সুনামগঞ্জের ছাতকে হাসন আলী ভুতু হত্যা মামলায় দুই ভাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ মামলার অপর এক আসামিকে খালাস এবং আরেক আসামি মারা যাওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। গত সোমবার সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক শ্যাম কান্ত সিনহা এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— ছাতক উপজেলার বিনন্দপুর গ্রামের জাহির আলী ওরফে জাহির উদ্দিনের ছেলে আক্তার হোসেন এবং তার ভাই আকমল হোসেন ওরফে আকল। তারা দু’জনই রায় ঘোষণার সময় পলাতক ছিলেন। রায়ে আক্তারকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।
এ মামলার অপর আসামি ছবুতেরা বেগমকে খালাস দিয়েছেন আদালত। অপরদিকে, আসামি জাহির আলী ওরফে জাহির উদ্দিন ইতিমধ্যে মারা যাওয়ায় তাকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১লা মে বিকালে ছাতকের বিনন্দপুর এলাকায় একটি পতিত জমির নালায় মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে নিহত হাসনের সঙ্গে আসামি জাহির আলী ওরফে জাহির উদ্দিনের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জাহিরের চিৎকারে অন্য আসামিরা দা, ডেগারসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে। এ সময় আক্তার ডেগার দিয়ে হাসনের বুকের বাম পাশে আঘাত করে। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে বাদী মো. শহীদ আলীকেও জাহির রামদা দিয়ে কোপ দেন এবং আকমল ডেগার দিয়ে আঘাত করেন। পরে স্থানীয়রা আহত দু’জনকে কৈতক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিলে চিকিৎসক হাসনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. শহীদ আলী বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরবর্তীতে আদালত অভিযোগ গঠন করে মামলার বিচার শুরু করেন। বিচারকালে রাষ্ট্রপক্ষ ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনকে আদালতে হাজির করে সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত দুই ভাইকে হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।
