শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের পলাতক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার

শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের পলাতক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার

ফন্ট সাইজ:

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের পলাতক কর্মকর্তা শরীফুজ্জামানকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাতে মুন্সীগঞ্জ ডিবি পুলিশ ও শ্রীনগর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে লকারের চাবি, কয়েকটি চেকবই সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। অগ্রণী ব্যাংক শ্রীনগর শাখার ক্যাশ অফিসার শরীফুজ্জামান গত ২২শে সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাংকে অনুপস্থিত ছিলেন।

পরে ব্যাংক থেকে খোঁজ নিয়ে জানা যায় সে পলাতক রয়েছে। এর দু’দিন পর ২৪শে সেপ্টেম্বর সকালে এক নারী গ্রাহক ব্যাংকে তার এফডিআর’র খোঁজ নিতে আসলে শরীফুজ্জামানের অর্থ লোপাটের বিষয়টি সামনে আসে। গত মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত ২৩০ জন গ্রাহক তাদের একাউন্ট থেকে অর্থ লোপাটের অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রায় দশ হাজার গ্রাহকের একাউন্ট যাচাই শেষ না হলে ঠিক কতজনের একাউন্ট থেকে অর্থ লোপাট হয়েছে তা বলা যাচ্ছেনা। দায়েরকৃত ২৩০টি অভিযোগ গুলোর অর্থের পরিমাণ ১ লাখ থেকে ৮৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। যার মোট পরিমাণ প্রায় ১৫ কোটি টাকা। জানা গেছে, শরীফুজ্জামান ব্যাংকটির ভিতরে চালাতেন আরেক ব্যাংক। গ্রাহকদেরকে সহায়তা করার নামে তাদের কাছ থেকে অর্থ নিজের কাছে বুঝে নিয়ে নিজের তৈরি সিল ও জমা বইয়ে স্বাক্ষর করে বিদায় করে দিতেন। পরে আর সে টাকা একাউন্টে জমা দিতেন না।

এছাড়া প্রবাসী গ্রাহকের একাউন্টের ফোন নম্বর পরিবর্তন করে তুলে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। এর বাইরে এফডিআর, সঞ্চয়পত্রের মতো বিনিয়োগ একাউন্ড থেকে কয়েক কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ জমা পরেছে। শ্রীনগর থানায় মামলা দায়ের করা হয় শরীফুজ্জামানের বিরুদ্ধে। আটক করা হয়েছিল পূর্বের ক্যাশিয়ার জিন্নাহ্ হোসেনকে। কিন্তু শরীফুজ্জামানের সন্ধান না পাওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকে। শ্রীনগর থানার ওসি (তদন্ত) মিল্টন দত্ত জানান, শরীফুজ্জামকে গ্রেপ্তার করে ডিবি হেফাজতে নেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, শরীফুজ্জামান এই শাখায় গত ৭ বছর ধরে কর্মরত আছেন। ২০২৩ সালে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে অন্য আরেক জনের স্ত্রীকে গোপনে বিয়ে করেছেন। সে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাপোতা এলাকার মো. আবুল কালামের সন্তান।