কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে জেলার ১৮টি থানায় আটক ৪১৫ জনের মধ্যে ২৭৭ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অপর ১৩৮ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে কিশোর গ্যাং-সংক্রান্ত অপরাধ, মাদক ব্যবসা ও সেবন, নিয়মিত মামলা, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আসামি রয়েছেন। গত রোববার সন্ধ্যা ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সমন্বয়ে এ অভিযান চালানো হয়। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান এসব তথ্য জানান।
এর আগে কুমিল্লায় গত বুধবার ও শনিবার রাতে একইভাবে অভিযান চালিয়ে ৮৭৮ জনকে আটক করেছিল পুলিশ। তাদের মধ্যে ৫৯৭ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। অন্য ২৮১ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সবমিলিয়ে গত পাঁচদিনে তিন দফা অভিযানে ১ হাজার ২৯৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে এমন বিভিন্ন স্থান, কিশোরদের আড্ডাস্থল ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে একদিকে কুমিল্লাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে, অন্যদিকে অপরাধপ্রবণতাও কমে আসছে। আমরা কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ অভিযানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চাই। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। গতকাল রাতে কুমিল্লা নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৮ জনকে আটক করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। তাদের মধ্যে অন্তত চারজন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেছে পুলিশ। কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, নগরের যেসব এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা আড্ডা দেয় এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করে, সেসব এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন আলোচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এবং অপরজন অন্য একটি গ্যাংয়ের সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।
