কী আছে মার্কিন ভোটারদের প্রতি আইআরজিসির খোলা চিঠিতে

কী আছে মার্কিন ভোটারদের প্রতি আইআরজিসির খোলা চিঠিতে

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশে খোলা চিঠি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি)। এতে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে উৎখাত করার আহ্বান জানায় তারা। ট্রাম্প প্রশাসন চলমান যুদ্ধ, পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মার্কিন জনগণকে অব্যাহতভাবে বিভ্রান্ত করছে এবং ‘বড় বড় মিথ্যা’ বলছে বলে চিঠিতে অভিযোগ করে তেহরান। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই চিঠিতে মার্কিন নাগরিকদের ‘জেগে ওঠার’ এবং ‘দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকদের হাত থেকে ক্ষমতা ফিরিয়ে নেয়ার’ তাগিদ দেওয়া হয়। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।

যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক পাঁচ সপ্তাহ আগে এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের সাত মাস পূর্তির পরদিনই এই চিঠি প্রকাশ করল আইআরজিসি। ‘যুক্তরাষ্ট্রের সম্মানিত জনগণের প্রতি’ সম্বোধন করে দেয়া ওই দীর্ঘ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান মার্কিন রাজনৈতিক ব্যবস্থা চরম দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং পরিবর্তনের জন্য এখনই উপযুক্ত সময়। চিঠিতে দাবি করা হয়, যুদ্ধে ইরানেরই চূড়ান্ত বিজয় হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হাজার হাজার বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করাসহ তাদের ঘোষিত কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেনি।

চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, হোয়াইট হাউসের নীতিহীন রাজনীতিকদের কারণে ইরানি ও মার্কিন উভয় দেশের জনগণই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমনকি ইরানে বহুল প্রচলিত ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ স্লোগানের ব্যাখ্যা দিয়ে আইআরজিসি জানায়, এই স্লোগান মার্কিন সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে নয়, বরং হোয়াইট হাউসে বসে থাকা কুচক্রী শাসকগোষ্ঠীর পতনের প্রার্থনা।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি ট্রাম্পকে একজন ‘পাকা মিথ্যাবাদী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, মার্কিন নাগরিকরা এই যুদ্ধ অভিযানের ভয়াবহ ক্ষতি সম্পর্কে পুরোপুরি অন্ধকারে রয়েছে। হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি নাকচ করে দিয়ে মোহেব্বি বলেন, রাতের আঁধারে চরম ঝুঁকি ও বিপুল ব্যয়ে যদি যুক্তরাষ্ট্র প্রণালি দিয়ে কোনো ছোট জাহাজ পার করে, তবে তার অর্থ এই নয় যে প্রণালিটি উন্মুক্ত হয়ে গেছে। এর আগে জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছিলেন এবং নভেম্বরের নির্বাচনের পরই চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছিলেন। এর জবাবেই ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে লক্ষ্য করে সরাসরি মার্কিন জনগণের সঙ্গে যোগাযোগের এই নতুন কৌশল নিল তেহরান।