শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় তিনি তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। মঙ্গলবারের এ সম্মেলনকে তিনি এমন এক অসাধারণ সমাবেশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে এমন সব মেধাবী মানুষ একত্র হয়েছেন এবং তারা ‘আমেরিকার স্বর্ণযুগ’ নির্মাণ করছেন। অতিথিদের তালিকায় ছিলেন ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক, এনভিডিয়া, মেটা এবং গুগলের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তারা সবাই যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এমন সময় এই বৈঠক হলো, যখন প্রযুক্তি খাতের কয়েকজন নির্বাহী ও বিশেষজ্ঞ এআই প্রযুক্তির ওপর আরও কঠোর নজরদারি এবং এর উন্নয়ন ধীর করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের উদ্বেগ, এই প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের প্রযুক্তি সম্মেলন থেকে পাওয়া তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এআই ‘স্বনিয়ন্ত্রণ’ চুক্তি, ডাটা সেন্টার নির্মাণে আরও জোর এবং সুপার ইন্টেলিজেন্স।
রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর প্রায় ৩০ মিনিট ধরে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন এবং প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর নির্বাহীরা একটি ‘নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক’ নথিতে স্বাক্ষর করেছেন। তার ভাষায়, এটি এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে সুরক্ষার একটি ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে চুক্তিটি প্রকাশ করেছেন, তাতে বলা হয়েছে, নিজেদের প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কোম্পানিগুলোর নিজেদেরই।
নথিতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলো এমন নিরাপত্তাব্যবস্থা বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে, যাতে তাদের এআই মডেলগুলো যেভাবে কাজ করার কথা সেভাবেই কাজ করে। পাশাপাশি কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত শনাক্ত ও সমাধান করতে হবে। চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প, গুগলের প্রধান সুন্দর পিচাই, অ্যানথ্রপিকের প্রধান দারিও আমোদেই, মেটার মার্ক জাকারবার্গ, ওপেনএআইয়ের প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান, স্পেসএক্সের ইলন মাস্ক এবং এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং। ট্রাম্প চুক্তিটিকে ‘এক অর্থে সংবিধানের মতো’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় বড় ব্যক্তিরা এতে স্বাক্ষর করেছেন এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমিও স্বাক্ষর করেছি।
ট্রাম্প এআই পরিচালনার জন্য অপরিহার্য কম্পিউটিং অবকাঠামো ডাটা সেন্টার দ্রুত সম্প্রসারণের পক্ষেও তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। দেশজুড়ে ডাটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে বিরোধিতা দেখা দিয়েছে। এর অন্যতম কারণ হলো বিপুল বিদ্যুৎ ব্যবহারের উদ্বেগ এবং এসব স্থাপনা স্থানীয় জনপদের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে আশঙ্কা। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ডাটা সেন্টার নির্মাণ ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য একটি সম্ভাব্য রাজনৈতিক বাধা হিসেবেও দেখা দিয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে এনপিআর ও পিবিএস নিউজের সঙ্গে মারিস্ট পোলের করা এক জরিপে দেখা গেছে, নিবন্ধিত ভোটারদের ৬৫ শতাংশই নিজেদের এলাকায় ডাটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধিতা করেন। এই উদ্বেগের বিষয়ে ট্রাম্প বলেছেন, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ডাটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে সাধারণ মানুষকে ‘সন্তুষ্ট’ করার জন্য কাজ করবে।
মঙ্গলবারই ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এতে মার্কিন সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থাকে ‘এসআই’ এবং ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দ ব্যবহার শুরু করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শব্দটির ব্যবহার আর স্বীকার না করার কথা বলা হয়েছে। নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, নির্বাহী শাখার ‘সরকারি চিঠিপত্র, জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগ, ওয়েবসাইট, প্রতিবেদন, নীতিগত নথি এবং অন্যান্য আইন দ্বারা নির্ধারিত নয় এমন নথিতে’ এআইয়ের পরিবর্তে এসআই বা ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দ ব্যবহার করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, এই সক্ষমতাগুলো ক্রমাগত উন্নত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এগুলো শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নয়, বরং সুপার ইন্টেলিজেন্সের একটি নতুন যুগকে প্রতিনিধিত্ব করছে।
