সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইসরাইলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করা ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমান সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করেছে। প্রথমে বিমানটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা হয়েছে বলে আশঙ্কা তৈরি হলেও পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে ‘সহিংস সংঘর্ষের’ কারণে বিমানটি গতিপথ পরিবর্তন করেছে।
বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানটি সৌদির তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তাবুক একটি বেসামরিক ও সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিমানটিতে অন্তত ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা
ওই বিমানের যাত্রীরা ফোনে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-কে জানান, বিমানের সামনের দিকে বসা যাত্রীদের কাছ থেকে তারা চিৎকারের শব্দ শুনতে পান। পাইলটদের মধ্যে কী ঘটছিল, তা নিয়ে তখনই উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিমানটি হঠাৎ করে তীব্রভাবে নিচের দিকে নেমে যায় এবং পরে সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করে।
যাত্রীরা জানান, সবাইকে এখনো বিমানের ভেতরেই রাখা হয়েছে এবং বিমানটির চারপাশে বিপুলসংখ্যক সৌদি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
আরেক যাত্রী দ্য টাইমস অব ইসরাইল’কে বলেন, ‘আমরা চিৎকার শুনেছি, বিমানটি নিচে নেমে যাচ্ছিল।’ অন্য এক যাত্রী সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, এক পাইলট অপর পাইলটকে ছুরিকাঘাত করেন। বিমানে থাকা কয়েকজন ইসরাইলি যাত্রীও ক্রুদের সঙ্গে মিলে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেন।
বিমানের আরেক যাত্রী মিরিয়াম চ্যানেল ১৫’কে জানান, উড্ডয়নের সময় যাত্রীরা চিৎকার ও হৈচৈ শুনতে পান। তিনি বলেন, ককপিটের দরজা খোলার পর ভেতরে রক্ত দেখতে পান তারা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন পাইলটকে ভাঁজ করা ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। যাত্রী ও ক্রুরা মিলে দুই পাইলটের লড়াইয়ে হস্তক্ষেপ করে সেটি থামিয়ে দেন। এরপর বিমানটি জরুরি অবতরণ করে।
মিরিয়াম জানান, একপর্যায়ে যাত্রীরা মনে করেছিলেন, তারা হয়তো আর জীবিত অবস্থায় বিমান থেকে বের হতে পারবেন না।
হঠাৎ তীব্র অবতরণ
ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, দুবাই থেকে উড্ডয়নের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বিমানটি আচমকা ৩৩ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে মাত্র এক মিনিটের মধ্যে ১৭ হাজার ফুটে নেমে আসে। এরপর জর্ডান সীমান্তের কাছে বিমানটি অস্বাভাবিকভাবে একটি চক্কর দেয়। জর্ডান-সৌদি সীমান্তের ওপর দিয়ে ইউটার্ন নেয়ার সময় বিমানটি ৭৭০০ ‘স্কোয়াক কোড’ পাঠায়। এটি আন্তর্জাতিকভাবে সাধারণ জরুরি পরিস্থিতির সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বিমানে থাকা পাইলটরা নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ের সময় ছিনতাইয়ের সংকেতও সক্রিয় করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বিমানটি সৌদির আকাশসীমায় প্রবেশ করার পর অল্প সময়ের জন্য ৭৫০০ কোডও পাঠায়।
এদিকে, একটি অসমর্থিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, একজন পাইলট আত্মহত্যা করে বিমানটিকে মাটিতে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। আঞ্চলিক এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানায়, ককপিটে মারামারি শুরু হয়েছিল এবং তাতে পাইলটরা জড়িত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ঠিক কী কারণে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি।
ইসরাইলি এক কর্মকর্তা দ্য জেরুজালেম পোস্ট’কে বলেন, ‘বড় ধরনের একটি বিপর্যয় অল্পের জন্য এড়ানো হয়েছে।’ অতিরিক্ত ফ্লাইট ক্রু সদস্যরা, বিমানে থাকা কয়েকজন যাত্রীর সহায়তায়, ওই পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন বলে জানা গেছে।
ইসরাইল যা বলছে
ইসরাইলের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, বিমানটি ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় ইসরাইল যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছিল। কারণ বিমানে ইসরাইলের কয়েক ডজন নাগরিক ছিলেন।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইসরাইল কাজ করছে।
