ন্যাম ভবন থেকে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দুই দফায় আটদিনের রিমান্ড শেষে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে আটদিনের রিমান্ডে গাজী নজরুল অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। বলেছেন, ‘অনেক সময় মরিয়মকে ন্যাম ভবনের বারান্দাতেও ঘুমাতে হতো’।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম। এর আগে গতকাল দ্বিতীয় দফায় চারদিনের রিমান্ড শেষে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি তেজগাঁও জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক (নি.) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, গাজী নজরুল ইসলাম রিমান্ডে বলেছেন মামলার বাদী (মরিয়মের বাবা) তার আত্মীয় এবং সম্পর্কে ভাগ্নে। মরিয়ম সম্পর্কে আসামির নাতনি। নজরুল ইসলাম ঢাকায় এলেই বাদীর বাসায় রাত্রিযাপন করতেন এবং তার সংসদের কাজকর্ম পরিচালনা করতেন। সেই সুবাদে মরিয়মের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠে এবং নজরুল ইসলাম মরিয়মকে বিয়ে করেন। গত ১৭ই জুন নজরুল ইসলাম মরিয়মকে ধর্মীয় নিয়মে বিয়ে করেন। পরবর্তী সময়ে নিজ এলাকায় কাবিন রেজিস্ট্রি করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম ও প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলামের সঙ্গে ন্যাম ভবনেই বসবাস করতেন। মরিয়ম মাঝে মাঝে নজরুল শয়নকক্ষের পাশে বেলকনিতে ঘুমাতেন।
এ ছাড়াও জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল ইসলামের কাছ থেকে মামলার ঘটনার বিষয়ে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এ সময় আসামিপক্ষে আইনজীবী মাহবুবুল ইসলাম তার জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তিনি বলেন, আসামিকে প্রথমে রিমান্ডে নেয় থানা পুলিশ। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত কোনো সম্পৃক্ততা, এমনকি প্ররোচনার বিষয়ে কোনো প্রমাণ দাখিল করতে পারেনি। এরপর ডিবি পুলিশও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তারাও কোনো অগ্রগতিমূলক প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। কাজেই আসামি জামিন পাওয়ার যোগ্য। ওই সময়ে রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
