ভোট চুরি ইস্যুকে তৃণমূল স্তরে নিয়ে যেতে চাইছে ভারতের বিরোধী ইন্ডিয়া জোট

ভোট চুরি ইস্যুকে তৃণমূল স্তরে নিয়ে যেতে চাইছে ভারতের বিরোধী ইন্ডিয়া জোট

ফন্ট সাইজ:

নির্বাচন কমিশন অভিযান থেকে রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হওয়া, ভোট চুরি ইস্যুকে এবার ঐক্যবদ্ধভাবে তৃণমূল স্তরে নিয়ে যেতে চাইছে ভারতের বিরোধীদের ইন্ডিয়া জোট। বুধবার ২১টি দলের বৈঠক শেষে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ৬ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রণংদেহি ভঙ্গিতে ঘোষণা করেছেন, আমাদের ‘ওয়ান পয়েন্ট এজেন্ডা। জ্ঞানেশ কুমার মাস্ট রিজাইন।’
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রথম কর্মসূচি আগামীকাল ২রা অক্টোবর দেশের প্রতিটি
জেলায় ‘সেভ ডেমোক্রেসি’ ব্যানারে যৌথ মিছিল করা হবে।

দ্বিতীয় কর্মসূচি আগামী ৬ই অক্টোবর লোকসভা এবং রাজ্যসভার সব বিরোধী সাংসদরা নির্বাচন কমিশন অভিযান করবেন। তৃতীয় কর্মসূচি, সংসদে বিরোধী দলগুলোর নেতারা একযোগে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে নিজেদের সমস্যার কথা বলবে। চতুর্থ কর্মসূচি, দেশের পাঁচ বড় শহরে ভোট চুরি ইস্যুতে পাঁচটি বড় জনসভা হবে। পঞ্চম কর্মসূচি, নভেম্বরের শুরুতে দিল্লিতে মেগা জনসভা। তাতে একসঙ্গে অংশ নেবেন রাহুল গান্ধী-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা। ষষ্ঠ কর্মসূচি, আমজনতার কাছে গিয়ে মানুষকে বোঝানো।

এসআইআর প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের মতবিরোধ নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের জেরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে কোণঠাসা করার কৌশল নিয়ে বুধবার রাজধানী দিল্লিতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এসআইআর বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে জ্ঞানেশ কুমার ও বিজেপি’র বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মপরিকল্পনা এই বৈঠকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই বৈঠকের একদিন আগে কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকেও রণকৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কংগ্রেস জ্ঞানেশ কুমারকে বিজেপি’র পুতুল বলে অভিহিত করেছে।

নির্বাচন কমিশনের মতবিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্ডিয়া জোট নিজেদের মতপার্থক্য দূর করে জোটবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এরই মধ্যে আম আদমি পার্টি ও ডিএমকে এই বৈঠকে অংশ নেয়নি। তামিলনাডুতে বিজয়ের সরকারকে সমর্থন দেয়ায় কংগ্রেসের ওপর বেজায় ক্ষুব্ধ হয়েছে ডিএমকে।

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে পরাজয়ের পর ইন্ডিয়া জোটের মাধ্যমে নিজেকে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় রাখতে চাইছেন। কংগ্রেস সহ অন্য বিরোধীদের কাছে তিনি সাহায্য প্রার্থনাও করেছেন। তবে পশ্চিমবঙ্গের ৩ বারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী যে এতটা কাতর স্বরে সাহায্য চাইবেন, সেটা খানিকটা অপ্রত্যাশিত ছিল। ২১ বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ‘দিদি’ স্বীকার করে নিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পরাজয়ের পর তিনি বাড়ি থেকে বেরুনোর অবস্থাতেও নেই।
সূত্রের খবর, এদিন ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের শুরুতেই মমতা বলেছেন, ভোটে হারের পর আমি বাড়ি থেকে বেরোতে পারছি না। দয়া করে কিছু করুন। বিজেপিকে স্বৈরাচারী আখ্যা দিয়ে মমতা অন্য জোট শরিকদের পথে নেমে আন্দোলনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তার নিশানায় ছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এতদিন জ্ঞানেশকে তিনি সম্বোধন করতেন ভ্যানিশ কুমার বলে। এবার তিনি ইন্ডিয়া জোটের মঞ্চে জ্ঞানেশকে বিনাশ কুমার বলে আক্রমণ করেছেন।

কনস্টিটিউশন ক্লাবে আয়োজিত এই বৈঠকে ২০টিরও বেশি বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা ও প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে, অন্যদিকে সমাজবাদী পার্টি (এসপি’র হয়ে) এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তাদের দুই সাংসদ হরেন্দ্র মালিক ও মৌলানা মুহিবুল্লাহ নাদভি। এসপি প্রধান অখিলেশ যাদবের বৈঠকে অনুপস্থিতি নিয়ে জল্পনা-কল্পনার পরই কংগ্রেস ও এসপি স্পষ্ট করে জানায় যে, উত্তরপ্রদেশের রাজ্যসভা নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় অখিলেশ যাদব নিজে না এসে প্রতিনিধিদের পাঠিয়েছেন।

বৈঠকে এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, আরজেডি’র তেজস্বী যাদব, জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ, পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতি, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে, এনসিপি (এসপি)’র সুপ্রিয়া সুলে, সিপিআইএম-এর সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি, সিপিআই প্রধান ডি. রাজা, সিপিআই (এমএল)-এর নেতা দীপঙ্কর ভট্টাচার্য এবং নির্দল সাংসদ কপিল সিবাল প্রমুখ।

বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে সারা দেশে বিক্ষোভ ও জনসভা আয়োজনের পাশাপাশি সংসদে তার বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে এনডিএ সরকার ও নির্বাচন কমিশন বিরোধীদের সমালোচনা খারিজ করে দিয়েছে এবং এসআইআর প্রক্রিয়া ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়েছে।