সিলেট মহানগর বিএনপি’র তৃণমূল সাজাতে কাজ শুরু

সিলেট মহানগর বিএনপি’র তৃণমূল সাজাতে কাজ শুরু

ফন্ট সাইজ:

সিলেট মহানগর বিএনপি’র তৃণমূল সাজাতে ফের কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নগরের নতুন ১৫ ওয়ার্ড ও ৬ থানা বিএনপি’র কার্যক্রমে স্থবিরতা ছিল। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়া সাংগঠনিক সভার নির্দেশনার আলোকে এসব ওয়ার্ড ও থানা বিএনপিকে সাজানোর পর্ব শুরু হয়েছে। 

এরই মধ্যে অক্টোবরের প্রথমার্ধেই তিন ওয়ার্ডের সম্মেলন ও কাউন্সিলের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সিলেট মহানগর বর্ধিত হওয়ার পর নতুন করে ১৫টি ওয়ার্ড ও ৬ থানায় বিএনপি’র কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল। এগুলোর মধ্যে বেশির ভাগই আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চলছে। ২-৩টি ওয়ার্ডে কোনো কমিটিই গঠন হয়নি। নানা কারণে সাংগঠনিকভাবে পিছিয়ে পড়েছিল সিলেট নগর বিএনপি। এর মধ্যে সাধারণ সম্পাদক স্বপদে বহাল থাকলে বিগত তিন বছরে তিনজন সভাপতি দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্মেলন ও কাউন্সিলের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন নাসিম হোসাইন। দীর্ঘদিন ধরে নগর বিএনপিকে সামলাচ্ছিলেন।

তবে আন্দোলনকালীন সময়ে অসুস্থতাসহ নানা কারণে তাকে সরিয়ে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে কাজ চালানো হয়েছিল। দু’মাস পূর্বে ফের স্বপদে ফিরেছেন নাসিম হোসাইন। তার দায়িত্ব নেয়ার পর বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের নেতারা সাংগঠনিক সভা করেন। ওই সভায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাকি থাকা ওয়ার্ড ও থানা বিএনপি’র পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়। আর এই নির্দেশনার আলোকে বাকি থাকা ওয়ার্ড ও থানা বিএনপি’র কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করা হয়েছে। সিলেট নগর বিএনপি’র সভাপতি নাসিম হোসাইন মানবজমিনকে জানিয়েছেন— নানা কারণে বর্ধিত এলাকার ১৫টি ওয়ার্ড ও নতুন ৬ থানায় সাংগঠনিক কার্যক্রম গোছানো যায়নি। এবার আমরা নতুন করে এসব ইউনিট সাজাতে কাজ শুরু করেছি। তিনি বলেন— পছন্দের কাউকে নেতা নির্বাচন নয়, আমরা চাচ্ছি সম্মেলন ও কাউন্সিলের মাধ্যমে ইউনিটগুলোর নেতৃত্ব বাছাই করা। এতে করে দল শক্তিশালী হয় বলে জানিয়েছেন তিনি। এদিকে- সিলেট মহানগর বিএনপি’র তরফ থেকে অক্টোবর মাসের ৭ তারিখ ৩৯ নম্বর, ১১ তারিখ ৩৭ নম্বর ও ১৩ তারিখ ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের সম্মেলন ও কাউন্সিলের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে বাকি থাকা ওয়ার্ডগুলোতে একইভাবে সম্মেলন ও কাউন্সিল করা হবে বলে জানিয়েছেন নেতারা। তারা জানান— সিলেট মহানগর বিএনপি’র নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়া ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৪ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের সম্মেলন কাউন্সিল শেষ হয়েছে। বর্তমানে এ কমিটিগুলোর নির্বাচিত নেতারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ করছেন। কয়েকটি কমিটি আগামী তিন থেকে চারদিনের মধ্যে শেষ করা হবে। এ ছাড়া ৬টি ওয়ার্ডে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পাশাপাশি তাদের সম্মেলন ও কাউন্সিলের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হবে। সিলেট নগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন— টার্গেট আগামী ডিসেম্বর। এই সময়ের মধ্যে আমরা সিলেট মহানগরের বাকি থাকা ১৫টি ওয়ার্ডের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে কাজ করছি। নগরের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ৬টি থানা। ওই থানা কমিটির আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে কাজ করছে। সেগুলোও একই সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ করা হবে।

দলের নেতারা জানান— মহানগরের অধিভুক্ত হচ্ছে ৬টি থানা। এগুলো হচ্ছে কোতোয়ালি, জালালাবাদ, এয়ারপোর্ট, দক্ষিণ সুরমা, শাহপরান ও কোতোয়ালি। প্রায় দেড় বছর আগে থানা কমিটির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটি এখনো পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু করেনি। ফলে সম্মেলন ও কাউন্সিল হয়ে গেলে নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে ৬ থানায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম চাঙ্গা করা হবে। এদিকে ২০২৩ সালের ১০ই মার্চ সম্মেলন ও কাউন্সিলে ভোটের মাধ্যমে সিলেট মহানগর বিএনপি’র কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৪ঠা নভেম্বর কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়। এখনো মেয়াদ আছে নগর কমিটির। তবে আগামী সিটি করপোরেশনের আগে দলকে ঢেলে সাজানোর তাগিদ এসেছে তৃণমূল থেকে। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন— মহানগর কমিটিকে গোছানোর জন্য বর্তমানে বাকি থাকা ওয়ার্ড ও থানা কমিটির সম্মেলন ও কাউন্সিলর করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এগুলো শেষ হলে মহানগরের সম্মেলন ও কাউন্সিলের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হবে।