‘সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়ার আগে তথ্য যাচাই করুন’

ফন্ট সাইজ:

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য দেখেই তা বিশ্বাস বা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, যাচাই বাছাই ছাড়া ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিক্রিয়া জানালে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা কোনো গোষ্ঠী অযথা ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। সোমবার আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ: অপতথ্য রোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা’ শীর্ষক সভাটির আয়োজন করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এতে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন।

জেলা প্রশাসক বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই এর সত্যতা যাচাই না করেই সেটিকে সত্য ধরে নেন। বিশেষ করে নেতিবাচক বা চাঞ্চল্যকর তথ্য দ্রুত মানুষের নজর কাড়ে। কিন্তু পরে তথ্যটি ভুল প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সামাজিক ও পারিবারিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাতে এক সেকেন্ড লাগে। কিন্তু তথ্যটি সত্য কিনা, এর বাস্তব প্রেক্ষাপট কী এবং আমার প্রতিক্রিয়ার কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবে কিনা— এসব বিষয় অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে। তথ্যের উৎস, সত্যতা ও প্রেক্ষাপট যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে নেয়া কোনো পদক্ষেপ নতুন করে বিরোধ বা পাল্টা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই ক্ষতির শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

জাহিদুল বলেন, ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রীয় ও গোষ্ঠীগত স্বার্থে তথ্য ব্যবহারের নজির রয়েছে। সঠিক তথ্য মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে, অন্যদিকে ভুল কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে। ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থার বিস্তারের ফলে তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব এখন আরও বেড়েছে। সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ডিজিটাল যুগে কোনো বিষয় দীর্ঘদিন আড়াল করে রাখার সুযোগ কমে এসেছে। তাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ ও পক্ষপাতের প্রভাব কমাতে সহায়ক হতে পারে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নজরদারিতে প্রযুক্তির ব্যবহার এর উদাহরণ। চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকাতেও এআইনির্ভর ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তবে প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, মানুষের বিবেক, প্রজ্ঞা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। আইন, ন্যায় ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করা হলে প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার প্রয়োজনও কমবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।