সাত মাস অনেক সময়: আইনশৃঙ্খলায় এবার কঠোর হওয়ার পালা

সাত মাস অনেক সময়: আইনশৃঙ্খলায় এবার কঠোর হওয়ার পালা

ফন্ট সাইজ:

একটি সরকারের সাফল্য শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কূটনৈতিক অর্জন কিংবা উন্নয়ন প্রকল্প দিয়ে বিচার করা যায় না। রাষ্ট্রের সবচেয়ে মৌলিক দায়িত্ব হলো নাগরিকের জীবন, সম্পদ ও মর্যাদার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মানুষ যদি নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে নিরাপদে ফিরতে পারবে কি না, ব্যবসায়ী যদি চাঁদাবাজির ভয় করেন, নারী যদি রাস্তায় নিরাপত্তাহীন বোধ করেন, আর অপরাধী যদি মনে করে রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাব তাকে আইনের হাত থেকে রক্ষা করবে, তাহলে অন্য সব অর্জন শেষ পর্যন্ত ম্লান হয়ে যায়।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সাত মাস পর তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আর শুধু সময় চাওয়ার সুযোগ খুব বেশি নেই। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, রাষ্ট্র ও জনগণের প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনী নামানো হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, পুলিশ তাদের কার্যক্রম আরও জোরদার করছে এবং যেকোনো সিদ্ধান্ত আইনের সীমার মধ্যেই নেওয়া হবে। এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মধ্য দিয়ে সরকার অন্তত স্বীকার করছে যে জননিরাপত্তা নিয়ে মানুষের উদ্বেগকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।

সরকারের যুক্তিও একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পালাবদলের পর পুলিশ বাহিনী গভীর সংকটে পড়েছিল। বাহিনীর মনোবল, নেতৃত্ব, জনআস্থা এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। বর্তমান সরকার এমন একটি পুলিশ বাহিনী পেয়েছে, যাকে একই সঙ্গে পুনর্গঠন করতে হচ্ছে এবং দৈনন্দিন আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। ডা. জাহেদ উর রহমানও এর আগে এই বাস্তবতার কথা বলেছেন।

কিন্তু সাত মাস পর একই ব্যাখ্যা বারবার দেওয়া হলে সেটি আর যথেষ্ট শোনায় না। রাষ্ট্র পরিচালনায় উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা বাস্তব, কিন্তু সেই সমস্যা সমাধানের দায়িত্বও বর্তমান সরকারের। নাগরিকের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, তিনি আজ কতটা নিরাপদ।

এই প্রশ্নকে আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখার কারণ রয়েছে। চলতি বছরের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত তিন মাসে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী দেশে ৯১৫টি হত্যা মামলা রেকর্ড হয়েছে, অর্থাৎ গড়ে দিনে দশটির বেশি। সরকার অবশ্য বলছে, সব অপরাধ একইভাবে বাড়েনি। ডা. জাহেদ উর রহমানের দেওয়া সাম্প্রতিক তুলনামূলক তথ্য অনুযায়ী, হত্যার ঘটনা কিছুটা বাড়লেও চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো কিছু অপরাধ কমেছে। কাজেই পুরো পরিস্থিতিকে এককথায় ভয়াবহ অবনতি বলা যেমন সরলীকরণ হবে, তেমনি বিচ্ছিন্ন কিছু পরিসংখ্যান দেখিয়ে জনমনের নিরাপত্তাহীনতাকে অস্বীকার করাও ঠিক হবে না।

আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানের পাশাপাশি মানুষের উপলব্ধিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নিরাপত্তা শুধু রাষ্ট্রের হিসাবের খাতায় থাকে না, নিরাপত্তা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অনুভূত হতে হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো অপরাধের পাশাপাশি দণ্ডহীনতার ধারণা তৈরি হওয়া। কোনো ব্যক্তি যদি মনে করেন রাজনৈতিক পরিচয়, ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সম্পর্ক, অর্থ কিংবা স্থানীয় প্রভাব তাকে রক্ষা করবে, তাহলে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব দুর্বল হয়। অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় কী, তিনি কোন দলের কর্মী, কার অনুসারী কিংবা কার আত্মীয়, এগুলো পুলিশের বিবেচ্য বিষয় হতে পারে না। তার একমাত্র পরিচয় হওয়া উচিত, তিনি আইন ভেঙেছেন কি না। এই জায়গায় সরকারকে কঠোর হতে হবে নিজের ঘর থেকেই।
ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি করলে তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে। বিরোধী দলের কেউ সহিংসতায় জড়ালে তাকেও একই আইনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, ছাত্রনেতা, স্থানীয় নেতা কিংবা জনপ্রতিনিধি, কারও জন্য আইনের আলাদা দরজা থাকতে পারে না। আইনের সবচেয়ে বড় শক্তি অস্ত্র নয়, নিরপেক্ষতা।

প্রশ্ন হচ্ছে, যৌথ বাহিনী কি এর সমাধান? বিশেষ পরিস্থিতিতে যৌথ বাহিনী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্র, সংঘবদ্ধ অপরাধ, চাঁদাবাজি, অপহরণ, মাদক নেটওয়ার্ক কিংবা এমন কোনো নিরাপত্তা সংকট যেখানে পুলিশের একক সক্ষমতা যথেষ্ট নয়, সেখানে আইনসম্মত ও সমন্বিত অভিযান প্রয়োজন হতে পারে। সরকার যদি বিশ্বাসযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে সীমিত সময়ের অভিযান পরিচালনা করে, তার যৌক্তিকতা রয়েছে।

কিন্তু যৌথ বাহিনীকে নিয়মিত পুলিশিংয়ের বিকল্পে পরিণত করা যাবে না। বাংলাদেশের অতীত অভিজ্ঞতা আমাদের সতর্ক করে। বিশেষ বাহিনী কিংবা নিরাপত্তা অভিযানের নামে ক্ষমতার অপব্যবহার হলে তার মূল্য রাষ্ট্রকে দীর্ঘদিন দিতে হয়। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, নির্বিচার গ্রেপ্তার কিংবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানির অভিযোগ বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর জনআস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সুতরাং যৌথ অভিযান হলে তার লক্ষ্য হতে হবে অপরাধ, কোনো রাজনৈতিক মত নয়। অপরাধী ধরতে হবে, বিরোধী কণ্ঠ নয়। অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে, ভিন্নমত দমন নয়। এখানেই বর্তমান সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

কঠোর সরকার আর দমনমূলক সরকার এক বিষয় নয়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কঠোরতা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু আইনের বাইরে গিয়ে শক্তি প্রয়োগ রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করে না, বরং দুর্বল করে। গ্রেপ্তারের আইনি ভিত্তি থাকতে হবে, আটক ব্যক্তির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, অভিযান নথিভুক্ত করতে হবে এবং অভিযোগ উঠলে স্বাধীন তদন্তের সুযোগ রাখতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে সরকার নিজেও পুলিশকে আরও পেশাদার করার কথা বলেছে। রাষ্ট্রপতি পুলিশকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার পাশাপাশি আইন মেনে চলা, নাগরিকদের সঙ্গে মানবিক আচরণ এবং বিচারবহির্ভূত হত্যা, হয়রানি ও মিথ্যা মামলা প্রতিরোধের নির্দেশ দিয়েছেন। এই দুই নীতিকে পাশাপাশি ধরেই এগোতে হবে। আরেকটি বিষয় বুঝতে হবে। শুধু অভিযান দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে আইনশৃঙ্খলা ঠিক করা যায় না।

আজ এক হাজার মানুষ গ্রেপ্তার করা হলো, কাল আরও দুই হাজার। কিন্তু তদন্ত দুর্বল হলে, সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা না গেলে, মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকলে কিংবা প্রকৃত অপরাধী দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে ফিরলে অভিযান শেষ পর্যন্ত সংখ্যার খেলায় পরিণত হবে। বাংলাদেশের প্রয়োজন গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়ানো নয়, অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করার সক্ষমতা বাড়ানো।

এ জন্য পুলিশকে আধুনিক তদন্ত প্রযুক্তি, ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং দক্ষ জনবল দিতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও সম্প্রতি অপরাধের পরিবর্তিত ধরন মোকাবিলায় সাইবার নিরাপত্তা ইউনিট ও পরীক্ষাগার শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে মাদক ও জুয়াকে বিভিন্ন অপরাধের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো পুলিশের মনোবল ফিরিয়ে আনা। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত পেশাদার পুলিশ ছাড়া কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। একজন পুলিশ কর্মকর্তা যদি অপরাধী ধরার আগে ভাবেন অভিযুক্ত কোন দলের, কার ফোন আসবে, বদলি হতে হবে কি না, তাহলে অপরাধ দমন সম্ভব নয়।

পুলিশকে তাই রাজনৈতিক আনুগত্য নয়, পেশাগত দক্ষতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে। ভালো কাজের পুরস্কার এবং দায়িত্বে অবহেলার শাস্তি দুটোই দৃশ্যমান হতে হবে।

সরকারের সামনে এখন আরেকটি সুযোগ রয়েছে। জনগণের কাছে আইনশৃঙ্খলার প্রকৃত চিত্র নিয়মিত প্রকাশ করা যেতে পারে। হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, ধর্ষণ, অপহরণ, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদক মামলার মাসভিত্তিক তথ্য প্রকাশ করা হোক। কত মামলা হয়েছে, কতজন গ্রেপ্তার হয়েছে, কত মামলায় অভিযোগপত্র হয়েছে এবং কত মামলায় বিচার এগিয়েছে, মানুষ জানুক। এতে সরকারের সাফল্য থাকলে সেটিও স্পষ্ট হবে, ব্যর্থতা থাকলে সংশোধনের চাপ তৈরি হবে। স্বচ্ছতা সরকারের শত্রু নয়। বরং গুজব ও অতিরঞ্জিত ধারণার সবচেয়ে কার্যকর প্রতিষেধক।

সাত মাস একটি সরকারের জন্য দীর্ঘ সময় নয়, কিন্তু জননিরাপত্তার প্রশ্নে খুব কম সময়ও নয়। মানুষ সরকারকে সময় দিতে পারে, কিন্তু অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষা করতে পারে না। কারণ রাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা কোনো ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি নয়, এটি প্রতিদিনের অধিকার।

সরকারের এখন কয়েকটি বিষয়ে আপোশহীন হওয়া প্রয়োজন। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অবৈধ অস্ত্রধারী ও সংঘবদ্ধ অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে। বড় অপরাধী চক্রের অর্থের উৎস খুঁজে বের করতে হবে। থানা পর্যায়ে জবাবদিহি বাড়াতে হবে। পুলিশের তদন্ত সক্ষমতা দ্রুত উন্নত করতে হবে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজন হলে যৌথ বাহিনী ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে তার উদ্দেশ্য, সময়সীমা, আইনি কাঠামো ও জবাবদিহি স্পষ্ট থাকতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, সরকারের বার্তাটি দ্ব্যর্থহীন হতে হবে: অপরাধীর কোনো দল নেই।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রায়ই দেখা গেছে, বিরোধী অবস্থানে থাকলে যে অপরাধকে ভয়াবহ বলা হয়, ক্ষমতায় গেলে সেই একই অপরাধের জন্য নানা ব্যাখ্যা হাজির করা হয়। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বর্তমান সরকারের জন্য সুযোগ রয়েছে একটি নতুন নজির স্থাপনের। নিজের দলের লোক অপরাধ করলে তাকে আগে আইনের মুখোমুখি করার সাহস দেখানোই হবে সেই নজিরের সবচেয়ে শক্তিশালী সূচনা। রাষ্ট্রের শক্তি যৌথ বাহিনীর গাড়ির বহরে নয়, মানুষের আস্থায়। রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব অস্ত্র প্রদর্শনে নয়, আইন সমানভাবে প্রয়োগে।

যৌথবাহিনী প্রয়োজন হলে নামুক। অপরাধীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনসম্মত শক্তি প্রয়োগ হোক। কিন্তু সেই কঠোরতার সঙ্গে থাকতে হবে সংযম, স্বচ্ছতা, মানবাধিকার এবং জবাবদিহি। কারণ বাংলাদেশকে নিরাপদ করতে গিয়ে এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না, যা আবার ভয় ও ক্ষমতার অপব্যবহারের পুরোনো সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে আনে।

সাত মাস পর সরকারের সামনে তাই সিদ্ধান্তের সময় এসেছে। ব্যাখ্যার সময় ধীরে ধীরে শেষ হচ্ছে, এখন ফল দেখানোর সময়। মানুষ খুব বেশি কিছু চায় না। সে রাতে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে চায়। ব্যবসায়ী চাঁদা ছাড়া ব্যবসা করতে চান। নারী ও শিশু নিরাপদে চলতে চায়। নাগরিক থানায় গিয়ে রাজনৈতিক পরিচয় ছাড়াই আইনের সুরক্ষা পেতে চান। এগুলো কোনো সরকারের রাজনৈতিক অনুগ্রহ নয়। এগুলো নাগরিকের অধিকার। আর সেই অধিকার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব।

লেখক: জেনেভাভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক, প্রাইভেট ব্যাংকিং, ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম কমপ্লায়েন্স বিশেষজ্ঞ, কলামিস্ট ও কবি। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বৈশ্বিক আর্থিক স্বচ্ছতা ও কৌশলগত বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখেন।
ই-মেইল: [email protected]