হত্যার পরও সক্রিয় ছিল সাগর-রুনির আইডি, গুগল ও ইয়াহুর কাছে তথ্য চেয়েছে প্রসিকিউশন

হত্যার পরও সক্রিয় ছিল সাগর-রুনির আইডি, গুগল ও ইয়াহুর কাছে তথ্য চেয়েছে প্রসিকিউশন

ফন্ট সাইজ:

আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের পর এক থেকে দেড় মাস পর্যন্ত তাঁদের ফেসবুক আইডি ও ইমেইল অ্যাকাউন্ট বিভিন্ন আইপি থেকে সক্রিয় (লগইন) ছিল বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ডার্ক ওয়েবের ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (ওএসআইএনটি) বিশ্লেষণে এ ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট নিশ্চিত করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে নিহতদের ইমেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সংরক্ষিত তথ্য এবং লগইন হিস্ট্রি পেতে গুগল ও ইয়াহু কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। বিষয়টি মানবজমিনকে নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউটর ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা।

তানভীর হাসান জোহা জানান, তদন্ত প্রক্রিয়ায় সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনির ব্যবহৃত দুটি ইমেইল অ্যাড্রেস শনাক্ত করা হয়েছে। ডার্ক ওয়েব ও ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখা গেছে, মৃত্যুর পরও এক থেকে দেড় মাস তাঁদের আইডিগুলোতে একাধিকবার লগইন করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে মেহেরুন রুনির ভাইয়ের সঙ্গে কথা বললে তিনিও নিশ্চিত করেন যে, তাঁদের মৃত্যুর পরও আইডিগুলো অনলাইনে সক্রিয় (লাইভ) দেখা যেত।

মেহেরুন রুনির ভাই হলেন নওশের আলম রোমান (গোলাম নওশের রোমান)। তিনি নিহত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের পর শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। তিনি মানবজমিনকে বলেণ, সাগর-রুনির হত্যার পরেও তিনি তাদের ফেসবুক আইডি সক্রিয় থাকতে দেখেছেন। এমনকি তার নিকটস্থ আরও লোকেরাও ফেসবুক এ্যাকাউন্ট অ্যাক্টিভ দেখেছেন। বিষয়টি নওশের মামলার তখনকার তদন্ত কর্মকর্ত ও আইনশৃক্ষলা বাহিনীকে জানালেও তারা কোনো কিছুই বলেনি। তিনি আরও বলেন, তখন তো এতো কিছু বুঝতাম না। কিন্তু এখন প্রসিকিউটর জোহা এটি দেখভাল করছে। আশাকরি শিগগিরই সব রহস্য বের হয়ে আসবে।

এ বিষয়ে প্রসিকিউটর তানভীর জোহা আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডকে নিছক চুরি বলে যে বয়ান দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, তার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কোনো ডিভাইস চুরি হলে সাধারণত তা বিক্রি করে দেওয়া হয় বা ফ্ল্যাশ করা হয়। কিন্তু পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত ডিভাইসের নিরাপত্তা ভেঙে হত্যাকাণ্ডের পর কারও আইডিতে লগইন করে বসে থাকা কোনো সাধারণ চুরির ঘটনা হতে পারে না।

তিনি জানান, আইনি কাঠামোর আওতায় ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা, গুগল ও ইয়াহুর কাছে লগইন হিস্ট্রি, ব্যবহৃত আইপি ঠিকানা এবং মুছে ফেলা বার্তা সংরক্ষণের তথ্য চেয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের পুরোনো তথ্য হওয়ায় গুগল ও ইয়াহুর পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট মামলার রেফারেন্স ও আদালতের আনুষ্ঠানিক আদেশ (কোর্ট অর্ডার) চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের তদন্ত চলমান রয়েছে।