শ্রীলঙ্কার প্রাচীন অনুরাধাপুরা শহরের ‘জেতাভানারামায়া’ স্তূপ। গিজার মহা পিরামিডের পর প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম বিশালাকার স্থাপনা হিসেবে এখনো সগর্বে দাঁড়িয়ে রয়েছে। চতুর্থ শতাব্দীর শুরুতে অর্থাৎ প্রায় ৩০১ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত এই ধর্মীয় স্থাপনাটি আজও মানুষের তৈরি পৃথিবীর বৃহত্তম পোড়ামাটির ইটের তৈরি কাঠামো হিসেবে বিবেচিত। প্রায় ৯ কোটি ৩৩ লাখ পোড়ামাটির ইটের গাঁথুনিতে তৈরি সুবিশাল এই স্তূপটি ১৭০০ বছর ধরে ভূমিকম্প, বর্ষা আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহ্য করে টিকে রয়েছে। এই প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সিএনএন।
নির্মাণের সময় স্তূপটির উচ্চতা ছিল প্রায় ১২২ মিটার বা ৪০০ ফুট, যা প্রাচীন পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থাপনাগুলোর অন্যতম ছিল। তবে শত শত বছরের ক্ষয়ক্ষতি ও ধসের পর বর্তমানের পুনর্নির্মিত কাঠামোটি ৭১ মিটার (২৩৩ ফুট) উচ্চতায় দাঁড়িয়ে আছে। পাথর দিয়ে তৈরি পিরামিডের মতো না হয়ে কেবল পোড়ামাটির কাদামাটির ইট দিয়ে এমন বিশাল স্থাপনা তৈরি করা তৎকালীন প্রকৌশলবিদ্যার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তৎকালীন সময়ে নির্মাণকাজে ভারী সরঞ্জাম বহনে হাতির ব্যবহার এবং ভিত্তি পরীক্ষার জন্য অভিনব জল পরীক্ষার পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছিল।
জেতাভানারামায়া ছিল শুধু একটি স্তূপ নয়, শত শত বৌদ্ধ ভিক্ষুর বসবাসের জন্য গড়ে ওঠা একটি সুবিশাল বিহার কমপ্লেক্স। সেখানে খননকাজ চালিয়ে মহামূল্যবান সংস্কৃত পাণ্ডুলিপি ও স্বর্ণফলক উদ্ধার করা হয়েছে, যা প্রাচীনকালে এই অঞ্চলকে বৈশ্বিক বৌদ্ধ দর্শনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করে। তবে শ্রীলঙ্কার বাইরে প্রাচীন পৃথিবীর এমন অবিশ্বাস্য প্রকৌশল বিস্ময় দীর্ঘকাল বনাঞ্চলে ঢেকে থাকায় এবং ইতিহাসচর্চায় উপেক্ষিত থাকায় বিশ্বের কাছে অনেকটাই অজানা রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞ ও প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, এই স্তূপটি কেবল প্রাচীন স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শনই নয়, তৎকালীন মানব মেধা, গভীর ভক্তি ও শ্রম ব্যবস্থাপনার এক চিরন্তন প্রমাণ।
