আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর

হুমায়ুন-ত্রিবেদী সাক্ষাৎ

আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর

ফন্ট সাইজ:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কবে নাগাদ সফরটি হতে পারে, সে বিষয়ে ঢাকা-নয়াদিল্লির কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাতে পারেনি। তবে সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন তারা। দুজনই সফর নিয়ে আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। হুমায়ুন কবির বলেন, অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলেই প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাবেন। আর ত্রিবেদী বলেন, সফর নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো নেই, সময় হলেই এই সফর হবে।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যায়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক ছিল টানাপড়েনের মধ্যে। তবে ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর সম্পর্ক পুনর্গঠনে মনোযোগী হয়েছে উভয় পক্ষ। ভারতও জানিয়েছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে তাদের কোনো আপত্তি নেই।
অন্যদিকে ঢাকার জাতীয়তাবাদী সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূলমন্ত্র ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। অর্থাৎ যেকোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে সরকার। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান দিল্লির কাছে স্পষ্ট করতে চায় ঢাকা। পাশাপাশি দুই দেশের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে এগোতে চায় সরকার।

অনুকূল পরিবেশের প্রত্যাশা পুনর্ব্যক্ত: প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের ক্ষেত্রে অনুকূল পরিবেশ তৈরির অবস্থান আবারো স্পষ্ট করেছে ঢাকা। গতকাল ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, দুই দেশের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো আলোচনার মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠার পরই সফরের সময় চূড়ান্ত হবে।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে এটিই ছিল হুমায়ুন কবিরের প্রথম সাক্ষাৎ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আন্তরিক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকরা দুই দেশের সম্পর্কের পথে কোনো বাধা বা চ্যালেঞ্জ রয়েছে কিনা জানতে চান। জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, অবশ্যই কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। তবে আলোচনার মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বলেন, আমরা আশাবাদী যে, আলোচনার মাধ্যমে এসব বাধা কাটিয়ে উঠতে পারবো।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো একপর্যায়ে, যখন অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে, তখন প্রধানমন্ত্রীর সফর হবে। আগামী নভেম্বরে সফরের সম্ভাবনা আছে কিনা জানতে চাইলে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাননি প্রতিমন্ত্রী।

এদিকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের ঢাকা সফর নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ওই রকম কিছু আলাপ হয়নি। এটা পুরোপুরি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল।

সময় হলেই সফর হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ভারতের কোনো তাড়াহুড়ো নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সফরের জন্য এখনই তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই। ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন সফরের জন্য সুবিধাজনক সময় মনে করবেন, তখনই সফরটি হবে। ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ চাইলে যেকোনো সময় সফরটি হতে পারে। তবে ভারতীয় হাইকমিশনারও সফরের কোনো নির্দিষ্ট সময় জানাননি। তার বক্তব্য, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সুবিধাজনক সময় মিলে গেলেই সফরটি হবে। আমাদের তরফে আমন্ত্রণ দেয়া আছে উল্লেখ করে ত্রিবেদী বলেন, এ নিয়ে তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই।