হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় সরকার দুঃখিত ও বিব্রত

হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় সরকার দুঃখিত ও বিব্রত

ফন্ট সাইজ:

হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকার দুঃখিত এবং অবশ্যই বিব্রত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, এই রাষ্ট্রে যেকোনো নাগরিকের অধিকার যদি ক্ষুণ্ন হয়, তার স্থাপনা যদি ভাঙচুর করা হয়, তিনি যদি আক্রমণের শিকার হন, এমনকি কোনো অপরাধীও যদি হয়ে থাকেন, প্রতিটা ক্ষেত্রে সরকার দুঃখিত এবং অবশ্যই বিব্রত। তিনি বলেন, কারণ, এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের ছিল। বিব্রত এই অর্থে। রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনায় সরকারের নেয়া পদক্ষেপ প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, সেখানে যারা ভাঙচুর করেছে, তাদের কাউকে ধরা হয়েছে।

আপনি বলছেন বা পত্রিকায় নিউজও আসছে, এর সঙ্গে কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুলিশের অবহেলা বা ক্ষমতাসীন দলের কেউ কেউ জড়িত আছে কিনা। তদন্তে যারই নাম উঠে আসুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। এটা আনা হবে কারণ, যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, মানুষের মধ্যে এই ঘটনাগুলোর প্রভাব খুবই ভয়ঙ্কর। যেটি বলতে চাই, তা হলো রাষ্ট্র বা সরকারের কাজই হচ্ছে অপরাধ ঠেকানোর চেষ্টা করা। কিন্তু ঘটে গেলে যেন ন্যায়বিচার হয়, যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ না ঘটে। তিনি বলেন, সুতরাং নিশ্চিত থাকুন, এটা এই জায়গায় থেমে থাকবে না। এটার তদন্ত হবে, তদন্ত হতে হতে এর সঙ্গে যদি আর কেউ- আবারো বলছি, যদি জড়িত থাকে, তাহলে অবশ্যই তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরসহ আরও যাদের প্রচুর পরিচিতি ও ভাইরাল জনপ্রিয়তা রয়েছে, তারা ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল হবেন বলে আশা প্রকাশ করছি। সালমান মুক্তাদির প্রথমে বিএনপি’র লোকজন চাঁদা চেয়েছেন বলে অভিযোগ করলেও পরে বলেছেন, তার কাছে চাঁদা চাওয়া হয়নি। এ সময় তিনি প্রশ্ন রাখেন, এভাবে কোনো ব্যক্তি অপতথ্য ছড়ালে তা বন্ধে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে। উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, সালমান মুক্তাদিরের সঙ্গে সরকার সহানুভূতি রেখে কথা বলছে। কারণ, তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এবং হামলার শিকার হয়েছেন। তবে ওই অবস্থায় তিনি যেভাবে বিষয়টি বলেছেন, সেটিও বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পরে সালমান মুক্তাদির নিজেই ওই বক্তব্য থেকে সরে এসেছেন এবং স্বীকার করেছেন যে বিষয়টি আসলে সেভাবে ঘটেনি। শুধু সালমান মুক্তাদিরের স্থাপনা নয়, অন্যান্য স্থাপনাও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে বলেও তিনি জানান। জাহেদ উর রহমান বলেন, কোনো রকম ভায়োলেন্সের (সহিংসতার) সাফাই সরকার গাইছে না।

এটি হওয়া উচিত হয়নি, এটি আটকাতে পারা উচিত ছিল। এখন অন্তত সরকারের কাজ হবে দ্রুত এ ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা। আপনারা দেখছেন, ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমানের দেয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসের প্রসঙ্গ তুলে তথ্য উপদেষ্টা জানান, সালমান মুক্তাদিরের ভিডিও দেখার পর তিনি চাঁদাবাজির বিষয়টি উল্লেখ করে সরকারকে দায়ী করে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ওই স্ট্যাটাস এখনো রয়েছে। তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার ফেসবুকে তো ওই স্ট্যাটাস এখনো রয়ে গেছে। শুধু তিনিই নন, এনসিপি’র অনেক সিগনেচার (বিশিষ্ট) নেতা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় শুধু বিএনপিকে না, বিএনপি ও এই সরকারের প্রধানকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন। কেউ কিন্তু সেগুলো সরায়নি। অপতথ্য ছড়ানোর বিষয়টি বর্তমানে বিশ্ব জুড়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবসের প্রতিপাদ্যেও এখন অপতথ্যের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমি আশা করি, সালমান মুক্তাদিরদের মতো মানুষ, যাদের প্রচুর রিচ আছে, ভাইরাল ট্র্যাকশন আছে, তারা দায়িত্বশীল হবেন। ভবিষ্যতে অপতথ্য মোকাবিলায় জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি আইনি পরিসরের মধ্যে বিষয়গুলো নিয়ে আসার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের কথা বলছি, জনগণকে সচেতন করা এবং এর সঙ্গে আইনি পরিমণ্ডলের মধ্যে এগুলো নিয়ে আসার সুযোগ (রয়েছে)। আপনারা জানেন, একটা আইন নিয়ে কাজ হচ্ছে, সাইবার সুরক্ষা আইন। আমরা আশা করি, সেই আইনি পরিসীমার মধ্যে এগুলো নিয়ে কাজ করা যাবে।

উপদেষ্টা বলেন, এ সরকার পুলিশ বাহিনীকে যে পরিস্থিতির মধ্যে পেয়েছে, যে অবস্থায় পেয়েছে, সেটা বিবেচনায় নিয়ে আমি বলছি- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। কোথাও কোথাও দায়িত্বে অবহেলা হয়েছে স্বীকার করে তিনি বলেন, কোনো রকম দায়িত্বে অবহেলা বা অন্য কিছু হয় না, সেটা কিন্তু আমরা দাবি করছি না। কোথাও কোথাও হচ্ছে এবং যেখানে যেখানে হচ্ছে, সেখানে ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন কোনো অ্যানার্কির মধ্যে নেই, আগে অ্যানার্কি মনে হতো। অতীতের বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দু’টি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকায় আগুন দেয়ার ঘোষণা ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রচার করা হলেও তখন একটি নিষ্ক্রিয় বাহিনী তা ঠেকানোর চেষ্টা করেনি।

মাজার ভাঙা, মেয়েদের ফুটবল খেলা বন্ধের ঘোষণা, নাটক ও মেলা বন্ধের মতো ঘটনাগুলোকেও তিনি ওই সময়ের ধারাবাহিক পরিস্থিতির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। বর্তমানে দুই-তিনটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও সেগুলোকে আগের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। মেয়েদের ফুটবল খেলা বন্ধের ঘোষণার বিপরীতে বর্তমানে মেয়েদের ফুটবল খেলা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন। এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, এখন পর্যন্ত পুলিশ বাহিনী যেভাবে কাজ করছে, তারা তাদের তৎপরতা আরও বাড়াচ্ছে। তবে রাষ্ট্র ও জনগণের প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনী নামানো হতে পারে।