মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধিদল নিয়মিতভাবেই ভারত সফর করে থাকে। তবে এবারে কংগ্রেসের প্রতিনিধিদলের সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে যখন দুদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে মুল্ক আরোপের বিষয়টি বেশ সংবেদনশীল। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ‘রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ সংক্রান্ত আইন’-এ স্বাক্ষর করার পরপরই মার্কিন আইনপ্রণেতাদের প্রতিনিধিদলটি ভারত সফরে এসেছেন।
এই আইনের আওতায় ওয়াশিংটন রুশ তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচটি ক্রেতা দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারে। বর্তমান আমদানির পরিমাণ বিবেচনায় নিলে এবং প্রেসিডেন্ট যদি এমন সিদ্ধান্ত নেন তবে এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত হবে ভারতও।
হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান ব্রায়ান মাস্টের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক-উভয় দলের আইনপ্রণেতারা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
দলটি ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি ও প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ এবং প্রতিরক্ষা-শিল্প বিষয়ক সহযোগিতা পর্যালোচনা করা হয়েছে এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকগুলিতে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা দেখা করেছেন।
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রির সঙ্গে প্রতিনিধিদলের বৈঠকে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নতুন মার্কিন আইনের বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বলে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলোচনায় ভারত-মার্কিন সম্পর্কের সামগ্রিক বিষয়গুলো-যার মধ্যে রয়েছে সম্প্রতি পাস হওয়া এসআরআইএ আইন এবং সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ-স্থান পেয়েছে। এছাড়া পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, জ্বালানি নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিয়েও তারা মতবিনিময় করেছেন।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ভোটাভুটির পরদিন গত ১৭ সেপ্টেম্বর, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেছিল। মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধিদের কাছে ভারত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে যে, এই আইনটি কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপরই নয়, বরং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ওপরও কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। একইসঙ্গে ভারত তার বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় “প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণে” দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, ভারতের প্রতিরক্ষা সচিবের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদলের আলোচনায় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিষয়ে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা প্রাধান্য পেয়েছে।
দিল্লিতে বৈঠকের পর প্রতিনিধিদলটি হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালায় দালাই লামার সঙ্গে দেখা করতে গেছেন। সেখানে তারা ২০২৫ সালে নির্বাসিত তিব্বতি সরকারের প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
এ ছাড়া ২৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ব্রায়ান মাস্ট ও অন্যান্যরা আগ্রায় তাজমহল পরিদর্শন করেছেন।
২০২৪ সালের জুন মাসে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিসহ কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল ধর্মশালায় দালাই লামার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিল, যে সফরটির বিষয়ে সে সময় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমালোচনা করে।
