ঢাকার ইসিবি চত্বর এলাকার নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে কোম্পানির কার্যালয় ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও গোলাগুলির ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সর্বশেষ রোববার রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- প্রধান আসামি শাহরিয়া মাহমুদ, মো. মামুন, মো. আসলাম, মুন্না ও শাহ আলম অনিক। এর মধ্যে অনিক মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মামুনের বাড়ি গফরগাঁওয়ে, তিনি ভাষানটেক বস্তিতে থাকেন। আসলামের বাড়ি টাঙ্গাইলে, তিনি অটোরিকশা চালান। মুন্নাও ভাষানটেক বস্তিতে থাকেন। গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনই এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এর আগে, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু হয়। হামলাকারীরা ৩ দিক থেকেই ভেতরে প্রবেশ করে। প্রথমে প্রবেশমুখের একটি বাড়ির ফ্ল্যাটে ঢুকে তারা লুটপাট করে। সেখান থেকে তারা মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র নিয়ে যায়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে। তারা নিউগিনি প্রপার্টিজের অফিসেও ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। তাণ্ডব চলে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। তখন পুলিশ ও হামলাকারীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে হামলাকারীরা একটি ফটক ভেঙে চলে যায়। ঘটনাস্থল থেকে দু’জন হামলাকারীকে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় রোববার আবাসন প্রকল্পের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে শাহরিয়ার মাহমুদকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। তার ইন্ধন ও নির্দেশে অন্য আসামিরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বাদী। মামলায় উল্লেখ করা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী, আবুল কাশেম, বাবুল হোসেন, মোহাম্মদ শাহিনুজ্জামান, মতিউর রহমান, মজিবুর রহমান, নুরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, এমকে আজাদ, মামুন, আসলাম ও মুন্না।
এজাহারে বলা হয়, পূর্ব-শত্রুতার জেরে শাহরিয়া মাহমুদ নামে এক ব্যক্তির হুকুমে দেড় শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী শটগান, রিভলবার, চাপাতি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রকল্পটিতে প্রবেশ করে। এ সময় তারা প্রায় ৫০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক তৈরি করে। হামলাকারীরা প্রকল্পের প্রধান ফটক ও অফিসকক্ষ ভাঙচুর করে লকার থেকে নগদ ২৫ লাখ টাকা, ২৩ টন রড, বৈদ্যুতিক তার, ওয়াটার পাম্পসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে। একই ভবনে ভাড়া নেয়া সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউন ফিশ’ স্টুডিওতেও ভাঙচুর চালানো হয়। সেখান থেকে ১০০ ইঞ্চি দু’টি টিভি, সার্ভার সেটআপ, হাই-এন্ড এডিটিং কম্পিউটার, পেশাদার ক্যামেরা ও লেন্স, ম্যাকবুক, প্লে-স্টেশনসহ বিপুল পরিমাণ লাইটিং ও সাউন্ড সরঞ্জাম লুট করা হয়। এছাড়া এসব জিনিসপত্রের যে অর্থমূল্য মূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
