বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ও ইউরোপিয়ান ফুটবল ফেডারেশন উয়েফার মধ্যকার দ্বন্দ্ব গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে নতুন আইনি নথিপত্র দাখিল করে উয়েফার বিরুদ্ধে একটি ‘পরিকল্পিত অপপ্রচার ক্যাম্পেইন’ চালানোর গুরুতর অভিযোগ এনেছে ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার দাবি, আসন্ন ফিফা সভাপতি নির্বাচনকে প্রভাবিত করতেই এই অপচেষ্টা চালাচ্ছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
গত মাসে মার্কিন আদালতে আইনি আবেদন করে ফিফার কাছ থেকে বিভিন্ন নথিপত্র ও তথ্য প্রকাশ করার দাবি জানায় উয়েফা। একই সঙ্গে সুইজারল্যান্ডে ফৌজদারি অভিযোগ দায়েরের প্রচ্ছন্ন হুমকিও দেয়া হয়। বিতর্কিত ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) প্রকল্পের বিষয়ে উয়েফা অভিযোগ তোলে, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ‘অপরাধমূলক অব্যবস্থাপনা’ করেছেন। এমনকি নিজের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য তিনি কৃত্রিমভাবে কম বাজারদর নির্ধারণ করেছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
এই অভিযোগের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে দিয়ে ফ্লোরিডার দক্ষিণাঞ্চলীয় আদালতে ফিফা জানিয়েছে, উয়েফার দাখিল করা নথিতে প্রচুর মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য রয়েছে। ফিফা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ‘কোনো ধরনের ভিত্তি ছাড়াই উয়েফা এমন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইনফান্তিনো এফএফই প্রস্তাব থেকে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হতে চেয়েছিলেন। ইনফান্তিনো কোনো আইন বা নৈতিক নীতি লঙ্ঘন করেছেন, এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এটি নিছক হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।’ ফিফা আরও জানায়, উয়েফার এই আইনি আবেদনটি অত্যন্ত অতিরঞ্জিত এবং এর আগে অন্যান্য আদালতেও এমন আবেদন সরাসরি খারিজ করা হয়েছে।
বিশ্বকাপসহ অন্যান্য টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে অংশীদারিত্ব বিক্রির ফিফা পরিকল্পনা প্রকাশ পাওয়ার পরেই তীব্র অসন্তোষের জন্ম দেয়। উয়েফার নেতৃত্বে এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিদ্রোহ তৈরি হয়েছে এবং ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে তিনটি কনফেডারেশন। ইতিমধ্যে ফিফার সহ-সভাপতি ডেবি হিউইট এই বিতর্কিত পরিকল্পনাটির একটি স্বাধীন তদন্ত এবং সমস্ত নথি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, আগামী ২০২৭ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা সভাপতি নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো লড়বেন ইনফান্তিনো। তার বিরোধীদের জন্য বিকল্প প্রার্থী খোঁজার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৮ই নভেম্বর।
