যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘অপারেশন ক্লিন হার্টের’ আদলে অভিযানের চিন্তা। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর বিরোধপূর্ণ জমি পালটাপালটি দখলকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অপরাধীচক্র। তাদের নেপথ্যে রয়েছে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হাত। সম্প্রতি ইসিবি চত্বরের নিউ গিনি প্রোপার্টিজ, মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক, মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এবং আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ে হামলার ঘটনায় বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। এসব ঘটনায় নাগরিক জীবনে ভীতির সঞ্চার হয়েছে। দেখা দিয়েছে নানা আশঙ্কা। কখন কার জমি বিরোধপূর্ণ দাবি করে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে সন্ত্রাসীরা দখলের চেষ্টা করে-এমন ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে মানুষের মনে। দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগে এমনটি হচ্ছে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা। এসব ঘটনা সামনে রেখে সরকার জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। এর অংশ হিসাবে নজর দেওয়া হয়েছে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ড ও অপতৎপরতার দিকে। তাদের দমনে ২০০২ সালের ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর আদলে বড় ধরনের অভিযানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মনে করছে, ক্ষমতার পালাবদল ও রাজনৈতিক পরিবর্তন এলেও দখলদারি ও আধিপত্য বিস্তারে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ব্যবহারের পুরোনো কৌশল বদলায়নি। রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় এবং পুরোনো আক্রোশ কাজে লাগিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা পেছন থেকে অপরাধের কলকাঠি নাড়ছে। গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকটি হামলায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নাম জড়ালেও এর গভীরে রয়েছে পুরোনো শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নানা ছক। এ কারণেই রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর আদলে বড় ধরনের কোনো অভিযান করা যায় কি না, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে সরকার। তবে বিষয়টি এখনো প্রাথমিকভাবে আলাপ-আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এটি চূড়ান্ত করার আগে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র যুগান্তরকে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা ও সহিংসতার পেছনে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মদদ এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের তথ্য গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তাতে বলা হয়েছে, সামনে জনজীবনে আরও বড় ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার মাধ্যমে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা চলছে। এসব বিষয় সরকারকে ভাবিয়ে তুলেছে। সূত্রটি জানায়, অবস্থা যেদিকে যাচ্ছে, যৌথ অভিযানের বিকল্প নেই।
পুলিশ সদর দপ্তরও বলছে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। অপরাধীদের কোনো ছাড় না দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, যারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং ইন্ধনদাতা-সবার বিরুদ্ধেই তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তদন্তে যাদের নাম আসছে, তাদেরই গ্রেফতার করা হচ্ছে। অপরাধীদের ধরতে পোশাকধারী পুলিশ এবং গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যৌথভাবে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযান আরও জোরালো করা হবে। তিনি বলেন, নতুনভাবে যেসব অপরাধী মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে।
সাবেক আইজিপি নূরুল হুদা যুগান্তরকে বলেন, অপরাধমূলক ঘটনাগুলো কারা ঘটাচ্ছে, কেন ঘটাচ্ছে-এসব বিষয়ে এরই মধ্যে সুনির্দিষ্ট তথ্য বেরিয়ে এসেছে। প্রতিটি ঘটনা ধরে নেপথ্যের ব্যক্তিদের টান দিলে পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব। তিনি বলেন, পরাজিত শক্তি সব সময়ই সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করে। এ বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সরকারকে কঠোর হয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইসিবি চত্বরসংলগ্ন নিউ গিনি প্রোপার্টিজে শনিবার রাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার মূল কারণ সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া (নিউ গিনি প্রোপার্টিজের মালিক) নামের এক ব্যক্তির দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব। নাজিম আগে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি ফের জামায়াতে যোগ দিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি নিজের দখলে রাখেন। এ ক্ষেত্রে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের বিষয়টি সামনে আসে। তিনি টিনশেডের একটি রুমে স্টুডিও তৈরি করেন।
অপরদিকে নিউ গিনি প্রোপার্টিজের জমির ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী যোগাযোগ করেন বিদেশে পলাতক আওয়ামী ঘরানার শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে। ঢাকার অপরাধজগতের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাত হোসেন দীর্ঘদিন বিদেশে আত্মগোপনে থেকে আন্তর্জাতিক কল বা ইন্টারনেট অ্যাপের মাধ্যমে ক্যাডারদের পরিচালনা করে আসছেন। মিরপুর, পল্লবী, ক্যান্টনমেন্ট, মোহাম্মদপুর এবং কাফরুল এলাকায় সন্ত্রাসী পাঠিয়ে চাঁদাবাজি ও অবৈধ জমি দখল পরিচালনা করা তার মূল কাজ। ইসিবি চত্বরের বিরোধপূর্ণ জমিটি মহিউদ্দিন চৌধুরীর পক্ষ হয়ে দখলের জন্য সন্ত্রাসী শাহাদাতকে যুক্ত করা হয়। মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে শাহাদাত তার নিজস্ব দুই শতাধিক ক্যাডারকে অস্ত্রশস্ত্রসহ সেখানে পাঠিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও স্টুডিও তছনছ করান। নেতৃত্ব দেন শাহাদাতের বিশ্বস্ত শুটার সোহেল। হামলা ও ভাঙচুরের পর সুপরিকল্পিতভাবে সেটিকে ‘বিএনপি বা যুবদলের চাঁদাবাজি’ হিসাবে ফেসবুক লাইভ ও মিডিয়ায় প্রচারের কৌশল নেওয়া হয় বলেও জানা যায়।
নিউগিনি প্রোপার্টিজের মালিক নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া যুগান্তরকে বলেন, তার সম্পত্তিতে হামলার আগে শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাতের শুটার পরিচয়ে সোহেল তাকে (নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া) মোবাইল ফোনে হুমকিও দেন। তিনি জানান, প্রায় দেড় বছর আগে জুলাই যোদ্ধা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরকে জায়গায় রুম ভাড়া দেন। পরে বিষয়টি নিয়ে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীর মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কেবল ইসিবি চত্বরের ঘটনাই নয়, রাজধানীর অন্য চাঞ্চল্যকর ঘটনাগুলোর পেছনেও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম এসেছে। মিরপুরের বহুল আলোচিত রাড্ডা ক্লিনিকের জমি দখল নিয়েও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। ১৯৭৪ সাল থেকে পরিচালিত এই চ্যারিটেবল ট্রাস্টের জমিটি কাগজে-কলমে বিহারিদের হলেও তা দখলের ছক আঁকা হয়। স্থানীয় সন্ত্রাসী ও স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক মহল পট পরিবর্তনের সুবাদে এই সম্পত্তি কবজায় নেওয়ার পরিকল্পনা করে। ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাত (২৫ সেপ্টেম্বর প্রথম প্রহর) সেখানে তাণ্ডব চালায় তারা। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরবতার সুযোগে ট্রাস্টের সম্পত্তি ব্যক্তিস্বার্থে গ্রাস করতে গিয়ে ভবন ভেঙে তছনছ করে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে দুর্ধর্ষ গ্যাং ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের চারণভূমি হিসাবে পরিচিত মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এবং আদাবরের শ্যামলী হাউজিং এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই অরক্ষিত। চব্বিশের ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকার একাধিক হাউজিং প্রজেক্ট, সরকারি খাসজমি এবং প্রবাসীদের বিরোধপূর্ণ জমি দখলে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম বারবার সামনে আসে। এলাকার কিশোর গ্যাং ও ক্যাডারদের দিয়ে রাজনৈতিক দলের ব্যানার ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও জমি দখলের সব ধরনের অপচেষ্টা চালানো হয়। এতে জমির মালিক ও ব্যবসায়ীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাৎ হোসাইন বলেন, সাম্প্রতিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ পুলিশ গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও চেকপোস্ট জোরদার করেছে। অপরাধপ্রবণ এলাকা ও অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
প্রথম আলো
‘মিরপুরে তিন ভাইয়ের বাহিনী’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, আবাসন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীর প্রায় ২৮ কাঠা জমি রয়েছে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী থানার আওতাধীন বাইগারটেক এলাকায়। জমিটির চারদিকে সীমানাপ্রাচীর তুলে ভেতরে পাঁচটি টিনের ছাউনির ঘর করেছিলেন তিনি। সেগুলো ভাড়া দিতেন।
মোহাম্মদ আলী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোকে বলেন, গত ৩০ এপ্রিল রাতে একদল সন্ত্রাসী বুলডোজার দিয়ে তাঁর জমির সীমানাপ্রাচীর ও ঘরগুলো গুঁড়িয়ে দেয়। জমিটি দখল করে নিয়েছে তারা। এখন আর তিনি সেখানে যেতে পারছেন না। তিনি আরও বলেন, ‘আমার জমির দাম প্রায় ২৫ কোটি টাকা। মামুন বাহিনীর সন্ত্রাসীরা সে জমি দখল করে নিয়েছে। মামুনের ভাই মশিউর রহমান আমাকে ফোন করে জমিতে যেতে নিষেধ করেছেন।’
মোহাম্মদ আলী যে ‘মামুন বাহিনী’র কথা বলেছেন, সেটি মিরপুরের একটি অপরাধী দলের নাম। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে বাহিনীটির নামে মানুষের জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ঝুট ব্যবসা, কেব্ল টেলিভিশন (ডিশ) ও ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ বস্তির ঘর থেকে ভাড়া আদায়সহ নানা অপরাধের অভিযোগ আসছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, বিদেশে থাকা চারজন ‘সন্ত্রাসী’ মিলে মিরপুরে ‘ফোর স্টার গ্রুপ’ বা চারটি বাহিনী পরিচালনা করে। চার বাহিনীর একটি ‘মামুন বাহিনী’। এই বাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৯১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মফিজুর রহমান মামুন। ভাষানটেক থানা বিএনপির ১ নম্বর আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম ওরফে ‘কিলার ইব্রাহিম’, পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মিরপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহাদত হোসেন এবং মোক্তার নামের আরেক ‘সন্ত্রাসী’ আলাদাভাবে অন্য তিনটি অপরাধী দল নিয়ন্ত্রণ করেন।
পুলিশ ও মিরপুর এলাকার বিএনপির ও এর অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইব্রাহিম ও তাঁর অনুসারীরা মিরপুর-১৩, মিরপুর ১৪, ভাষানটেক ও কালশী এলাকার অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করেন। শাহাদত ও তাঁর অনুসারীরা মিরপুর-১, মিরপুর-২ ও মিরপুর-৬ নম্বর এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন। মোক্তার ও তাঁর অনুসারীরা মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১১ নম্বরের কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন।
পুলিশ সূত্র বলছে, সবচেয়ে বড় বাহিনীটির নিয়ন্ত্রক মফিজুর রহমান মামুন। তিনি থাকেন মালয়েশিয়া। সেখানে অবস্থান করে নিজের অপরাধী দল দিয়ে মিরপুরের পল্লবী, মিরপুর-১২, সাগুফতা ও বাউনিয়া এলাকার চাঁদাবাজি, ঝুট ব্যবসা, জমি দখল ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন।
হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে মামুনের বিরুদ্ধে। তিনি বিদেশে থাকলেও তাঁর আপন দুই ভাই দেশে বসে বাহিনী পরিচালনা করেন। বড় ভাইয়ের নাম মো. জামিল রহমান। ছোট ভাই মশিউর রহমান। বাহিনীতে রয়েছেন দেলোয়ার হোসেন রুবেল, মো. রফিকুল, আলমগীর, মোতালেব, রাজন, সামি, ভাগনে মামুন, সোহেল, কায়েস, সেলিম, প্রকাশ, সুজন, হাবিব, সাগর, রোকন, শামিম, জনি প্রমুখের নাম। জনি ও রোকন মিরপুরের যুবদল নেতা কিবরিয়া হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) গত মার্চে রাজধানীতে চাঁদাবাজির স্পট (জায়গা) ও চাঁদাবাজদের একটি তালিকা তৈরি করে। থানা-পুলিশ, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও ডিএমপি কমিশনারের গোয়েন্দা ইউনিট মিলে তালিকাটি করেছিল। ওই তালিকায় মিরপুরের সাতটি থানা এলাকায় ৭২ চাঁদাবাজের নাম রয়েছে। তাঁদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা ২৫ জন। এর মধ্যে রয়েছে মামুন ও তাঁর দুই ভাইয়ের নাম।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মামুন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তখন পুলিশ জানিয়েছিল, ২০০১ সালে কিছুদিন কারাভোগের পর ২০০৪ সালে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে যান মামুন। পাসপোর্ট জালিয়াতি ও অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ২০০৮ সালে ভারতে গ্রেপ্তার হন তিনি এবং ১০ বছর সাজা ভোগ করেন। কারাভোগ শেষে ভারতে বসেই মিরপুরের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতেন।
বাংলাদেশে আসার পরপরই মামুন গ্রেপ্তার হন (২০২১)। তখন পুলিশ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলেছিল, মামুনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, খুন, মাদক, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ও ডাকাতির অভিযোগে পল্লবী থানায় ২৭টি মামলা, ১৫টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও ২টি সাজা পরোয়ানার তথ্য পাওয়া যায়। এদিকে পুলিশ সূত্র বলছে, গ্রেপ্তারের পর জামিন পেয়ে মামুন পালিয়ে যান। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর তাঁর প্রভাব বেড়েছে।
পুলিশের তালিকা থেকে মামুনের একটি বিদেশি মুঠোফোন নম্বর পাওয়া যায়। তাতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে মামুনের ভাই মশিউর মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, জমি নিয়ে অনেক পক্ষ-বিপক্ষ থাকে। কোনো পক্ষ বৈধ নথিপত্র নিয়ে এলে তাঁরা সহায়তা করেন। চাঁদাবাজিসহ অন্যান্য অপরাধের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। অবশ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জমি দখল করে দেওয়া কোনো সাধারণ নাগরিকের কাজ নয়। এটা আদালত ও পুলিশের বিষয়।
কালের কণ্ঠ
‘আর্থিক চাপে সাধারণ মানুষ’—এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার প্রতিবেদন। খবরে বলা হয়, জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে সাধারণ মানুষের। আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান মেটাতে বাড়ছে ভোক্তাঋণ।
চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন—এই তিন মাসে দেশে ভোক্তাঋণ বেড়েছে পাঁচ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন শেষে ভোক্তাঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৬৩ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা। মার্চ শেষে এ ঋণের পরিমাণ ছিল এক লাখ ৫৮ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা।
ভোক্তাঋণ বাড়ার এই প্রবণতা এমন সময় দেখা যাচ্ছে, যখন ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকঋণের চাহিদা কমে গেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাবসায়িক অনিশ্চয়তা ও জ্বালানি সংকটের কারণে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে যাচ্ছেন না। ফলে শিল্প, নির্মাণ ও পরিবহন খাতে ঋণের স্থিতি কমছে বা সামান্য বাড়ছে। এর বিপরীতে ব্যক্তিগত প্রয়োজন মেটাতে ঋণের চাহিদা বাড়ছে। অর্থাৎ উৎপাদন ও বিনিয়োগের জন্য ঋণ না বাড়লেও পরিবারের ব্যয় সামলাতে ঋণের ব্যবহার বাড়ছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ভোক্তাঋণের স্থিতি ছিল এক লাখ ৫০ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা। ডিসেম্বর শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় এক লাখ ৫১ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। এরপর চলতি বছরের মার্চে তা বেড়ে হয় এক লাখ ৫৮ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা। জুন শেষে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৬৩ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৯ মাসে ভোক্তাঋণ বেড়েছে ১৩ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন, ভোক্তাঋণের ধারাবাহিক বৃদ্ধি থেকে বোঝা যায়, অনেক পরিবার বিলাসী খরচের জন্য নয়, জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় সামলাতে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভর করছে। মূল্যস্ফীতি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ায় শিক্ষা, চিকিৎসা ও আবাসনের মতো প্রয়োজনীয় খরচেও মানুষ ঋণ নিচ্ছে। স্বল্প মেয়াদে ভোক্তাঋণ মানুষের ব্যয় সামলাতে সহায়তা করলেও আয় একই হারে না বাড়লে অতিরিক্ত ঋণ ভবিষ্যতে পরিবারের ঋণের বোঝা ও আর্থিক ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বেসরকারি ব্যাংকের এমডি জানান, ভোক্তাঋণের মধ্যে বাড়ি বা ফ্ল্যাট, গাড়ি, ক্রেডিট কার্ড, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন প্রয়োজনের ঋণ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মানুষের আর্থিক চাপ বাড়ায় এই ঋণের একটি অংশ দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতেও ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতির কারণে খাবার, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারের হাতে মাস শেষে আগের মতো উদ্বৃত্ত অর্থ থাকছে না। ফলে প্রয়োজন মেটাতে কেউ কেউ ঋণের ওপর নির্ভর করছে।
অন্যদিকে বিলাসী পণ্য ও সেবায় মানুষের ব্যয় করার সক্ষমতা কমেছে। তাই ভোক্তাঋণ বাড়লেই সব অর্থ বিলাসী খরচে যাচ্ছে—এমনটি বলা যায় না। ব্যক্তিগত প্রয়োজন, চিকিৎসা, শিক্ষা, বাড়িঘর নির্মাণ, গাড়ি কেনা বা অন্যান্য বড় ব্যয় মেটাতেও এ ধরনের ঋণ নেওয়া হয়। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে নেওয়া ঋণও ভোক্তাঋণের অংশ।
বড় ব্যবসা ও শিল্প খাতে নতুন ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোও ছোট ঋণ ও রিটেইল ব্যাংকিংয়ের দিকে বেশি নজর দিচ্ছে বলে মনে করেন মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউল হাসান। তাঁর মতে, বড় করপোরেট ঋণে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় অনেক ব্যাংক এখন ব্যবসার নীতি পরিবর্তন করে রিটেইল ব্যাংকিংয়ের দিকে যাচ্ছে। ছোট ঋণ ও ভোক্তা ঋণে খেলাপির হার তুলনামূলক কম হওয়ায় ব্যাংকগুলো এ খাতে গুরুত্ব বাড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ চাহিদা অনুযায়ী না পাওয়ায় অনেক শিল্প-কারখানা নতুন করে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি করছে না। ফলে বড় ঋণের চাহিদা কমেছে। এ কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধিও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বাড়ছে না। অন্যদিকে রিটেইল ঋণের বাজারে ব্যাংকগুলোর আগ্রহ বাড়ছে।
তবে ভোক্তাঋণ বাড়ার পেছনে মানুষের আর্থিক চাপের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ব্যাংকাররা। কারণ ব্যাবসায়িক বিনিয়োগের জন্য ঋণের চাহিদা কমলেও ব্যক্তিগত ব্যয় কমানোর সুযোগ অনেক পরিবারের ক্ষেত্রে সীমিত। মাসিক আয় দিয়ে প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে না পারলে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম মাদক, কিশোর গ্যাং চাঁদাবাজ দমনে ‘ভিন্ন’ অভিযানের চিন্তা। প্রতিবেদনে বলা হয়, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজ ও মাদক দমনে 'ভিন্ন' ধরনের একটি বড় অভিযানের চিন্তা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ২০০২ সালে বিএনপি সরকারের সময় চালানো 'অপারেশন এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে সামনে রাখা হচ্ছে। গত কয়েক দিনে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক একাধিক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
গতকাল সোমবার দায়িত্বশীল কয়েকটি সূত্র থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে 'ভিন্ন' ধরনের এ অভিযান কোনো নাম ব্যবহার করে, নাকি নাম ছাড়া চালানো হবে-তা নিয়ে পক্ষে ও বিপক্ষে মত রয়েছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সবুজ সংকেত পেলে দেশব্যাপী অভিযানের পথনির্দেশিকা চূড়ান্ত করা হবে। চলতি সপ্তাহে এ ব্যাপারে পরবর্তী করণীয় নিয়ে বৈঠক হতে পারে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সূত্র বলছে, অপরাধ নির্মূলে শক্ত পদক্ষেপ দৃশ্যমান করতে চান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীতিনির্ধারকরা। পরিস্থিতি যেন আরও খারাপের দিকে না যায়, তার জন্য জোরালো পদক্ষেপ নিতে চান তারা। 'ভিন্ন' ধরনের অভিযানের বিষয়টি চূড়ান্ত হলে তার একটি উদ্দেশ্য হবে অপরাধীদের বড় ধরনের বার্তা দেওয়া।
সম্প্রতি পরপর কয়েকটি ঘটনা জনমনে উদ্বেগ ও নিরাপত্তার শঙ্কা তৈরি করেছে।
এর মধ্যে রয়েছে কুমিল্লার ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড। ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র অপ্রতিম নিখোজ হয়। পরদিন কুমিল্লা সদর দক্ষিণের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ হত্যার সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে এসেছে।
কুমিল্লার ঘটনার রেশ না কাটতেই ঢাকায় বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে পরবর্তী ৪৭ ঘন্টায় চারটি পৃথক স্থানে হামলা, দখলচেষ্টা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
মিরপুর-১ নম্বরে গরিবের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেয় দুইশ থেকে আড়াইশ লোক। শনিবার রাত ১১টার দিকে ইসিবি চত্বরে নিউগিনি প্রপার্টিজে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, গুলি, ভাঙচুর, লুটপাটের পর আশপাশের কয়েকটি বাড়িসহ স্থাপনায় হামলা হয়। এ ছাড়া মোহাম্মদপুর ও আদাবরে বাড়ি ও জমি দখলের চেষ্টা হয়েছে। প্রতিটি ঘটনায় হামলাকারীরা দলবদ্ধভাবে এসেছিল। ট্রাক ও ভারী যন্ত্রসহ দীর্ঘ সময় ধরে তারা হামলা চালায়। ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের ঘটনার প্রেক্ষাপটে নতুনভাবে অভিযানের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানিয়েছে।
ইত্তেফাক
‘ডেঙ্গু-হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক’—এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশে ডেঙ্গু-হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় (রবিবার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারা দেশে আরো আট জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৩৬ জন। আর হাম উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে আরো তিন শিশুর। হাম ও উপসর্গে এ সময়ের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩১০ জন। এ পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে শিশুমৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৯ জনে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি:ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ২ হাজার ৩৬ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা চলতি বছরে এক দিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড। এর আগে রবিবার ডেঙ্গুতে সারা দেশে ২ হাজার ১৫৮ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন, যা ছিল চলতি বছরে এক দিনের সর্বোচ্চ রেকর্ড।
গতকাল সোমবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, চলতি বছরে সোমবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩৩ জনে। অন্যদিকে আক্রান্তের সংখ্যা হয়ে গেছে ৭৫ হাজার ৭৩০ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া আট জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের তিন জন। এছাড়া চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে একজন করে মৃত্যু রয়েছে। প্রতিবেদন বলা হয়েছে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে। যা গত ২৮ দিনে মৃত্যু হয়েছে ১৩৬ জনের।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সোমবার পর্যন্ত ৭০ হাজার ২৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র পেয়েছেন ২ হাজার ৬৪ জন। এর আগে গত বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং মারা যান ৪১৩ জন। এছাড়া ২০২৪ সালে আক্রান্ত হন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের।
হাম পরিস্থিতি:হাম উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (রবিবার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারা দেশে আরো তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে আরো ১ হাজার ৩১০ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয় ৯৬ জনের শরীরে। বাকি ১ হাজার ২১৪ জনের শরীরে সন্দেহজনক হাম শনাক্ত হয়।
গতকাল সোমবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের হাম ও উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৯ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ১০১ জন এবং হামের উপসর্গে ৯৯৮ জন। এর আগে রবিবার হাম উপসর্গে সারা দেশে ৯ শিশুর মৃত্যু হয়। এদিন নতুন রোগী শনাক্ত হয় ১ হাজার ৩৪১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে হাম রোগী ভর্তির সংখ্যা ১ হাজার ১৫৯ জন। এ সময়ের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ১৮৬ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৫৫ জন। আর এ পর্যন্ত নিয়মিত হাম রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ৩০৮ জন। এ পর্যন্ত মোট হাম রোগী ভর্তির সংখ্যা ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬৯ জন। অদ্যাবধি হাসপাতাল থেকে মোট ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৭০৫ জন।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘বাজেটের অর্ধেক ভর্তুকি শেষ তিন মাসেই’। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই বিদ্যুৎ ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খাতে ভর্তুকির চাপ সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। মাত্র তিন মাসে দুই খাতে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে, যা পুরো অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত ৪২ হাজার কোটি টাকার প্রায় ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ বছরের এক-চতুর্থাংশ সময় না যেতেই ভর্তুকি বাজেটের প্রায় অর্ধেক ব্যয় হয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হিসাবে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য, মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্ঘাত, এলএনজি সরবরাহ ও পরিবহন ব্যয়ের অনিশ্চয়তা এবং দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বছরের শেষ নাগাদ এ ব্যয় আরো অনেক বাড়তে পারে। বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সাথে এলএনজি খাতে ব্যয় ৪০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। সে ক্ষেত্রে দুই খাতেই সরকারের মোট ভর্তুকি ৯০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তিন মাসেই ১৯ হাজার কোটি
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর আগস্ট মাসের বিদ্যুৎ ভর্তুকি বাবদ ৪ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা এবং সেপ্টেম্বর মাসের এলএনজি আমদানি ভর্তুকি বাবদ ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। একসাথে দুই খাতে ছাড় হয়েছে ৭ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা।
বাজেটের মাসিক গড় হিসাবের সাথে তুলনা করলে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়। দুই খাতে মাসে গড়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব ধরে বরাদ্দ দেয়া হলেও এক দফাতেই ছাড় করা হয়েছে এর দ্বিগুণেরও বেশি- প্রায় ১২৭ শতাংশ।
এর আগে জুলাই মাসেই বিদ্যুৎ ভর্তুকি এবং জুলাই-আগস্টের এলএনজি ভর্তুকি বাবদ ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি ছাড় করতে হয়েছিল। ফলে অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই মোট ছাড় প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের জন্য এর তাৎপর্য হলো- বাজেটে নির্ধারিত অর্থের সাথে বাস্তব ব্যয়ের ব্যবধান দ্রুত বাড়ছে। এই ব্যবধান পূরণ করতে হলে পরবর্তী সময়ে সংশোধিত বাজেটে অতিরিক্ত বরাদ্দ দিতে হবে অথবা সরকারের অন্য খাতের ব্যয় সঙ্কোচন করতে হবে।
বিদ্যুতে ৩৬ হাজারের জায়গায় ৫০ হাজার!
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বিদ্যুৎ ভর্তুকির জন্য ৩৬ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে। অর্থাৎ মাসিক গড় ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাবে বাস্তব প্রয়োজন প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা করে।
এ হিসাবে বছরে প্রয়োজন দাঁড়ায় প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগের বর্তমান হিসাব অনুযায়ী ভর্তুকির পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
গত অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হয়েছিল প্রায় ৪৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার ব্যয় আরো কয়েক হাজার কোটি টাকা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর পেছনে অন্যতম কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি ব্যয়। কয়লার দাম ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, আমদানি করা জ্বালানির মূল্য এবং ডলারভিত্তিক ক্রয়মূল্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকৃত ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। অন্য দিকে বিদ্যুতের খুচরামূল্য পুরোপুরি উৎপাদন ব্যয়ের সাথে সমন্বয় করা না হলে সেই ব্যবধান শেষ পর্যন্ত সরকারের ভর্তুকি হিসাবেই আসে। অর্থাৎ ভর্তুকি শুধু একটি বাজেটীয় ব্যয় নয়; এটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় ও গ্রাহকের কাছ থেকে আদায়কৃত মূল্যের মধ্যকার ব্যবধানের আর্থিক প্রতিফলন।
সবচেয়ে বড় ঝুঁকি এলএনজিতে
বিদ্যুৎ খাতের তুলনায় বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এলএনজি আমদানিতে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এলএনজি ভর্তুকির জন্য মাত্র প্রায় ৬ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই বরাদ্দ ইতোমধ্যেই অপ্রতুল হয়ে পড়েছে।
প্রথম আড়াই মাসেই এলএনজি খাতে প্রায় ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়ার প্রয়োজন হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাব। পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, নির্ধারিত বরাদ্দের বাইরে এ খাতে ইতোমধ্যে অতিরিক্ত প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পুরো অর্থবছরে এলএনজি আমদানির মোট ব্যয় ৯০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বণিক বার্তা
‘নির্ধারিত দামের এলপিজি বাজারে নেই, মিলছে না বাড়তি দামেও’—এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, দেশে এলপিজির আমদানি সংকট না থাকলেও কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি করা হচ্ছে। বৈশ্বিক বাজারে পণ্যটির দাম বাড়ছে, ফলে মজুদের প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার থেকে সর্বোচ্চ আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক জায়গায় এ বাড়তি দামেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। বাড়তি দামের জন্য খুচরা বিক্রেতা ও পরিবেশকরা সরবরাহ সংকটকে দায়ী করেছেন। তাদের অভিযোগ, চাহিদামতো এলপিজি সরবরাহ না পাওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে অপারেটররা দাবি করেছেন, বাজারে এলপি গ্যাসের কোনো সংকট নেই। বাজারে এলপি গ্যাসের বাড়তি দাম নিয়ে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তুষ্টি তৈরি হয়েছে।
দেশের বাজারে চলতি মাসে (২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) এলপিজি আমদানি হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ টন। যেখানে গত মাসে আমদানি ছিল ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ টনের মতো। সে হিসেবে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার টন এলপিজি কম আমদানি হয়েছে।
শীর্ষ দুই এলপিজি অপারেটরের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগস্টের তুলনায় চলতি মাসে ২৫-৩০ শতাংশ আমদানি কম হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে পর্যাপ্ত কার্গো বা জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না এবং পরিবহন খরচও বহুগুণ বেড়ে গেছে।
বাংলাদেশের এলপিজি আমদানির বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও অনেক আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন অপারেটররা।
চলতি মাসে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) ঘোষিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। কিন্তু বাজারে কোথাও এ দামে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না। বরং এ সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ১০০ থেকে সর্বোচ্চ আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত।
এলপিজির বাজার পরিস্থিতি, আমদানি ও মজুদ নিয়ে অপারেটরদের সঙ্গে গতকাল মতবিনিময় করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। ওই মতবিনিময়ে অপারেটররা জানান, দেশের বাজারে এলপিজির কোনো সংকট নেই। বরং সরবরাহ ও মজুদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
তবে বাজারে এলপিজির বাড়তি দামের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসছে পণ্যটির সরবরাহ সংকট। অপারেটর, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, দেশে এলপিজির আমদানি সংকট না থাকলেও কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি করা হচ্ছে। বৈশ্বিক বাজারে পণ্যটির দাম বাড়ছে, ফলে মজুদের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। বিইআরসি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জোরালো ভূমিকা নিতে হবে। নতুবা পণ্যটির দাম ভোক্তার নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।
ঢাকা শহরে এলপিজির দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি দেখতে গতকাল এ প্রতিবেদক বেশ কয়েকটি স্থানে গিয়েছেন। বিক্রেতাদের কথায় মোটাদাগে সরবরাহ সংকটের বিষয়টি উঠে আসে।
মোহাম্মদপুর ঢাকা উদ্যান এলাকার রাব্বি ইলেকট্রিক অ্যান্ড হার্ডওয়্যারের প্রোপ্রাইটার মিজানুর রহমান মিজান বণিক বার্তাকে বলেন, বাজারে সাপ্লাই কম থাকায় ডিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। এ কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘সংবিধান সংশোধন: ফের গণভোটের উদ্যোগে প্রশ্ন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সংবিধান সংশোধন প্রশ্নে গণভোট আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। তবে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) অন্য দলগুলো বলছে, গত ফেব্রুয়ারিতেই এ বিষয়ে গণভোট হয়ে গেছে। এখন সরকার নতুন একটা গণভোট করে আগের গণভোটের রায়কে বাতিল করার চেষ্টা করছে।
যদিও সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত রোববার কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেছেন, নতুন ভোট হবে সাংবিধানিক গণভোট। সংবিধানের প্রস্তাবনা, ৪৮ ও ৫৬ অনুচ্ছেদসহ কিছু জায়গায় সংসদ যদি কোনো পরিবর্তন আনে, তাহলে তা গণভোটে দিতে হয়। এটা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।
তবে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান গতকাল সোমবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘জনগণ যে জনরায় দিয়েছে, এটাকে উনারা কোনোভাবেই আমলে নিতে চাচ্ছেন না। উনারা নতুন একটা গণভোট করে আগের গণভোটের রায়কে বাতিল করার চেষ্টা করছেন। এটা আসলে গণতন্ত্রের মুখে চপেটাঘাত এবং পেছনে ছুরিকাঘাত।’
তবে পুনরায় গণভোট নিয়ে বিরোধীদের আপত্তির বিষয়ে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সদস্য বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘বিরোধী দল কমিটিতে অংশগ্রহণ করলে অনেক কিছুই করা সম্ভব। কিন্তু তারা অংশ না নিলে আমাদের একতরফাভাবেই এগিয়ে যেতে হবে। সে ক্ষেত্রে আমরা গণভোট দিতে পারি।’
তাহলে আগের গণভোটের রায়ের কি কোনো মূল্য নেই—এ প্রশ্নে জয়নুল আবেদীন বলেন, গণভোটের সঙ্গে সাধারণ নির্বাচন একত্র করলে সেটা আর গণভোট থাকে না। গণভোট একটা নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে হয়।
গণমাধ্যমের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ কর্মী ও সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে গত রোববার সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে জানানো হয়, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিষয়টি ছিল। আওয়ামী লীগ পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সেটা উঠিয়ে দেয়। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর উচ্চ আদালত তা পুনর্বহালের আদেশ দিয়েছেন।
এটা সংবিধানে আসবে। এ জন্য এখন সাংবিধানিক গণভোট করতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। এরপর প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে আইন মন্ত্রণালয় আগামী বছরের জানুয়ারিতে সংসদে বিল উত্থাপন করতে পারে। সংসদ সংবিধান সংশোধন বিল অনুমোদন করার পর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে আবার গণভোট হবে।
তবে বিদ্যমান আইনে আবারও গণভোট হওয়া প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া বলেন, আদালত যদি কোনো কিছু পুনর্বহাল করে দেন, এটার জন্য আবার সংসদে আইন পাস করতে হয় না। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হলো অষ্টম সংশোধনী মামলার রায়। এখানেও পঞ্চদশ সংশোধনীর রায় একইভাবে দেওয়া হয়েছে যে গণভোটের ব্যবস্থা সংবিধানে পুনর্বহাল হয়েছে। কাজেই অষ্টম সংশোধনী মামলার দৃষ্টান্ত অনুযায়ী আর কোনো সংসদের আইন প্রণয়ন করার প্রয়োজন নেই।
আরেক বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিকও একই রকম মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, অনেকে মনে করেন, শুধু আদালতের রায় সংবিধানের অংশ হয় না, সংবিধান সংশোধন করে এটি অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। কিন্তু তিনি মনে করেন, উচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে গণভোটের বিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে।
দেশ রূপান্তর
‘কিশোর গ্যাংয়ের মাথায় নেতাদের হাত’—এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এখন আর শুধু পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, মারামারির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক কারবারসহ স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারেও কিশোরদের ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে শাসক দলের কতিপয় নেতা। সম্প্রতি আলোচিত কিছু হামলা ও দখলবাজির ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়েরও সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে। রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকার কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও নেতাদের অপকর্ম এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি পুলিশের একটি বিশেষ ইউনিট গোপন বার্তায় বলেছে, এসব রাজনৈতিক দুর্বৃত্তকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সরকারের বদনাম বাড়তেই থাকবে। দিনে দিনে জনপ্রিয়তা কমবে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দিয়ে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী দখলসহ বিভিন্ন স্থানে অপকর্ম করাচ্ছে। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও আছে তাদের প্রভাব। গ্যাংয়ের বিস্তার এবং চাঁদাবাজি-দখলবাজির সঙ্গে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোরদের ব্যবহার করে স্থানীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বার্তাটি সরকারের হাইকমান্ডের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঢাকাসহ সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রকাশ্যে ছিনতাই, ডাকাতি, হামলা, ধর্ষণসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনায় পুরো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকার আদাবর, মিরপুরের এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে লুটপাট, ভাঙচুর ও ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তা ছাড়া শাসক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের হাত থাকায় পুলিশ পড়েছে ‘কিছুটা বিপাকে’। এতে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে টিআইবি। ঘটনাগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য অশনিসংকেত উল্লেখ করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ সারা দেশে দলের আত্মশুদ্ধি অভিযানের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে পুলিশের ভেতরেই আলোচনা : অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছর এবং বর্তমান সরকারের সাত মাস পরও পুলিশ পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে কি না এমন আলোচনা পুলিশ বাহিনীর ভেতরেও চলছে। মাঠপর্যায়ে দ্রুত আইন কার্যকর নিয়ে অনেক স্থানে পুলিশের মধ্যে বিরোধ দেখা যাচ্ছে। কিছু অপরাধ কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার অনেক পর ঘটনাস্থলে যাচ্ছে পুলিশ। অনেক জায়গায় আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। কেউ মব তৈরি করে পরিস্থিতি পাল্টাতেও চাচ্ছেন। পূর্ণ মনোবল নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা বা মানুষের আস্থার জায়গায় যেতে পারছে না পুলিশ। বাহিনীর ভেতরেও নানা বিভাজন থাকায় প্রভাব পড়ছে মাঠে। কিছু ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তা ও অন্য সদস্যদের সঙ্গে অপরাধীদের ঘনিষ্ঠতার বিষয়টিও আলোচনায় আসছে।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির জোর চেষ্টা চলছে। থানাগুলোকে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় পুলিশের টহল বাড়াতে হবে। সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতেই হবে। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত টহলেই থাকতে হবে। একই কথা বলেন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অপারেশন) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি করতে বেশ কিছু নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এলাকায় পুলিশের টহল বৃদ্ধি করতে বলা হয়েছে। থানায় জনবল বা যানবাহন সংকট থাকলে পুলিশ সদর দপ্তরকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
সরকারি জায়গা দখল করে রাজনৈতিক কার্যালয়: এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রতিদিনই খুনখারাবি হচ্ছে। চাঁদাবাজি ও দখলের ঘটনা আগের চেয়ে বেড়েছে। মবের ঘটনাও কমেনি। বিএনপির স্থানীয় কতিপয় নেতা কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করে এসব অপকর্ম চালাচ্ছে। পাড়া-মহল্লায় সরকারি জায়গা দখল করে ‘রাজনৈতিক দলের’ জন্য ঘর তৈরি করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের নিয়ে আড্ডাবাজি ও অপরাধ কর্মকা- হচ্ছে। ওইসব নেতার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনা তো দিনের বেলাতেই হচ্ছে। সব মিলিয়ে আমরা আছি উদ্বেগের মধ্যে। যেসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি হবে, সেখানে কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের ভেতরেও শুদ্ধি অভিযান চালানোর কাজ শুরু হয়েছে।
নেতাদের ছায়ায় কিশোরদের উৎপাত: সারা দেশেই বিশেষ করে রাজধানীজুড়ে কিশোর গ্যায়ের উৎপাত বেড়ে গেছে। বিশেষত তারা বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত, বাজার, পরিবহন স্ট্যান্ড, নির্মাণকাজ, জমি এবং স্থানীয় ব্যবসাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি করছে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ২৭৮ জনকে অপরাধের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে প্রায় সবাই শাসক দলের নেতা। নেতাদের ছায়া থাকায় পুলিশও আছে কিছুটা বিপাকে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য কিশোর গ্যাং এখন পুলিশের উদ্বেগেরও বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডিএমপি ইতিমধ্যে চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি, অবৈধ অস্ত্রধারী ও অন্যান্য অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে। অপরাধজগতে কিশোর গ্যাং এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো সামাজিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে না।
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের ধরার নির্দেশ: চাঁদাবাজ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী তালিকা তৈরির উদ্যোগের কথা পুলিশের একটি বৈঠকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পুলিশের সবকটি ইউনিট প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, সারা দেশে নিরপেক্ষভাবে অপরাধী ও চাঁদাবাজদের তালিকা ধরে অভিযান চালাতে হবে। বিশেষ করে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের ধরতে হবে। কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। বৈঠকে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, অপরাধ কর্মকাণ্ড কিশোরদের ব্যবহার করে প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধী বা প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আড়ালে থাকার সুযোগ নিচ্ছে। পুলিশের তালিকায় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের নাম এসেছে। কিশোর গ্যাংকে তালিকাভুক্ত নেতারা সহায়তা করছে। নেতাদের আশ্রয়ে ওরা ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক কারবার, ভাড়াটে হামলা এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের মতো কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ছে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘তালিকায় শতাধিক হোতার নাম’। প্রতিবেদনে বলা হয়, খুনাখুনি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক কারবার, আধিপত্য বিস্তার, দখল ও সংঘাতের মতো এমন কোনো অপরাধ নেই যেখানে কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা মিলছে না। যার পরিপ্রেক্ষিতে কোনো ঘটনা ঘটলেই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা গ্রেপ্তার হচ্ছে। কিন্তু তাদের পেছনে থাকা মূল হোতা ও পৃষ্ঠপোষকরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এসব পৃষ্ঠপোষকই গ্যাংয়ে নতুন সদস্য ভিড়িয়ে আরও সহিংসরূপে আবর্তিত হচ্ছে। কোনো গ্যাং সদস্য গ্রেপ্তার হলে তাকে কারাগারে বিশেষ সুবিধা প্রদান ও তালিকায় শতাধিক হোতার নাম ও জামিনের ব্যবস্থা করছে পৃষ্ঠপোষকরা। আর এসব কারণেই ভয়ংকর থেকে ভয়ংকরতম হয়ে উঠছে পাড়ামহল্লার কিশোর গ্যাং সদস্যরা। কেউ কেউ উঠতি বয়সের ক্রেজ ও হিরোইজম দেখাতে গিয়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীর ছায়াতলে সন্ত্রাসী হয়ে উঠছে। কিন্তু অপ্রাপ্তবয়স্কের সুযোগে এ কিশোররাই এখন শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ট্রাম্পকার্ড। অন্যদিকে রাজনৈতিক শক্তির আধিপত্য বিস্তারও এ কিশোর গ্যাংনির্ভর হয়ে উঠছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সারা দেশেই কিশোর গ্যাং এখন মহামারির মতো হয়ে উঠেছে। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর ৫০ থানা এলাকায় সক্রিয় ১৫৮ কিশোর গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষকের সংখ্যা শতাধিক। এ অবস্থায় পুলিশের বিশেষ অভিযানের পাশাপাশি পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় আনা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।
পুলিশের এক সূত্র জানিয়েছে, কুমিল্লায় কিশোর অপ্রতিম হত্যার পর সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটের কাছেই আপডেট তালিকা চেয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দিয়েছিল পুলিশ সদর দপ্তর। পরে রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া, কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা এবং মোহাম্মদপুরে দখলবাজি কেন্দ্র করে শনিবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পুনরায় কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে ঢাকাসহ সারা দেশে একযোগে সাঁড়াশি অভিযান অঘোষিতভাবে শুরু হয়ে গেছে। আগামী বুধবারের পর এ অভিযান আরও জোরদার হতে পারে বলে জানা গেছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিভিন্ন গ্যাংয়ে জড়িত ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সি কিশোরদের আটক করে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় দিতে বলা হয়েছে। তবে দ্বিতীয়বার আর ছাড় দেওয়া হবে না বলে অভিভাবকদের কঠোর বার্তা দিতে বলেছে। কারণ নিজের সন্তানকে বাবা-মা শাসনে না রাখলে অপরাধ দমন করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে যাবে।
ঢাকাতেই সক্রিয় শতাধিক পৃষ্ঠপোষক: একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর ৫০ থানা এলাকায় সক্রিয় ১৫৮ কিশোর গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষকের সংখ্যা শতাধিক। তাদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা, শীর্ষ সন্ত্রাসী, মোহাম্মদপুর ও মিরপুরকেন্দ্রিক হাউজিং কোম্পানি এবং পদহীন প্রভাবশালীরা রয়েছেন; রয়েছেন ক্ষমতাসীন বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের কতিপয় নেতা-কর্মীও। কোনো অপরাধ হলে অল্প বয়সি কিশোররা গ্রেপ্তার হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে যাচ্ছে তাদের পৃষ্ঠপোষকরা। আবার অনেকে পট পরিবর্তনের পর বিদেশে পালিয়ে গেলে বা রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার হলেও তাদের গ্যাং এলাকায় ঠিকই দাপিয়ে বেড়ায়।
