ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে পাথর ছোড়া ও সংঘর্ষের ঘটনার পর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো ছত্রি চকে অবস্থিত শাহী মসজিদের একটি অংশ অপসারণের কাজ চলছে।
ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল ঘিরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। অঞ্চলটির জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন। আশপাশের বাজারগুলো বন্ধ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ এলাকায় পতাকা মিছিলও করেছে।
উজ্জয়িনীর জেলা প্রশাসক রওশন কুমার সিং জানান, পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ এবং নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের শান্তি বজায় রাখার পাশাপাশি গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
২০২৮ সালের সিংহস্থ মেলার আগে সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে সোমবার মসজিদের একটি অংশ অপসারণের কাজ শুরু হয়।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোববার রাতে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা স্বেচ্ছায় মসজিদের সংশ্লিষ্ট অংশ সরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছিলেন।
তবে সোমবার কাজ চলার সময় কিছুক্ষণের জন্য পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় একটি ভিড় জড়ো হয়ে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে বলে অভিযোগ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে ভিড় ছত্রভঙ্গ করে। এরপর ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়।
বিবিসি জানিয়েছে, মসজিদটি আনুমানিক ৬৫০ বছরের পুরোনো বলে পরিচিত। গতবার ২০১৬ সালের সিংহস্থ মেলায় প্রায় সাড়ে সাত কোটি ভক্তের সমাগম হয়েছিল।
জেলা প্রশাসনের তরফে দেয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এবার ১২ কোটি ভক্ত আসতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত।
স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
উজ্জয়িনীর কালেক্টর রৌশন সিং বলেন, সিংহস্থ ২০২৮-এর প্রস্তুতির জন্য মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী রাস্তা চওড়া করা এবং অন্যান্য নির্মাণকাজ চলছে। সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ স্বেচ্ছায় এতে সহযোগিতা করছেন।
এ ছাড়া উজ্জয়িনীর শহর কাজি খলিক উর রহমান বলেন, গত রোববার রাতে মসজিদ কমিটি ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে হওয়া বৈঠকের পর কমিটি ওই অংশটি নিজেরাই সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিছু মানুষ গুজবের কারণে ক্ষুব্ধ। এ কারণে সামান্য সংঘর্ষও হয়েছে, তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক ।
