যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্নেল ইউনিভার্সিটি। সেখানে ২০২৪ সালে এক ছাত্রীকে মাদক খাইয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগে নতুন করে ফৌজদারি তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন নিউ ইয়র্কের প্রসিকিউটররা। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী গত ১৬ই সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা দায়ের করার পর বিষয়টি নতুন মোড় নেয়। টম্পকিন্স কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন সোমবার জানান, অভিযোগ গঠনের পর একটি গ্র্যান্ড জুরির মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে মামলাটি পরিচালনা করা হবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
আদালতের নথিতে ‘জেন ডো’ ছদ্মনামে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৯শে অক্টোবর কর্নেল ইউনিভার্সিটির কাই ফাই ফ্র্যাটার্নিটির একটি বাড়িতে তাকে চেতনানাশক কেটামিন ও অ্যালকোহল খাইয়ে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় অন্তত সাতজন মিলে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ করে। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সম্মতি দেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে তিনি ছিলেন না। মামলায় একটি স্ন্যাপচ্যাট গ্রুপের কথোপকথনের স্ক্রিনশটও যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে এক সদস্য অন্য সদস্যদের অশালীন ভাষায় যৌন সংসর্গের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তৎকালীন সময়ে পুলিশকে জানানোর পরও উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি বলে দাবি প্রসিকিউটরের। ভ্যান হাউটেন দাবি করেন, সে সময় ভুক্তভোগীর দেওয়া জবানবন্দিতে মাদক প্রয়োগ বা জোরপূর্বক সম্পর্কের সুস্পষ্ট উল্লেখ ছিল না। তবে তিনি স্বীকার করেন, যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের মানসিক ট্রমা কাটিয়ে বাস্তব চিত্র বুঝতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
অন্যদিকে ভুক্তভোগীর আইনজীবী টমাস জিউফ্রা প্রসিকিউশনের বিরুদ্ধে ব্যর্থতা ঢাকার অভিযোগ এনেছেন। তিনি জানান, ঘটনার পর তীব্র ট্রমার কারণে ছাত্রীটি স্বাভাবিক ছিলেন না এবং পুলিশ বিস্তারিত কোনো তদন্ত ছাড়াই মামলাটি চাপা দিয়েছিল।
একই সঙ্গে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি দেয়নি, বরং তাদের কেবল রচনা লেখার সুযোগ দিয়ে ছাড় দিয়েছিল। তবে কর্নেল ইউনিভার্সিটি এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, তদন্তের ভিত্তিতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল এবং ওই ফ্র্যাটার্নিটি ক্লাবকে ক্যাম্পাসে এখনো নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে।
চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অভিনেত্রী ফ্লোরেন্স পিউ এবং মার্কিন আইনপ্রণেতা আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-করতেজসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা অনুযায়ী, কর্নেল ইউনিভার্সিটির স্নাতক পর্যায়ের প্রায় ৩৫ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে যৌন হয়রানি বা নিপীড়নের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন, যা সেখানে যৌন সহিংসতার গভীর সংকটকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
