মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জেনারেল ও অ্যাডমিরালদের পদ ২০ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করতে পারেন। গত বছর তিনি এসব পদের সংখ্যা কমিয়ে ন্যূনতম করার যে কথা জানিয়েছিলেন, নতুন পরিকল্পনা তার দ্বিগুণ। মঙ্গলবার মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দুই মার্কিন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, বুধবার ভার্জিনিয়ার মেরিন করপস বেস কোয়ান্টিকোতে শত শত জুনিয়র কর্মকর্তা ও তালিকাভুক্ত সামরিক সদস্যের সামনে দেয়া এক ভাষণে হেগসেথ এই পদ কমানোর ঘোষণা দিতে পারেন। পরিকল্পিত এই কাটছাঁট এক থেকে চার তারকা জেনারেল ও অ্যাডমিরালদের পদে প্রযোজ্য হবে। তবে কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হবে না। রয়টার্সকে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কিছু পদে নিম্নতর র্যাংক নির্ধারণ করা হবে এবং কিছু পদ পুরোপুরি বিলুপ্ত করা হবে। এই পদক্ষেপের ফলে পেন্টাগনের শীর্ষ নেতৃত্বে হেগসেথের সংস্কার কার্যক্রম আরও গভীর হবে। গত বছর তিনি চার তারকা জেনারেল ও অ্যাডমিরালের পদ ২০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
একই সঙ্গে জেনারেল ও ফ্ল্যাগ অফিসারের পদ কমপক্ষে ১০ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনাও জানিয়েছিলেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হওয়ার পর হেগসেথ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডারকেও সরিয়ে দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল র্যান্ডি জর্জ । তাকে এপ্রিলে সরিয়ে দেয়া হয়। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল চার্লস ব্রাউন জুনিয়র এবং নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল লিসা ফ্রাঞ্চেত্তিকেও ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর কিছুদিন আগে পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। পেন্টাগনের আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাও পদ ছেড়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনীর সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকল। হেগসেথের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনার পর সেপ্টেম্বরের শুরুতে তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প অ্যাডাম টেলেকে সেনাবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দেন।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে জড়িত থাকা অবস্থাতেই নতুন এই কাটছাঁটের পরিকল্পনা সামনে এলো। যুদ্ধের মধ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ক্ষয়ক্ষতি এবং অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়েও পেন্টাগনকে নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। গত বছর কোয়ান্টিকোতে দেয়া হেগসেথের ভাষণের পর তার নতুন ঘোষণা আসতে যাচ্ছে। ওই ভাষণে তিনি ‘মোটা জেনারেল’ এবং বৈচিত্র্যবিষয়ক বিভিন্ন উদ্যোগের সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছিলেন। রয়টার্স জানিয়েছে, হেগসেথ সামরিক বাহিনীর নেতাদের বলেছিলেন, তার পদ্ধতিতে যারা অসন্তুষ্ট, তাদের পদত্যাগ করা উচিত।
