উন্নয়নের চাকা ঘুরছে সিলেটে

উন্নয়নের চাকা ঘুরছে সিলেটে

ফন্ট সাইজ:

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনের সময় সিলেট উন্নয়নের অনেক কাজই বেড়াজালে আটকা পড়েছিল। তখনকার সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা উন্নয়নের চাকা ঘুরাতে গিয়ে বার বার ব্যর্থ হয়েছেন। তখন বলা হয়েছিল— সিলেটবিদ্বেষী আমলারা এ অঞ্চলের উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। ফলে প্রকল্প হাতে নেয়া হলেও আমলাদের অসহযোগিতায় আলোর মুখ দেখতে পারেনি।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই পরিস্থিতি এখন পাল্টে গেছে। সিলেটকে উন্নয়নের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করেছেন বর্তমান মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীরা। সিলেট উন্নয়নের নানা কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির। এখনো দৃশ্যমান হচ্ছে না উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। তবে কাজ দৃশ্যমানের জন্য ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় নিয়েছেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। এ জন্য তারা কয়েক মাস ধৈর্য ধারনের জন্য সিলেটবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সিলেট যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে ঢাকা-সিলেট হাইওয়ে। ২০০৫ সালে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করেছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার সেটিকে ৬ লেনে উন্নীত করার জন্য ২০১৮ সালে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। এই প্রকল্পের কাজ ২০২৬ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তখনকার সরকার ভূমি অধিগ্রহণের কাজই শেষ করতে পারেনি। প্রকল্পের কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দেখা গেছে ১০ শতাংশ কাজই এগোয়নি। এই অবস্থায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক নিয়ে জনগণের মধ্যে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। এ মহাসড়কের কাজ এগিয়ে নিতে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

ইতিমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। গতকাল ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশের কাজ নিজেই পরিদর্শন করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এ প্রকল্পের কাজ এখন পুরোদমে চলছে। বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন— আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত কম করে হলেও এই প্রকল্পের সড়ক দৃশ্যমান হবে। আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ করা হবে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন— কেবলমাত্র ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণেই এ প্রকল্পের কাজে ধীরগতি হয়েছে। জমি না পাওয়ার কারণে বসে থাকতে হয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। বর্তমানে জমি পাওয়ায় কাজ এগিয়ে চলছে। সিলেট থেকে আখাউড়া পর্যন্ত রেললাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তরের কাজ শুরু হচ্ছে শিগগিরই। এ সংক্রান্ত প্রকল্প অনুমোদন চূড়ান্ত করা হয়েছে। আপাতত ডাবললাইন রেলওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনায় সরকার যাচ্ছে না। তবে কাজ শুরু হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডুয়েল গেজে সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা। গত সপ্তাহে সিলেটের ব্যবসায়ীদের একটি অনুষ্ঠানে সিলেট থেকে আখাউড়া পর্যন্ত রেললাইনের সুখবর দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি জানিয়েছেন— কাজ শেষ হলে সকালে সিলেট থেকে ঢাকায় গিয়ে বিকালে ফিরে আসা যাবে। যাতায়াতের সময় কমে গেলে সিলেটবাসী এ সুবিধা পাবেন। আকাশপথেও সিলেটে ফিরছে স্বস্তি। ওসমানী বিমানবন্দরের নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা বিগত সরকারের সময় গ্রহণ করা হয়েছিল। প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। এখন নতুন একটি টার্মিনাল নির্মাণকাজ চলছে। এই কাজেও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় মাঝপথে থমকে দাঁড়িয়েছিল। সেটি এখন শুরু হচ্ছে। কার্গো হাউজ অ্যাকটিভ রয়েছে। সবজি সহ কৃষিপণ্য রপ্তানি করতে ওয়্যারহাউজ নির্মাণ করা হচ্ছে। ওসমানীতে নামতে শুরু করেছে উড়োজাহাজ কোম্পানি। সালাম এয়ার অপারেট শুরু করেছে। পাইপলাইনে আছে এয়ার অ্যারাবিয়া ও ফ্লাইট দুবাই। নতুন করে তার্কিশ এয়ারের সুখবর দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির।

তিনি জানিয়েছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে তার্কিশ এয়ারের ফ্লাইট সিলেট থেকে যাত্রা শুরু করবে। একই সঙ্গে বিমানবন্দর আধুনিকায়নের কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এদিকে সিলেটের পূর্বাঞ্চলের মানুষের একমাত্র দুঃখ ছিল বোরহান উদ্দিন রোড। এ সড়কেরও সংস্কার করা শুরু করা হচ্ছে। শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গেল সপ্তাহে এ সড়কের সংস্কারকাজ শুরু করেছেন। চলতি মৌসুমে এ সড়কের কাজ শেষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে তার নির্বাচনী এলাকা সিলেট-৪ আসনের জাফলং পর্যন্ত রেলযোগাযোগ স্থাপনে প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় পর্যটনের জন্য সংযোগ সড়ক স্থাপনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন। তার নির্বাচনী এলাকায় আইসিটি পার্কে চীনের অর্থায়নে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট এক হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে বলেও জানান।

এদিকে সিলেট নগর উন্নয়নে ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনার কাজ শুরুর প্রক্রিয়া চলছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম সিলেট সফরে সুরমা নদীর দু’তীর সংরক্ষণ, সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করে গেছেন। এই কাজ শেষ হলে সিলেট মহানগর বন্যা, জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই পাবে বলে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন— সিলেট নগরের উন্নয়নে আরও কয়েকটি মেগা প্রকল্পও গ্রহণ করা হচ্ছে। নগরের পুরাতন কারাগারের স্থানে পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সিসিক জমি হাতে পেলে দ্রুতই পার্ক নির্মাণ করা হবে বলে জানান তিনি।