সাভারের আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকায় মাদ্রাসা পরিচালনা নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিত হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপি’র নেতাসহ ৫০-৬০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে তাহফিজুল কোরআনুল কারিম ফাজিল (স্নাতক) মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। সোমবার আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে রোববার বিকালে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় রাতেই মাদ্রাসাটির উপ-পরিচালক (প্রশাসন) সৈয়দ সানজিদ বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
জানা যায়, বেআইনি জনতাবদ্ধে অনধিকার প্রবেশ করে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মাধ্যমে ক্ষতিসাধন, হুমকি প্রদানের অপরাধে দায়ের করা মামলায় ইমাম হাসানকে (৫০) প্রধান আসামি এবং ধামসোনা ইউনিয়ন বিএনপি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেনকে ২ নম্বর আসামি করে ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় বাদীর অভিযোগ, আসামিদের সঙ্গে মাদ্রাসার মালিকানাধীন মার্কেট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সেই ধারাবাহিকতায় রোববার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আসামি ইমাম হাসানের হুকুমে অন্য আসামিরা দেশীয় অস্ত্র হাতে বেআইনিভাবে জড়ো হয়ে মাদ্রাসা ও মার্কেটে অনধিকার প্রবেশ করে এবং মাদ্রাসা মার্কেট দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় মাদ্রাসার সিকিউরিটি ইনচার্জ মো. আলতাব হোসেন (৬৫) বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেয় সন্ত্রাসীরা। পরে আসামিরা মাদ্রাসার আসবাবপত্র, দরজা, জানালা ও প্রায় ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি করে। এ ছাড়া, মাদ্রাসার লকারে রক্ষিত নগদ ২০ লাখ টাকা, এক লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের দু’টি ল্যাপটপ, প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের ১০টি কম্পিউটার মনিটর লুট করে।
মাদ্রাসাটির উপ-পরিচালক (প্রশাসন) এবং আশরাফ চ্যারিটেবল ট্রাস্টের সদস্য সৈয়দ সানজিদ অভিযোগ করেন, রোববার বিকালে স্থানীয় বিএনপি নেতা জাকির হোসেন ও ইমাম হাসানের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মাদ্রাসায় অতর্কিত হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং কম্পিউটার, নগদ অর্থসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। এর আগে তারা মাদ্রাসার সামনে ট্রাস্টের জায়গায় মহাসড়কের পাশে নির্মিত একটি মার্কেটও জোরপূর্বক দখল করে রেখেছিলেন। সম্প্রতি তাকে সেখান থেকে বিতাড়িত করার ক্ষোভেই তারা এই হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, হামলার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন ধামসোনা ইউনিয়ন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ঢাকা জেলা তাঁতী দলের সভাপতি জাকির হোসেন। তিনি সৈয়দ সানজিদকে ‘সন্ত্রাসী ও মাদকাসক্ত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, মাদ্রাসার সঙ্গে সানজিদের কোনো সম্পর্ক নেই। নিজেকে মাদ্রাসাটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং তার ছেলে ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী দাবি করে জাকির বলেন, সানজিদ জোরপূর্বক মাদ্রাসাটি দখল করে রেখেছিল, তাই অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী তাদের সেখান থেকে বিতাড়িত করেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম বলেন, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। খুব শিগগিরই হামলা এবং লুটপাটকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
