২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের পর নিজেদের প্রথম হোম ম্যাচে আজ রাতে মাঠে নামছে স্পেন। উয়েফা নেশনস লীগের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া। স্প্যানিশদের মাঠে বেশ বড় রকমের চ্যালেঞ্জ নিয়েই নামতে হবে ক্রোয়াটদের। ২০১৮ সালের পর এখনো স্পেনের বিপক্ষে জয়হীন লুকা মদরিচরা। সেভিয়ার ঐতিহাসিক রামোন সানচেজ পিজুয়ান স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে রাত পৌনে ১টায়। সবশেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী রয়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। ওয়েম্বলিতে লাল কার্ড ও পেনাল্টি মিসের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে লামিন ইয়ামালের গোলের পর বদলি হিসেবে নেমে আলেক্স বায়েনা ও মিকেল ওইয়ারজাবাল স্প্যানিশদের দুর্দান্ত জয় এনে দেয়। ২০২৩ সালের মার্চ থেকে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে অপরাজিত থাকা লা রোহারা ঘরের মাঠে ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নামছে। বিশেষ করে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ১০ বারের মুখোমুখি লড়াইয়ে ৭টিতেই জয় পাওয়া স্পেনের পাল্লা সব সময়ই ভারী।
অন্যদিকে, ক্রোয়েশিয়ার ডাগআউটে ফিরেছেন অভিজ্ঞ কোচ স্লাভেন বিলিচ। দীর্ঘ ১৪ বছর পর জাতীয় দলে ফেরা এই কোচ চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ২-১ গোলের কষ্টার্জিত জয় দিয়ে মিশন শুরু করেছেন। ৪১ বছর বয়সী লুকা মদরিচ এবং জয়সূচক গোলদাতা মারিও পাসালিচের ওপর ভরসা করছে ক্রোয়াটরা। তবে ২০১৮ সালের পর থেকে স্পেনের বিপক্ষে জয় না পাওয়ার আক্ষেপ ঘোচাতে আজ তাদের খেলতে হবে নিজেদের সেরাটা দিয়ে। জসিপ জুরানোভিচ ও মার্টিন এরলিকের মতো খেলোয়াড়দের চোট কিছুটা দুশ্চিন্তায় রাখতে পারে ক্রোয়াটদের।
চেক প্রজাতন্ত্রের মুখোমুখি হওয়ার আগে দুশ্চিন্তা ইংল্যান্ডের
স্পেনের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৩-২ গোলের হারের হতাশা কাটিয়ে ওঠার আগেই বড় চোট সংকটে পড়েছে থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। নেশনস লীগের অন্য ম্যাচে আজ চেক প্রজাতন্ত্রের মুখোমুখি হওয়ার আগে থ্রি লায়ন্স শিবিরে বড় ধাক্কা। দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ডিফেন্ডার এজরি কোনসা এবং তরুণ মিডফিল্ডার নিকো ও’রাইলি চোট শঙ্কায় রয়েছেন।
ওয়ম্বলিতে স্পেনের বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিট খেলা এই দুই তারকা সোমবার সকালে দলের মূল অনুশীলন মিস করেন। টটেনহ্যাম হটস্পারের ট্রেনিং গ্রাউন্ডে আলাদা পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় তাদের। ও’রাইলি স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে হ্যারি কেইনকে দুর্দান্ত একটি অ্যাসিস্ট করে নজর কাড়েন। তবে আজ চেক প্রজাতন্ত্রের ফোর্টুনা অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অ্যাওয়ে ম্যাচে তাদের না পাওয়ার সম্ভাবনা বেশ জোরালো।
কোচ টুখেলকে তাই বাধ্য হয়েই রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠে বিকল্প নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। ও’রাইলির পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পেতে পারেন নিউক্যাসল ইউনাইটেডের লেফট-ব্যাক লুইস হল। অন্যদিকে রক্ষণভাগে কোনসার শূন্যতা পূরণে জারার্ড ব্র্যানথওয়েট, জারেল কোয়ানসা কিংবা ট্রেভলো চালোবার ওপর ভরসা রাখতে পারেন কোচ। কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে ইংল্যান্ডের জন্য এই ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে এই অ্যাওয়ে ম্যাচের পর ক্রোয়েশিয়ার মাঠেও কঠিন লড়াইয়ে নামতে হবে হবে থ্রি লায়নদের।
