মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রেজাউল করিম নাঈমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার দায়ে চারজনের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচজনকে খালাস প্রদান করেছেন দায়রা জজ আদালত। বুধবার সকালে এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় দেন দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ রবিউল আউয়াল। রায়ে বলা হয়— অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদেরকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— মো. নুরুল ইসলাম, মো. সাইমন ইসলাম, নাহিদুল ইসলাম রনি, আনোয়ার হোসেন। এর মধ্যে নাহিদুল ও আনোয়ার পলাতক রয়েছেন। মামলার বাদী নাঈমের বাবা মো. চেরাগ আলী। মামলায় আসামি ছিলেন ৯ জন।
এর মধ্যে পাঁচজনকে খালাস দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া, রায়ে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় পাঁচজনকে খালাস প্রদান করা হলো। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন— পারভীন বেগম, রুখসানা আক্তার জেসি, সাকির আহমদ শাকিল, আল আমিন, ইমন মিয়া (পলাতক)। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বর্ষীজোড়া গ্রামে চেরাগ মিয়ার বাসায় ২০২৩ সালের ৭ই নভেম্বর সন্ধ্যায় চাঁদা নিতে আসামি নুরুল ও অন্য আসামিরা প্রবেশ করে চেরাগ মিয়া ও মা শামসুন নাহারকে গালাগালি ও মারধর করেন। চাঁদার পাশাপাশি নাঈমের ওপর ফেসবুকে অপপ্রচারের মিথ্যা অভিযোগ আনেন। নাঈম ঘটনা থামাতে এগিয়ে গেলে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে অভিযুক্ত আসামিরা। পরে নাঈমকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিলে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার দু’দিন পর ৯ই নভেম্বর নিহত নাঈমের বাবা বাদী হয়ে নয়জনের নাম উল্লেখ করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট ড. আব্দুল মতিন চৌধুরী এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, প্রকৃত আসামিদের দণ্ড প্রদানে বাদী পক্ষসহ আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ও শ্রদ্ধা বাড়বে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। কলেজছাত্র নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া, মা শামছুন নাহার ও স্বজনরা এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। এই রায় দ্রুত কার্যকরে প্রত্যাশা ও পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন নাঈমের বাবা ও মা।
