জার্মানিতে কাজ আছে, বাংলাদেশে কর্মক্ষম তরুণ আছে। কিন্তু জার্মানি যে দক্ষতা খুঁজছে, বাংলাদেশের তরুণদের কতজনের হাতে সেই দক্ষতা আছে? আগামী দিনের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সম্ভবত এখানেই।
ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতি জার্মানিতে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সরকারি কর্মসংস্থান সংস্থায় নিবন্ধিত শূন্যপদ ছিল প্রায় ৬ লাখ ৫৩ হাজার। এটিই দেশটির মোট শূন্যপদ নয়, কারণ সব প্রতিষ্ঠান সরকারি সংস্থায় তাদের শূন্যপদ নিবন্ধন করে না। তবে সংখ্যাটি একটি বাস্তবতা স্পষ্ট করে: জার্মানির শ্রমবাজারে দক্ষ জনবলের প্রয়োজন এখনো বিপুল।
সরকারি বিশ্লেষণে ১৫০টির বেশি পেশাগত ক্ষেত্রে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি চিহ্নিত হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা, নার্সিং, নির্মাণ ও বিভিন্ন কারিগরি পেশায় সংকট বিশেষভাবে দৃশ্যমান। পেশাদার গাড়িচালক, শিশু পরিচর্যা ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রেও কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে।
এর পেছনে বড় কারণ জনমিতিক পরিবর্তন। জার্মান সমাজ দ্রুত বয়স্ক হচ্ছে। বিপুলসংখ্যক অভিজ্ঞ কর্মী আগামী বছরগুলোতে অবসরে যাবেন। কিন্তু তাদের জায়গা পূরণ করার মতো পর্যাপ্ত তরুণ স্থানীয় শ্রমবাজারে নেই। ফলে অভিবাসন জার্মানির জন্য এখন শুধু রাজনৈতিক বা সামাজিক বিতর্ক নয়, অর্থনৈতিক প্রয়োজনও। আর এখানেই বাংলাদেশের জন্য সুযোগ।
দক্ষ বিদেশি কর্মীদের আকৃষ্ট করতে জার্মানি তার অভিবাসন কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। এর সবচেয়ে আলোচিত ব্যবস্থাগুলোর একটি অপরচুনিটি কার্ড বা Chancenkarte। এটি মূলত চাকরি অনুসন্ধানের জন্য একটি আবাসিক অনুমতি। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সমিতির বাইরের দেশের নাগরিকরা আগে থেকে পূর্ণকালীন চাকরির চুক্তি ছাড়াই জার্মানিতে গিয়ে কাজ খুঁজতে পারেন। সাধারণভাবে সর্বোচ্চ ১২ মাস সেখানে থেকে চাকরি অনুসন্ধানের সুযোগ রয়েছে।
অর্থাৎ আগে চাকরি, তারপর জার্মানি এই প্রচলিত সমীকরণ কিছুটা বদলেছে। এখন প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকলে আগে জার্মানিতে গিয়ে সেখানকার শ্রমবাজারে সরাসরি কাজ খোঁজার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
কিন্তু অপরচুনিটি কার্ড চাকরির নিশ্চয়তা নয়। জার্মান সরকার কাউকে ডেকে নিয়ে চাকরি দিচ্ছে না। এটি একজন যোগ্য ব্যক্তিকে জার্মানিতে উপস্থিত থেকে নিজের দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি খোঁজার বৈধ সুযোগ দেয়। এ সময় সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ঘণ্টা খণ্ডকালীন কাজ করা যায়। সম্ভাব্য নিয়োগকর্তার অধীনে সীমিত সময় পরীক্ষামূলকভাবে কাজ করার সুযোগও রয়েছে।
যোগ্য চাকরি পাওয়া গেলে চাকরি ও পেশাগত যোগ্যতার ধরন অনুযায়ী কর্মভিত্তিক আবাসিক অনুমতি কিংবা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্লু কার্ড বা ইইউ ব্লু কার্ডের জন্য আবেদন করা যায়।
অপরচুনিটি কার্ডের ক্ষেত্রেও সবাইকে পয়েন্টভিত্তিক পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যেতে হয় না। যাদের শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতা জার্মানিতে সম্পূর্ণ স্বীকৃত, তারা স্বীকৃত দক্ষ কর্মী হিসেবে আবেদন করতে পারেন। অন্যদের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে অন্তত ছয় পয়েন্ট অর্জন করতে হয়। শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা, বয়স, ভাষাজ্ঞান এবং জার্মানির সঙ্গে পূর্ববর্তী সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় এই পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়।
প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অন্তত এ১ পর্যায়ের জার্মান অথবা বি২ পর্যায়ের ইংরেজি ভাষাজ্ঞান থাকতে হয়। একই সঙ্গে চাকরি খোঁজার সময় নিজের জীবনযাত্রার ব্যয় বহনের আর্থিক সক্ষমতাও প্রমাণ করতে হয়। ২০২৬ সালের হিসাবে সাধারণভাবে মাসে অন্তত ১ হাজার ৯১ ইউরোর আর্থিক সংস্থান দেখানোর প্রয়োজন হয়।
অর্থাৎ একটি ডিগ্রি হাতে নিয়ে জার্মানিতে পৌঁছালেই চাকরি ও স্থায়ী বসবাস নিশ্চিত, বাস্তবতা মোটেও এত সহজ নয়। আর যাদের হাতে ইতিমধ্যে যোগ্য চাকরির প্রস্তাব রয়েছে, তাদের জন্য ইইউ ব্লু কার্ড আরও আকর্ষণীয় পথ। ২০২৬ সালে সাধারণভাবে বছরে অন্তত ৫০ হাজার ৭০০ ইউরো মোট বেতনের যোগ্য চাকরি প্রয়োজন। নির্দিষ্ট দক্ষতাসংকটপূর্ণ পেশা এবং কিছু নতুন পেশাজীবীর ক্ষেত্রে এই বেতনসীমা প্রায় ৪৫ হাজার ৯৩৪ ইউরো।
ইইউ ব্লু কার্ডের বড় সুবিধা স্থায়ী বসবাসের পথ তুলনামূলক দ্রুত হওয়া। অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে ২৭ মাস পর স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করা যায়। বি১ পর্যায়ের জার্মান ভাষাজ্ঞান থাকলে সময়টি ২১ মাসে নেমে আসতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাটি ভিসা নয়, দক্ষতা।
বাংলাদেশ কয়েক দশক ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনশক্তি পাঠাচ্ছে। লাখ লাখ প্রবাসী শ্রমিকের শ্রম ও পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। কিন্তু আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আগামী দিনের প্রতিযোগিতা শুধু কে কত পরিশ্রম করতে পারেন, তা দিয়ে নির্ধারিত হবে না। কে কত দক্ষ, কোন প্রযুক্তি জানেন, কোন ভাষায় যোগাযোগ করতে পারেন এবং তার যোগ্যতা আন্তর্জাতিকভাবে কতটা গ্রহণযোগ্য, সেটিই তার বাজারমূল্য নির্ধারণ করবে।
তাই বৈদেশিক কর্মসংস্থান নীতির সাফল্য শুধু বছরে কতজন মানুষ বিদেশে গেলেন, সেই সংখ্যা দিয়ে মাপলে চলবে না। প্রশ্ন করতে হবে, তারা কোন দক্ষতা নিয়ে গেলেন, কোন পেশায় গেলেন এবং কত আয় করতে পারছেন? এখানেই সরকারের দায়িত্ব শুরু।
প্রথমত, জার্মানিকে লক্ষ্য করে পাঁচ বছর মেয়াদি দক্ষ জনশক্তি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। জার্মানির কোন কোন পেশায় বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদা রয়েছে, তার নিয়মিত শ্রমবাজার বিশ্লেষণ প্রয়োজন। নার্সিং, বয়স্ক পরিচর্যা, বৈদ্যুতিক কাজ, যন্ত্র ও বিদ্যুৎপ্রযুক্তি, নির্মাণ প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ, পেশাদার গাড়িচালনা এবং অন্যান্য চাহিদাসম্পন্ন পেশাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য শুধু সনদ বিতরণ নয়, সরাসরি কর্মসংস্থান হতে হবে।
দ্বিতীয়ত, জার্মান ভাষাকে দক্ষতা প্রশিক্ষণের অবিচ্ছেদ্য অংশ করতে হবে। সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, নির্বাচিত পলিটেকনিক ও নার্সিং প্রতিষ্ঠানে পেশাভিত্তিক জার্মান ভাষা শিক্ষা চালু করা যেতে পারে। একজন নার্সের প্রয়োজনীয় ভাষাজ্ঞান আর একজন বৈদ্যুতিক বা যন্ত্রপ্রযুক্তি কর্মীর প্রয়োজনীয় ভাষাজ্ঞান এক নয়। তাই ভাষা প্রশিক্ষণও পেশাভিত্তিক হওয়া দরকার।
তৃতীয়ত, বাংলাদেশি ডিগ্রি ও পেশাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি সহজ করতে জার্মানির সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা বাড়াতে হবে। একজন তরুণ তিন বা চার বছর প্রশিক্ষণ নিয়ে শেষে জার্মানিতে গিয়ে যদি জানতে পারেন তার সনদ সেখানে গ্রহণযোগ্য নয়, তাহলে পুরো প্রক্রিয়াটিই ব্যর্থ হবে। কোন পাঠ্যক্রমে কী মান প্রয়োজন, কোথায় অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ দরকার এবং কোন পেশায় আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি বাধ্যতামূলক, তা প্রশিক্ষণ শুরুর আগেই জানাতে হবে।
চতুর্থত, জার্মানির সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে। শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে অপরচুনিটি কার্ডের আবেদনকে জাতীয় কৌশল বলা যায় না। বাংলাদেশ সরকার, জার্মান কর্তৃপক্ষ, নিয়োগকর্তা, হাসপাতাল, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রশিক্ষণ সংস্থার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করতে হবে। কোথায় কত কর্মী প্রয়োজন, কী যোগ্যতা লাগবে এবং বাংলাদেশেই কীভাবে সেই কর্মী তৈরি করা যায়, তার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দরকার।
পঞ্চমত, একটি সরকারি ‘জার্মানি কর্মসংস্থান সহায়তা কেন্দ্র’ চালু করা যেতে পারে। অপরচুনিটি কার্ড, ইইউ ব্লু কার্ড, শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি, ভাষার প্রয়োজনীয়তা, আর্থিক সক্ষমতা এবং আবেদনপদ্ধতি সম্পর্কে সেখানে বাংলা ভাষায় হালনাগাদ তথ্য থাকতে হবে। একজন তরুণকে যেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপন বা দালালের কাছ থেকে জার্মান অভিবাসন আইনের তথ্য জানতে না হয়।
ষষ্ঠত, দালাল ও ভুয়া নিয়োগ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শুরুতেই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ‘শতভাগ জার্মান ভিসা’, ‘নিশ্চিত চাকরি’, ‘অপরচুনিটি কার্ড পেলেই স্থায়ী বসবাস’ জাতীয় প্রচারণার ওপর নজরদারি দরকার। লাইসেন্স ছাড়া বিদেশে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ সংগ্রহের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা এবং সহজ অভিযোগ ব্যবস্থাও থাকতে হবে।
সপ্তমত, প্রশিক্ষণের সঙ্গে বাস্তব কর্মসংস্থানকে যুক্ত করতে হবে। কতজন প্রশিক্ষণ নিলেন, সেই সংখ্যা দিয়ে সরকারি প্রকল্পের সাফল্য মাপলে চলবে না। কতজন আন্তর্জাতিক মানের যোগ্যতা অর্জন করলেন, কতজনের সনদ স্বীকৃতি পেল, কতজন চাকরির সাক্ষাৎকার দিলেন, কতজন নিয়োগ পেলেন এবং তাদের গড় আয় কত, এসব সূচক দিয়ে প্রকল্পের ফলাফল মূল্যায়ন করতে হবে।
অষ্টমত, যোগ্য তরুণদের জন্য কম খরচে বৈধ অভিবাসনের পথ তৈরি করতে হবে। শুধু অর্থের অভাবে একজন দক্ষ তরুণ যেন সুযোগ হারিয়ে না ফেলেন। স্বচ্ছ শর্তে ভাষা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ঋণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অভিবাসন সহায়তা ঋণ বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এই ব্যবস্থায় নতুন মধ্যস্বত্বভোগী তৈরি হতে দেওয়া যাবে না।
নবমত, বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোকে কর্মসংস্থান কূটনীতিতে সক্রিয় করতে হবে। জার্মান নিয়োগকর্তা, শিল্প সংগঠন, হাসপাতাল, ব্যবসায়ী সমিতি ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে কোন খাতে কর্মীর চাহিদা বাড়ছে, সেই তথ্য ঢাকায় পাঠাতে হবে। কূটনৈতিক সাফল্যের একটি মাপকাঠি হওয়া উচিত নতুন বাজারে কতটি দক্ষ কর্মসংস্থানের পথ তৈরি হলো।
দশমত, পুরো কর্মসূচির জন্য পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। পাঁচ বছরে কতজনকে জার্মান ভাষা শেখানো হবে, কতজনের পেশাগত যোগ্যতা স্বীকৃত করা হবে, কতজন সরাসরি নিয়োগ পাবেন এবং কতজন উচ্চ দক্ষতার পেশায় যাবেন, তার নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকতে হবে। প্রতিবছর সেই অগ্রগতি প্রকাশ করতে হবে।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি। জার্মানিতে ছয় লাখের বেশি নিবন্ধিত শূন্যপদ থাকার অর্থ এই নয় যে ছয় লাখ বিদেশি কর্মী আগামীকালই সেখানে চাকরি পাবেন। সব শূন্যপদ বিদেশিদের জন্য নয়, সব খাতে কর্মী সংকটও নেই। সমস্যাটি অনেক ক্ষেত্রেই দক্ষতার সঙ্গে চাহিদার অসামঞ্জস্য। যেখানে মানুষ দরকার, সেখানে প্রয়োজনীয় দক্ষতার মানুষ পাওয়া যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের জন্য সুযোগটি ঠিক এখানেই। জার্মানির প্রয়োজনীয় দক্ষতা আমরা তৈরি করতে না পারলে লাখ লাখ শূন্যপদ আমাদের জন্য কেবল একটি পরিসংখ্যান হয়ে থাকবে। আর যদি সেই চাহিদা বুঝে মানুষ তৈরি করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের চিত্রই বদলে যেতে পারে।
আমাদের জনশক্তি নীতির দর্শনও তাই বদলাতে হবে। শুধু কতজন মানুষ বিমানবন্দর পার হলেন, সেই হিসাব নয়; দেখতে হবে তারা কী দক্ষতা নিয়ে গেলেন, কী বেতন পেলেন এবং পাঁচ বছর পর তাদের পেশাগত অবস্থান কোথায়। একজন আন্তর্জাতিক মানের নার্স, প্রযুক্তিবিদ, প্রকৌশলী কিংবা তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ বিদেশে গেলে তিনি শুধু বেশি অর্থ দেশে পাঠান না। তিনি নতুন প্রযুক্তি শেখেন, আন্তর্জাতিক কর্মসংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হন এবং ভবিষ্যতে দেশের জন্য জ্ঞান, বিনিয়োগ ও যোগাযোগের সেতু তৈরি করতে পারেন।
জার্মানি তার প্রয়োজন বুঝে অভিবাসন আইন বদলেছে। এখন বাংলাদেশের প্রয়োজন বুঝে জনশক্তি নীতি বদলানোর পালা। সরকারের কাজ তাই পরিষ্কার: শ্রমবাজার চিহ্নিত করুন, সেই বাজারের জন্য দক্ষ মানুষ তৈরি করুন, ভাষা শেখান, যোগ্যতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথ সহজ করুন, জার্মান নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ গড়ুন, অভিবাসনের খরচ কমান এবং দালালকে মাঝখান থেকে সরিয়ে দিন। অপরচুনিটি কার্ড একটি সুযোগ মাত্র। সেই সুযোগকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করতে হলে রাষ্ট্রকেই নেতৃত্ব দিতে হবে।
জার্মানির দরজা খুলছে। প্রশ্ন এখন জার্মানি কতজন বাংলাদেশিকে নেবে, তা নয়। আসল প্রশ্ন, বাংলাদেশ কতজন তরুণকে এমনভাবে তৈরি করতে পারবে, যাদের জার্মানিরই প্রয়োজন হবে।
লেখক: জেনেভাভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক, প্রাইভেট ব্যাংকিং ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম কমপ্লায়েন্স বিশেষজ্ঞ, কলামিস্ট ও কবি। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বৈশ্বিক আর্থিক স্বচ্ছতা ও কৌশলগত বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখেন।
ই-মেইল: [email protected]
