নাগোয়ার আকাশ যেন কিছুতেই হাসছে না। সকাল থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে তার দাপটও। শেষ পর্যন্ত যা হওয়ার আশঙ্কা ছিল, সেটিই হয়েছে। মাঠে বল গড়ানোর আগেই বাতিল হয়েছে ভারত-আফগানিস্তান ম্যাচ। কোয়ার্টার ফাইনাল বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ায় আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে ভারত। একইভাবে বৃষ্টির সুবিধা নিয়ে সেমিফাইনালে উঠে গেছে পাকিস্তানও। এবার বৃষ্টির চোখ রাঙানি বাংলাদেশের ম্যাচেও। আজ দুপুরে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠে নামার কথা লিটন কুমার দাসদের।
তার আগে নেপালের মুখোমুখি হওয়ার কথা শ্রীলঙ্কার। কিন্তু নাগোয়ার আকাশের যে অবস্থা, তাতে দুটি ম্যাচই মাঠে গড়াবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে যথেষ্ট সংশয়। ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবিধা পাবে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ। অর্থাৎ বৃষ্টি তখন প্রতিপক্ষের বদলে হয়ে উঠবে তাদের সঙ্গী। গতকালও দুটি কোয়ার্টার ফাইনাল হওয়ার কথা ছিল নিশিন সিটির করোগি স্পোর্টস পার্কে। পার্কটি গড়ে উঠেছে ওনতাকে পাহাড়ের পাদদেশে। এ অঞ্চলেও তিনদিন ধরেই ঝরছে অবিরাম বৃষ্টি। কেবল করোগি নয়, পুরো নাগোয়ার আকাশই কাঁদছে। আগের দিনের বৃষ্টিতে ঠিকঠাক অনুশীলনও করতে পারেনি বাংলাদেশ দল। কোনোরকমে নেটে ব্যাটিং আর হালকা ফিল্ডিং করেই হোটেলের গাড়ি ধরতে হয়েছিল লিটন-শান্তদের। কোয়ার্টার ফাইনালের আগের দিন আজ কোরোগি ফুটবল মাঠে অনুশীলনের কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু সেখানেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বৃষ্টি। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির মধ্যেই ফুটবল খেলে সময় কাটিয়েছেন ক্রিকেটাররা। মাঠে ক্রিকেট অনুশীলনের সুযোগ না মিললেও মানসিক প্রস্তুতিতে ঘাটতি রাখতে চাইছে না দল। বৃষ্টির কারণে ম্যাচ না হলে কিছু করার নেই— বাস্তবতাটা মেনে নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন কুমার দাসও। তিনি বলেন, ‘দেখেন, আমরা খেলার জন্য রেডি আছি। কিন্তু বৃষ্টির ওপর কারও হাত নেই। এখানে আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তৈরি আছি।’ বৃষ্টিতে আজ বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ম্যাচ ভেসে গেলে সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হবে পাকিস্তান। বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নামার আগে ম্যাচ অনুশীলনের ঘাটতি কোনো সমস্যা হবে কি না— এমন প্রশ্নে লিটনের জবাব, ‘আমরা এখানকার কন্ডিশনের কথা জানি। এসব আগে চিন্তা করেই দেশে ভালো একটা প্রস্তুতি নিয়ে এখানে এসেছি। এখানে আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তৈরি আছি।’ লিটন বলেন, ‘দেশ থেকে আসার আগেই আমরা অনেক প্র্যাকটিস করেছি এবং আমি প্লেয়ারদের একটা কথাই বলেছি যে ওখানে গিয়ে অপরচুনিটি নাও থাকতে পারে। সো মেন্টালি ওভাবে প্রিপারেশন নেয়ার জন্য যদি রেইন থাকে বা কারণ এই কান্ট্রিটা খুব একটা ফ্যামিলিয়ার না ক্রিকেটের জন্য। তারা ফ্যাসিলিটি ওভাবে প্রোভাইড করতে পারবে কি না এটাও একটা ডাউটফুল ছিলাম। সো মনে হয় প্লেয়াররা ওখান থেকেই প্রিপারেশন নিয়েছে এবং মনে হয় তারা খেলার জন্য রেডি। এই কন্ডিশনে কী ধরনের সেটআপ নিয়ে নামার ইচ্ছা? লিটন বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় উইকেটটা বোলারদের জন্য ফেভারেবল। চেষ্টা করবো যে আমাদের টিমের যে বেস্ট বোলারগুলো আছে তারা খেলবে এবং ওভারঅল যে টিম কম্বিনেশন থাকে, ৫ বোলার ৬ ব্যাটসম্যান।’
এবারের এশিয়ান গেমসে ২২ ডিসিপ্লিনে অংশ নিয়ে এখন পর্যন্ত একটি মাত্র মেডেল পেয়েছে বাংলাদেশ। কোয়ার্টার ফাইনালে বাই পেয়ে ব্রোঞ্জটি জেতেন জিন্নাত আক্তার। চরমভাবে হতাশ করেছে নারী ক্রিকেট দল। সেটা পুরুষ দলের ওপর চাপ হবে কিনা জানতে চাইলে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আসলে এসব নিয়ে এখনই ভাবতে চাই না। আগে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করি। তারপর মেডেলের কথা ভাবা যাবে। তবে এখানে আমরা মেডেল জিততেই এসেছি। দেশ ছাড়ার আগে আমি একটা কথা বলেছিলাম যে আমাদের প্রথম টার্গেট হচ্ছে ফাইনালে যাওয়া। গোল্ড পাব কি না ওটা পরের বিষয়, বাট তার জন্য আগামীকালকের (মঙ্গলবার) যে ম্যাচটা আছে এটা অনেক ইম্পর্টেন্ট। আপাতত ওটার জন্য ফোকাস করছি।’ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত মুখোমুখি হয়েছে মাত্র একবার। ২০২৩ সালে চীনে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসের কোয়ার্টার ফাইনালে মালয়েশিয়াকে ২ রানে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। এবারো সেই স্মৃতি সামনে রেখেই মাঠে নামার অপেক্ষায় লিটন-শান্তরা।
