ফ্রান্স জুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ, আটক চার শতাধিক

ফ্রান্স জুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ, আটক চার শতাধিক

ফন্ট সাইজ:

ফ্রান্সে দেশব্যাপী বিদ্যালয় অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা। শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকট এবং দীর্ঘ ক্লান্তিকর ক্লাসের রুটিনের প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ করছে তারা। মঙ্গলবার বিভিন্ন শহরে এ বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিলে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ ঘটে। এসব ঘটনায় চার শতাধিক শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ, যাদের অধিকাংশেরই বয়স ১৫ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। সংঘর্ষে অন্তত ৪৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান।

ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে জানান, দেশ জুড়ে ৪৪০ জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের দুই-তৃতীয়াংশকে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়। মঙ্গলবার দেশটির প্রায় ৪০০টি বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা আবর্জনার পাত্রে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বাস স্টপ ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে ও লাঠিচার্জ চালায়। লিলে, মার্সেই, বোর্দো, নঁতসহ বিভিন্ন শহরেও একই ধরনের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। প্যারিসের লামার্তিন স্কুলের সামনে শিক্ষার্থীরা ‘সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ক্লাস; ঘুমের চেয়ে ক্লাসের সময় বেশি’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে ক্ষোভ প্রকাশ করে।
ফরাসি সরকারের জনসেবা খাতে ৫ কোটি ৪০ লাখ ইউরো বাজেট কর্তনের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধর্মঘটের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের এই ব্যাপক অসন্তোষ সামনে এলো। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে মাঠে নেমেছে প্রধান শিক্ষক ইউনিয়নগুলোও। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ শিক্ষক ধর্মঘটে যোগ দিয়ে কাজ বন্ধ রাখেন। শিক্ষার্থীরা জানায়, শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত শিক্ষক ও সম্পদের সংকট এবং প্রতি ক্লাসে ৩২ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থীর চাপে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে যেকোনো ধরনের সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে একে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে দেশটির উগ্র-বামপন্থি নেতা জঁ-লুক মেলেঁশোঁ সরকারের এই কঠোর দমননীতির তীব্র সমালোচনা করে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগকে বর্ণবাদী ও দায়িত্বহীন আচরণ বলে আক্রমণ করেছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।