিলটিতে গ্রাহকের শ্রেণি উল্লেখ করা হয়েছে ‘এলটি-এ (আবাসিক)’। গ্রাহক মোসা. আলেয়া খাতুন বলেন, এটা শুধু ভুতুড়ে বিল নয়, আজগুবিও। বিদ্যুৎ বিভাগের খামখেয়ালিপনার কারণে গ্রাহকের দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তি বাড়ছে।

এ ধরনের ভুলের প্রতিকার হওয়া জরুরি। এ বিষয়ে শালিখা উপজেলার চুকিনগরে অবস্থিত মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসে গিয়ে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, গ্রাহকের মিটার পরিবর্তন হওয়ার কারণে ভুলবশত মিটারের সিল নম্বরের ডিজিটগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়ে যাওয়ায় এই অস্বাভাবিক বিলটি তৈরি হয়েছে। বিলটি সংশোধন করে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই দায়িত্বহীন ভুলের পেছনে যাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম, বরখাস্ত) মো. মহিতুল ইসলাম বলেন, টাইপিং মিসটেকের কারণে এমনটি হয়েছে। বিলটি সংশোধন করে দেয়া হয়েছে; উক্ত গ্রাহক বিলও পরিশোধ করেছেন। এ ভুলের সঙ্গে যারা জড়িত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ঘটনায় বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত ও যাচাই প্রক্রিয়ার দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গ্রাহকরা এমন ভুলের পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।