ইতালির স্কুলে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশটির মুসলিমরা। তাদের বক্তব্য, পুরো মুখ ঢেকে স্কুলে যায় এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই কম। ফলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরির প্রয়োজন নেই।
মিলানের আল-ওয়াহিদ মসজিদে শুক্রবারের নামাজ শেষে ৫৮ বছর বয়সী শিক্ষক মুলায়কা লরা এনরিয়েল্লো বলেন, কিছু ছাত্রী হিজাব পরলেও তার শিক্ষকতা জীবনে কোনো শিক্ষার্থীকে মুখঢাকা পোশাকে স্কুলে আসতে দেখেননি।
আল জাজিরাকে তিনি বলেন, যারা স্কুলে হিজাব পরতে চায়, তারা তা পরে। শিক্ষক বা শিক্ষার্থী-কেউ তাদের বিরক্ত করে না।
গত রোববার প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির তার দল ‘ব্রাদার্স অব ইতালি’র এক সমাবেশে প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, স্কুলে শিক্ষার্থীদের মুখ খোলা রাখতে হবে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনসার হিসাবে, ইতালিতে বর্তমানে মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ নারী শিক্ষার্থী পুরো মুখ ঢেকে রাখা পোশাক পরেন।
এনরিয়েল্লোর মতে, কোনো ছাত্রী বোরকা পরে স্কুলে এলে তাকে বাড়ি পাঠানো ঠিক হবে না। কারণ সে অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজের কাছে সঠিক মনে করেই হয়তো এমন পোশাক পরছে।
মিলানের আল-ওয়াহিদ মসজিদের ইমাম ইয়াহিয়া পাল্লাভিচিনি প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞাকে ‘ভুয়া সমস্যা’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, খুব অল্পসংখ্যক মানুষের পোশাককে কেন্দ্র করে পুরো মুসলিম সমাজ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা হচ্ছে।
আল জাজিরাকে তিনি বলেন, বোরকাকে ব্যবহার করে ভিন্নতাকে উপহাস করার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট ধরনের সমাজের ধারণা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।
ইতালিয়ান ইসলামিক রিলিজিয়াস কমিউনিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট পাল্লাভিচিনি আরও বলেন, মুসলিম সমাজের একটি ছোট অংশকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এটি ‘বুদ্ধিবৃত্তিক অসততার’ উদাহরণ।
