‘কাফনের কাপড় নিয়ে এসেছি নিয়োগপত্র ছাড়া ফিরবো না’

‘কাফনের কাপড় নিয়ে এসেছি নিয়োগপত্র ছাড়া ফিরবো না’

ফন্ট সাইজ:

চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগে ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সামনে কাফনের কাপড় বিছিয়ে অনশন শুরু করেছেন ২২ জন নিয়োগপ্রত্যাশী শিক্ষক। চূড়ান্ত নিয়োগপত্র হাতে না পাওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। বুধবার সকাল ১১টার দিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান নিয়ে অনশন কর্মসূচি শুরু করেন তারা।

অনশনকারীদের দাবি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ময়মনসিংহ জেলায় মোট ২৫৯ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এরমধ্যে প্রথম ধাপে ২১৯ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। পরে আরও দু’জন নিয়োগপত্র পেলেও একই নিয়োগ প্রক্রিয়ার ২২ জন এখনও নিয়োগপত্র পাননি। তাদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন জেলায় চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে গেলেও ময়মনসিংহের ২২ জনকে নিয়োগপত্র দেয়া হচ্ছে না। কেন তাদের নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়েছে, সে বিষয়েও তাদের স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি বলে দাবি করেন অনশনকারীরা।

চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী মোশাররফ হোসেন বলেন, ময়মনসিংহ জেলায় আমরা ২৫৯ জন চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলাম। এরমধ্যে প্রথম ধাপে ২১৯ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। পরে আরও দু’জনকে নিয়োগপত্র দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা ২২ জন এখনো বাদ পড়ে আছি। কেন বাদ পড়েছি, সেটাও আমাদের জানানো হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, আজকের মধ্যেই আমরা নিয়োগপত্র হাতে চাই। নিয়োগপত্র ছাড়া আজ এখান থেকে আমরা কেউ বের হবো না। নিয়োগপত্র দেয়া না হলে এখান থেকেই অনশন চালিয়ে যাব। আমরা কাফনের কাপড় নিয়ে এসেছি। না খেয়ে মরবো, তবুও নিয়োগপত্র ছাড়া এখান থেকে ফিরবো না।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ২৫৯ জনের সুপারিশ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে, ১৮ জন কোনো কাগজপত্র জমা দেননি। বাকি ২৪১ জনের মধ্যে ২১৯ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আর ২২ জনের নিয়োগ এখনো স্থগিত রয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে স্থানীয়, জেলা, উপজেলা, বিভাগীয় কিংবা অধিদপ্তর পর্যায়ে আমাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বিষয়। মন্ত্রণালয় থেকে পরবর্তীতে কোনো নির্দেশনা বা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পাঠানো হলে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্যথায় বর্তমানে যে সিদ্ধান্ত রয়েছে, সেটিই বহাল থাকবে।